৩০শে নভেম্বর বাম দলের হরতাল

ফের বেড়েছে বিদ্যুতের দাম

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৬
আবারো বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। এবার গ্রাহক শ্রেণিনির্বিশেষে প্রতি ইউনিট (প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের দাম বেড়েছে গড়ে ৩৫ পয়সা। মূল্যবৃদ্ধির এই হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। নতুন এ হার কার্যকর হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে। ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার সারা দেশে আধাবেলা হরতাল আহ্বান করেছে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো।
কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে প্রমাণ হলো বিইআরসি’র গণশুনানি ছিল অর্থহীন ও প্রহসন। গতকাল বিইআরসি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা দেয়। কমিশনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যুতের খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিদ্যুতের খুচরা দাম বাড়ালেও পাইকারি (বাল্ক) দাম বাড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের ন্যূনতম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে মোট গ্রাহকের ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ লাখ লাইফ লাইন গ্রাহকের (০ থেকে ৫০ ইউনিট) বিদ্যুৎ বিল হ্রাস পাবে। তাছাড়া, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রায় ৬০ লাখ (মোট গ্রাহকের ২৫ শতাংশ) লাইফ লাইন গ্রাহকের জন্য খুচরা বিদ্যুৎ মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে মোট গ্রাহকের ৩৮ শতাংশের বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পাবে না। সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির সদস্য মো. মিজানুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যদি কোনো গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে তাহলে তাকে মাসে ২৫ টাকা বিল দিতে হবে (ডিমান্ড চার্জ)। আগে যেটা ১০০ টাকা দিতে হতো। এছাড়াও নির্মাণকাজে বিদ্যুতের ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আর বিদ্যুতের এ দাম বাড়ানোর ফলে সরকারের ১৭শ’ কোটি টাকা আয় বাড়বে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (তার আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের বিদ্যুতের নতুন খুচরা দাম ডিসেম্বর থেকে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। তা কয়েকটি ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো- নিম্নচাপ (এলটি)ঃ ২৩০/৪০০ ভোল্ট এলাকা। নতুন বিদ্যুতের দাম আবাসিক (এ) ক্ষেত্রে: লাইফ লাইন- শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট (প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা) সাড়ে ৩ টাকা করে, প্রথম ধাপ-শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ৪ টাকা করে, দ্বিতীয় ধাপ- ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ৫ টাকা ৪৫ পয়সা করে, তৃতীয় ধাপ-২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ৫ টাকা ৭০ পয়সা করে, চতুর্থ ধাপ- ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট ৬ টাকা ২ পয়সা করে, পঞ্চম ধাপ-৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ৯ টাকা ৩০ পয়সা করে এবং ষষ্ঠ ধাপে-৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ১০ টাকা ৭০ পয়সা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সঙ্গে ২৫ টাকা ডিমান্ড চার্জ দিতে হবে। সেচ/কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্প (বি) ক্ষেত্রে: প্রতি ইউনিট ৪ টাকা করে এবং সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ ১৫ টাকা। ক্ষুদ্র শিল্পে (সি-১) ক্ষেত্রে: ফ্ল্যাট- প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ২০ পয়সা করে। অফ-পিক সময়ে ৭ টাকা ৩৭ পয়সা, পিক সময়ে ৯ টাকা ৮৪ পয়সা করে, নির্মাণে (সি-২) প্রতি ইউনিট ১২ টাকা করে, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতাল (ডি-১) প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৭৩ পয়সা করে, রাস্তার বাতি, পানির পাম্প ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন ( ডি-২) ক্যাটাগরিতে ইউনিট প্রতি ৭ টাকা ৭০ পয়সা করে। বাণিজ্যিক ও অফিস (ই) ক্যাটাগরিতে:ফ্ল্যাট- প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৩০ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৭ টাকা ২৭ পয়সা প্রতি ইউনিট এবং পিক সময়ে ১২ টাকা ৩৬ পয়সা করে। অস্থায়ী (টি) ক্যাটাগরিতে প্রতি ইউনিট ১৬ টাকা করে এবং ডিমান্ড চার্জ ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে মধ্যমচাপ (এমটি)ঃ ১১ কেভি, উচ্চচাপ (এইচটি)ঃ ৩৩ কেভি এবং অতি উচ্চচাপ (ইএইচটি)ঃ ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভির ক্ষেত্রে শ্রেণিভেদে বিদ্যুতের খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিদ্যুতের দাম গড়ে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়িয়েছিল সরকার। তাতে মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের খরচ বাড়ে ২০ টাকা; ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে খরচ বাড়ে কমপক্ষে ৩০ টাকা। চলতি বছর মার্চে বিভিন্ন খাতে গ?্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার পর বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের কথা বলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এরপর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত সেপ্টেম্বরে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে শুনানির আয়োজন করে। সেখানে পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে ডিপিডিসি গ্রাহকপর্যায়ে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ, ডেসকো ৬ দশমিক ৩৪, ওজোপাডিকো ১০ দশমিক ৩৬, আরইবি ১০ দশমিক ৭৫ এবং পিডিবি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭২ পয়সা (প্রায় ১৫ শতাংশ) বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। বিইআরসি আইন, ২০০৩ অনুযায়ী গণশুনানির পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিইআরসি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। এর আগে ২০১০ সালের ১লা মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে পাঁচবার এবং খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত আটবার খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো। অনুষ্ঠানে সদস্য আব্দুল আজিজ খান, রহমান মুরশেদ, মাহমুদুল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
বাম দলগুলোর হরতাল: আবারো খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০শে নভেম্বর বৃহস্পতিবার আধাবেলা হরতাল পালন করেছে দেশের বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল বিকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক চন্দন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০শে নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল আহ্বান করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো। এদিকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বামদলগুলোর ডাকা হরতালে সমর্থন দিয়েছে নাগরিক ঐক্য। গতকাল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সমর্থন দেন। মান্না বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
ক্যাবের প্রতিক্রিয়া: গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ানোর কঠোর সমালোচনা করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি বলছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে প্রমাণ হল গণশুনানি অর্থহীন। এবারও শুনানিতে বিতরণ সংস্থাগুলোর দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয় ভোক্তাদের পক্ষ থেকে। ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগও নেয়া হয় ক্যাব’র পক্ষ থেকে। দেয়া হয় দাম কমানোর একটি প্রস্তাব। তা নিয়েও শুনানি হয়। বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, এবারও দাম বৃদ্ধির যুক্তি হিসেবে তারা বললো-সবকিছুরই দাম বাড়ে তেমনি বিদ্যুতেরও দাম বাড়ানো হয়েছে। আর গণশুনানি অকার্যকার ও অর্থহীন প্রতীয়মান হলো, গণশুনানি এক ধরনের প্রহসন। শামসুল আলম গণশুনানির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাদের বহুভাবে ভাগ করে দেখানো হয়েছে যে, এই খাতে ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তারপরও বলেননি মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক, আমরা এটা গ্রহণ করব না।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Nazmulalam

২০১৭-১১-২৩ ২১:২৭:০৫

বিদ্যুতের অারো কমাতে হবে মনিটরিং করতে হবে

আপনার মতামত দিন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

বিছানায় তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেসুতের বড়ছেলের মৃতদেহ

গোয়া: যৌন ব্যবসায়ও আধার কার্ড

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

‘জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা অবশ্যই বাতিল করতে হবে’

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ