ট্রাকচালক থেকে সপরিবারে ইয়াবা ব্যবসায়ী

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫০
মো. আবদুল আজিজ। পেশায় ট্রাকচালক। এই কাজের সুবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে তার। পরিচয় হয় ইয়াবা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে। সেই সুবাদে জড়িয়ে পড়েন ইয়াবা ব্যবসায়। অবৈধ এ ব্যবসায় প্রচুর লাভ হওয়ায় রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশা পেয়ে বসে তাকে।
স্ত্রী নিলুফার ওরফে রিনা আক্তার (৫০), তাদের বড় ছেলে মো. সুমন ও ছোট ছেলে মো. রতন (২৩) কেও নিয়োজিত করেন একই কাজে। তাদের মাধ্যমেই ঢাকা, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা ডেলিভারী দিতে থাকে আবদুল আজিজ। এই ইয়াবা চোরাচালানে তাদের কৌশলও ছিল অভিনব। প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে ইয়াবার চালান ভুয়া নামে গ্রাহকের এলাকায় কুরিয়ার করে নিজেরাই পৌঁছিয়ে দিত সেখানে। পরে গ্রাহককে বুঝিয়ে দিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে চলে যেত। দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবেই কৌশলে ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিল। গত শনিবার রাতে একই কৌশলে ইয়াবার চালান বিলি করতে গিয়ে র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছে তারা। ইয়াবা ব্যবসায়ী মা-বাবা, দুই ভাই ছাড়াও গ্রেপ্তার হয়েছে এ চক্রের আরো দুই সদস্য। এদের একজন রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন (আবাসিক) এর ম্যানেজার এনামুল হক নয়ন ও অপরজন সারোয়ার কামাল।
র‌্যাব সূত্র জানায়, তাদের কাছে চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে ইয়াবার বড় চালান আসার তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে অবস্থান নিই। কিন্তু দু’টি চালান নিয়ে ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে কৌশলে কেটে পড়ে। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি, তারা এই চালান নিয়ে পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অবস্থান করছে। শনিবার বিকালে ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে পাঁচ জন ও হোটেল ম্যানেজারকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা বিক্রির অ্যাডভান্স ২ লাখ ৬ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর কুরিয়ার থেকে ইয়াবার আরেকটি চালান তাদের মাধ্যমে ডেলিভারি গ্রহণ করিয়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে র‌্যাব।
র‌্যাব জানায়, অভিনব কায়দায় তারা মাদকের চালান চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে বিক্রি করে। চট্টগ্রাম থেকে তারা দুটি প্যাকেটের একটিতে কাপড় ও অন্যটিতে ইয়াবা রেখে দু’টোতেই কাপড় আছে বলে ঢাকায় কুরিয়ার করে। তারপর তারা সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা রওনা হয়। ঢাকায় এসে হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে চালানের ডেলিভারি গ্রহণ করে। আর এই চালান পাঠানো হয় হোটেল ম্যানেজারের নামে। তার সহযোগিতায় হোটেলে অবস্থান করে ইয়াবা চালান নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আবার চট্টগ্রামে ফিরে যায় তারা।    
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা চোরাচালানের কথা স্বীকার করেছে বলে র‌্যাব জানায়। গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন (আবাসিক) এর ম্যানেজার এনামুল হক নয়নের সহায়তায় মো. সারোয়ার কামাল ওই হোটেলে আবদুল আজিজকে ইয়াবার একটি চালান প্রদান করে। এর আগে ইয়াবার টাকা পরিশোধ করার জন্য   আবদুল আজিজ তার স্ত্রী নীলুফার ওরফে রীনা এবং দুই ছেলে সুমন ও রতনসহ হোটেলে আসে। ইয়াবার উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত সারোয়ার কামাল জানায়, জনৈক বার্মিজ নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করে। সে মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন কসমটিক্স, শাড়ি-কাপড় ইত্যাদি আমদানির আড়ালে ইয়াবা আমদানি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ইয়াবা বিপণন করে। তারই এজেন্ট হিসাবে সারোয়ার কামাল নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে ইয়াবার একটি চালান কাপড়ের গাঁটের মধ্যে প্রসেসিং করে ভুয়া ব্যক্তির নামে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের উত্তরা শাখায় পাঠিয়ে বাসযোগে ঢাকায় আসে। এ চালানটি ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকাকালে র‌্যাব সদস্যরা আটককৃতদের নিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ওই শাখায় গিয়ে ৭ হাজার ৮৯০ পিস ইয়াবা রিসিভ করিয়ে জব্দ করে। সারোয়ার কামাল আরো স্বীকার করে, চট্টগ্রাম থেকে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ৬ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান শনিবার রাত ৯টার দিকে গাজিপুর থেকে ডেলিভারি করে মো. আজিজের কাছে হস্তান্তর করে। ইতিপূর্বে একই কৌশলে তারা বেশ কয়েকটি ইয়াবা চালান করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল আজিজ জানিয়েছে, সে একজন পেশাদার ট্রাকচালক। পেশাগত কাজের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পরিচয়ের সুবাদে রাতারাতি বড়লোক হবার নেশায় নিষিদ্ধ এ ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রচুর লাভ হওয়ায় পরবর্তীতে সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের একই কাজে নিয়োজিত করে। ঢাকা, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দিয়ে ইয়াবা ডেলিভারি দিতো। তার সন্তান সুমন ও রতন  অতি লাভের নেশায় এই ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়ে। তারা সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছে বলে স্বীকার করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

বিছানায় তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেসুতের বড়ছেলের মৃতদেহ

গোয়া: যৌন ব্যবসায়ও আধার কার্ড

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

‘জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা অবশ্যই বাতিল করতে হবে’

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ