সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ বিজেপি প্রধান

মন্ত্রী-এমপিরা আমাদের সঙ্গে আছেন

শেষের পাতা

সিরাজুস সালেকিন | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৬
 গত সপ্তাহে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি রয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মিঠুন চৌধুরী। এছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে কৌশলগত কারণে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মিঠুন চৌধুরী এসব কথা জানান। ৫০টি দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আরো অনেকে যোগাযোগ করছে বলে জানান বাংলাদেশের বিজেপি প্রধান। তিনি বলেন, বতর্মান ও সাবেক মন্ত্রী এমপি থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের নাগরিক আমাদের সঙ্গে আছেন এবং তারা থাকবেন।
এখানে এমপি আছেন, মন্ত্রীও আছেন। বর্তমান সরকারের অনেকে দলে থাকবেন বলে কথা হয়েছে। শুধু তাই না সেনাবাহিনীর অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমলা সঙ্গে আছেন। এটাই হবে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহৎ শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। এখন নাম প্রকাশে অসুবিধা আছে। নির্বাচনের আগে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে সব জানানো হবে। বড় দলগুলোর সঙ্গে বিজেপি জোট করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের দলটিই হবে বৃহৎ রাজনৈতিক জোট। আমাদের প্রত্যাশা আমরাই সরকার গঠন করব। এই মুহূর্তে বড় দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোট করছি না। তবে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা যোগাযোগ করছেন। আলোচনা চলছে। কিন্তু এখন আমরা কোনো জোট করছি না। বাংলাদেশে শাখা খুলতে ভারতের বিজেপির কোনো অনুমোদন নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ভারতের বিজেপির শাখা না। কংগ্রেস পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এটা কোনো শাখা না। এটি একটি স্বতন্ত্র দল। এখানে ওই নামে দল করতে ভারতের বিজেপির কোনো অনুমোদন লাগে না। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার। তিনি আরো বলেন, ভারত সরকার শুধু সংখ্যালঘু না, বাংলাদেশের জনগণকে সুন্দরভাবে দেখতে চায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে ৩৯ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে চলে এসেছি। এটা একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই শোভনীয় নয়। ভারত সরকারের প্রত্যাশা হচ্ছে এদেশে মাইনরিটি সম্প্রদায় থাকবে, সম্মানের সঙ্গে থাকবে, ভালোভাবে থাকবে। এদেশের বাংলাদেশ সরকার যেন মাইনরিটি সহযোগী সরকার হয়, সুবান্ধব সরকার হয় সেটাই তাদের প্রত্যাশা। বিজেপির লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিঠুন চৌধুরী বলেন, আমরা বাংলাদেশ যখন স্বাধীন করেছিলাম তখন স্বাধীনতার স্লোগান ছিল ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’। কিন্তু বর্তমানে আমরা ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ শব্দটাই শুনি। আস্তে আস্তে এটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ১৭ কোটি মানুষের জন্য যাতে বাংলাদেশ হয়, নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের জন্য যাতে বাংলাদেশ হয় সেই স্লোগানে বিজেপির জন্ম। বিজেপি কোনো ধর্মভিত্তিক দল না। মুসলমান অনেকে আছেন দলে। বিজেপি নাম দেয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে ৫০টির মতো দল আছে। আপামর জনতার দল হওয়ায় এর নাম বাংলাদেশ জনতা পার্টি রাখা হয়েছে। আর ভারতের বিজেপির লোগোর থেকে এর পার্থক্য রয়েছে। ভারতের বিজেপির লোগো পদ্মফুল। কিন্তু বাংলাদেশের বিজেপির লোগোর নিচে দুটো হাত আছে। এই হাত দিয়ে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে যেন আমরা শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি নামে প্রথম আমরা আত্মপ্রকাশ করি। গত ২০শে সেপ্টেম্বর আমরা বাংলাদেশ জনতা পার্টি করেছি ৫০টি দলের সমন্বয়ে। ৬৪টি জেলায় জেলা কমিটি হয়ে গেছে। ৪৯০টি উপজেলায় কমিটি সম্পন্ন প্রায়। এখন ইউনিয়ন ও গ্রামে গ্রামে অতি গোপনে কাজগুলো করে যাচ্ছি। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গণসংযোগ হচ্ছে, কমিটি হচ্ছে। কিন্তু আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ। তাই এই মুহূর্তে কৌশল অবলম্বন করায় ঘোষণা দিচ্ছি না। নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি। নতুন দল ঘোষণার পর সরকার বা কোনো মহল থেকে চাপ এসেছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিজেপি প্রধান বলেন, আমার নামে ৩২টি মিথ্যা মামলা রয়েছে এ পর্যন্ত। এর আগে মিছিল মিটিংয়ে বাধা দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলে বাধা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তারা কথা বলেছে।
২০১৪ সালে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি গঠিত হয়। এদের উদ্যোগে আরো কিছু সংগঠন নিয়ে গত ২০শে সেপ্টেম্বর বিজেপি আত্মপ্রকাশ করে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ছাড়াও এই দলে আছে মুক্তির আহ্বান, বাংলাদেশ সচেতন সংঘ, জাগো হিন্দু পরিষদ, আনন্দ আশ্রম, হিন্দু লীগ, সনাতন আর্য সংঘ, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট  ফেডারেশন, বাংলাদেশ ঋষি সমপ্রদায়, বাংলাদেশ মাইনরিটি ফ্রন্ট, হিউম্যান রাইটস, হিন্দু ঐক্য জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পল্টনের ১০৬ কালভার্ট রোডে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

বিদ্যুৎ কুমার ঘোষ

২০১৭-০৯-২৫ ০০:৫৫:৪৯

নতুন দল,নতুন আশা, সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলায় ভরে উঠুক আমাদের এই বাংলাদেশ।"বিজেপি "হোক নির্যাতিত মানুষের আশ্রয়স্হল।

রবি

২০১৭-০৯-২৪ ২২:০০:০৯

এইসব ফালতু, ভূইফোড়দের এমন দাম্ভিক ভাড়ামো ভরা গালগপ্প শোনানোর কী প্রয়োজন পড়ল **** বুঝলাম না।

Md Amin chowdhury

২০১৭-০৯-২৪ ১২:১৭:৪১

দেখা যাক কি হয়। আগে বাড়ুন। সুযোগ হাতছাড়া করা বোকামি ।

Nayan

২০১৭-০৯-২৪ ১১:৩১:৩৮

Ami unake cini uni age anjiote kaj korten, humland insurens a unar onek itihas ace. Hayre bangladesh aro koto kisu dekbo

আপনার মতামত দিন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

বিছানায় তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেসুতের বড়ছেলের মৃতদেহ

গোয়া: যৌন ব্যবসায়ও আধার কার্ড

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

‘জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা অবশ্যই বাতিল করতে হবে’

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ