নি র্বা চ নী হা ল চা ল, পাবনা ৩

মনোনয়ন দৌড়ে ২৩ নেতা

শেষের পাতা

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা থেকে | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৫
 ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলা নিয়ে পাবনা-৩ আসন। আগামী নির্বাচনে এ আসনে লড়তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নবীন-প্রবীণ মিলে ২৩  নেতা তৎপর। ভোটযুদ্ধে নামতে সবাই চাইছেন দলীয় প্রতীক। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর ছবি সংবলিত পোস্টার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। গণসংযোগের পাশাপাশি মনোনয়ন পেতে তারা  যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। আওয়ামী লীগ চাইছে আসনটি ধরে রাখতে আর বিএনপি চায় তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারের।
নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে আসনটিতে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।
পাবনা-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের অধিক। পাবনা ৫টি আসনের মধ্যে এই আসনেই সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রচারণা চলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রায় দুই ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে পরিচিতি ও কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সব থেকে বেশি এগিয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা বিভিন্ন এলাকা ও গ্রাম-গঞ্জে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন।
১৯৯১ সালে বিএনপি’র বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম আওয়ামী লীগের ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে  প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজি উদ্দিন খান নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। সে সময় বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন কেএম আনোয়ারুল ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি’র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম জয়ী হন। সেবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন মকবুল হোসেন। ২০০৮ সালে জয়ের মুখ দেখে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া মকবুল হোসেন। এ সময় বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন সাইফুল আযম। ২০১৪ সালেও জয়ী হয় মকবুল হোসেন। তবে বিএনপি জোটের বর্জন করা ওই নির্বাচনে ভোট নিয়ে প্রতিপক্ষের ছিল নানা অভিযোগ।
বর্তমান এমপি মকবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ তিনি কর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। গত পৌরসভা নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের বাদ নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছে। এছাড়া এ আসনের অন্য উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এছাড়া নানা কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। ফলে তার বিরোধী ও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। একাধিক নেতা মনোনয়নের ব্যাপারে উপর মহল থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন বলে দাবি করছেন।
এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হতে জোর প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আলিম, চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, পাবনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট শাহ্‌ আলম,  ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক ভিপি আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আশরাফুল কবীর এবং বিএমএ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. গোলজার হোসেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে দৌড়ে বেড়ালেও বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিকূল রাজনৈতিক অবস্থায় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় করছেন। হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ থাকলেও নানা হয়রানিতে মাঠে প্রচার চালাতে পারছে না বলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অভিযোগ। তবে বিএনপি’র তালিকাতেও আছে প্রায় অর্ধডজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী হতে কেন্দ্রে তদবির চালাচ্ছেন এমন নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম। এছাড়া প্রার্থী হতে চান রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বয়েন উদ্দীন মিয়া। এ ছাড়া ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল মনোনয়োনের জন্য ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস পাবনা বারের সাবেক সম্পাদক এডভোকেট মাসুদ খোন্দকার মনোনয়োনের জন্য কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। পেশায় এডভোকেট মামুদ দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। আইন পেশায় জড়িত থাকার সুবাদে নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়ে চলছেন।
চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো বলেন, নানা কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। আমি শোডাউনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের জন্য গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করছি।  মনোনয়ন প্রত্যাশা করি, তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার জন্যই কাজ করবো।
বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি, এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়। ভোটের অধিকার চায়। নিরপেক্ষ ভোট হলে এ আসনে এবার বিএনপি প্রার্থী জয়ী হবে ইনশাআল্লাহ্‌। এখানে দলের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। মনোনয়ন প্রত্যাশার মতো অনেক যোগ্য নেতাই আছে। দল তৃণমূলের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেবে বলে আমি মনে করি।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

বিছানায় তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেসুতের বড়ছেলের মৃতদেহ

গোয়া: যৌন ব্যবসায়ও আধার কার্ড

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

‘জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা অবশ্যই বাতিল করতে হবে’

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ