যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার, ৬:৪২ | সর্বশেষ আপডেট: ৭:০৯
অপহৃত হয়েছিলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না। অপহরণকারীরা মুখে রুমাল চেপে তাকে অপহরণ করেছিল। এরপর একটি ঘরে তাকে বন্দি করে রেখেছিল অপহরণকারীরা। আজ শুক্রবার ভোররাতে অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি বাসায় ফোন দিলে নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিলেটের হাওলদারপাড়ার হাজী ইদ্রিস আলী মার্কেটের মাহিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন মুন্না।
গত বুধবার বিকেলে তিনি দোকানের মালামাল কিনতে নগরীর বন্দরবাজারের কাস্টঘরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। বিকেল ৩ টায় মদিনা মার্কেটের লতিফ মঞ্জিলের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। গতকাল জ্ঞান ফেরার পর মুন্না স্বজনদের জানিয়েছেন- ইদ্রিস আলী মার্কেটের সামনে থেকে তাকে দুই যুবক ফলো করছিলো। এ সময় তার সঙ্গে টাকা ছিল। তিনি এ সময় টাকা ও মোবাইল ফোন তার মামার দোকানে রেখে দিয়ে লতিফ মঞ্জিলের সামনে আসেন। এ সময় দুই যুবক তার সঙ্গে অযথা টাকা পাবে বলে ঝগড়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা মুন্নার নাকে ঘুষি মারে এবং রুমাল চেপে ধরে। এতে মুন্না অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে সিএনজি অটোরিক্সা করে দক্ষিণ সুরমা নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে প্রথমে মুন্নাকে রাখা হয়। ওই সময় যুবকরা তাকে বলে- ‘তোর সঙ্গে টাকা ছিল, টাকা কোথায়।’ এ সময় মুন্না বলেন- ‘টাকা লাগলে পাবেন, আমাকে মারবেন না।’ এদিকে- রাতে রুমাল দিয়ে ফের অজ্ঞান করা হয় মুন্নাকে। ওখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কঠালপুরের একটি নির্জন স্থানে। সেখানে একটি ঘরে তাকে বন্দি রাখা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জ্ঞান ফিরে মুন্নার। এ সময় তাকে ওই যুবক কলা ও ব্রেড খেতে দেয়। মুন্না কলা ও ব্রেড খান। এরপর তাকে ওই বাসায় রেখে এক যুবক বেরিয়ে যায়। অপর যুবক বাথরুমে গেলে মুন্না কৌশলে দরোজা খুলে বেরিয়ে পড়েন। দৌড়ে চলে আসেন সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে কদমতলীতে এসে পরিবারের লোকজনকে ফোন দিলে তারা গিয়ে মুন্নাকে নিয়ে আসেন। এদিকে- পরিবারের স্বজনরা কদমতলীতে পৌছা মাত্র মুন্না ফের অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মুন্নার পিতা ছমির উদ্দিন বিকেলে জানিয়েছেন- সকালের দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুন্নার জ্ঞান ফিরলে সে অপহরণের কথা সবাইকে জানায়। এবং টাকার জন্য তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি। এদিকে- বিকেলে মুন্নার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দরগাহ গেইটস্থ নুরজাহান ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। মুন্নার স্ত্রী ফাহিমা বেগম জানিয়েছেন- ছটি থাকায় ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসক পাচ্ছিলাম না। বিকেলে মুন্নার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারনে তাকে দ্রুত নুরজাহান ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়েছে। ওখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন- মুন্না উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। সে অপহৃত হয়ে থাকলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

জনগণ সতর্ক নজর রাখছে

ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার লক্ষণ

কেরানীগঞ্জে প্রকৌশলী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়

১৩ ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ, অবরুদ্ধ অবস্থার সমাপ্তি

সৌদির সঙ্গে হজ চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন

সঙ্ঘকে ধরে দিল্লির কাছে পৌঁছতে চাইছেন খালেদা

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সেবা বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে পর্যটকরা

‘এটি অন্যরকম অনুভূতি’

অচলাবস্থা নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পা রাখলেন ট্রাম্প

ন্যাম ভবন থেকে এমপি পুত্রের লাশ উদ্ধার

দিল্লিতে গুদামে অগ্নিকান্ডে নিহত ১৭

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে

‘কোটার কারণে দেশের মেধাবীরা আজ বিপন্ন’

১০০০০০ অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরাতে প্রণোদনা দেবে ইইউ