রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিএনপির তিন প্রস্তাব

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, রবিবার, ৮:০৯
রাখাইন থেকে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সেফ জোন’ প্রস্তাবকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবটি স্পষ্ট নয় দাবি করে তা প্রত্যাখ্যানও করেছে দলটি। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনটি প্রস্তাবও তুলে ধরে বিএনপি। প্রস্তাবগুলো হচ্ছেÑ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ফিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত ‘মিয়ানমারে গণহত্যা ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। বিএনপি আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ দেশি-বিদেশি কূটনৈতিক এবং  বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা দুঃখজনক। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। এজন্য জাতীয় ঐক্যের দরকার। বিএনপি এই বিষয়ে অভিজ্ঞ। কারণ ৭৮ সালে জিয়াউর রহমান ও ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার সময়েও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। তখন তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই দায়বদ্ধতা থেকে বিএনপি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দিয়ে ক্ষমতাসীনরা দলীয় রাজনীতি করতে চাইছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, তারা মিয়ানমারে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদ গুরুত্ব দিয়ে এখনও রেজুলেশন নিতে পারেনি। আশা করি, তারা এমন পদক্ষেপ নেবে যাতে মানবিক বিপর্যয় সমাধান হয়। সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে গণহত্যা চালাচ্ছে। পুরো বিশ্ব সোচ্চার হলেও বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছে। আজকের সেমিনারের মূল বিষয় হচ্ছে জনসমর্থন তৈরি করা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ১৯৭৮, ৯৩ ও ২০০৫ সালেও এই সংকট দেখেছি। আন্তর্জাতিক চাপ দিয়ে বার্মিজ সরকারকে বোঝাতে হবে রোহিঙ্গারা যতই ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা হোক না কেন তাদের নির্মূল করা যাবে না। এটা করা গেলে অনেকাংশে সংকট কমে যাবে। সেফ জোনের কথা বলে ছাড় দিলে চলবে না। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই ধরনের জাতীয় ইস্যুতে সরকার জাতীয় ও বিশ্বকে একত্রিত করে। কিন্তু আমাদের এখানে উল্টো। সরকারকে একত্রিত করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এখন কোন অবস্থানে আছে সেটিই পরিষ্কার নয়। লোক দেখানোর জন্য সরকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে সেফ জোন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সেফ জোন কোথাও কখনও কাজ করে না। কোন দেশেই কাজ করেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-চীন-রাশিয়ার বিতর্কিত ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই অঞ্চলের যারা বড় শক্তি তারা এক্সক্লুসিভ জাতির পক্ষে কাজ করছেন। যদি ক্ষমতাধররা এই কাজ করেন তবে ভবিষ্যতে ভয়াবহ অবস্থা হবে। এটি শুধু মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। আমার মতে, আগের চুক্তিগুলোকে ভিত্তি ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করা উচিত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান বক্তব্য দেন। গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আবদুস সালাম, নিতাই রায় চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, সাবেক রাষ্ট্রদূত ইফতেখারুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর আসিফ নজরুল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দিলারা জামান, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, কবি আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আকতার হোসেন, প্রফেসর সদরুল আমিন তাদের মন্তব্য জানান। সেমিনারে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, কুয়েত, ইরান, ফ্রান্স, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, সৌদি আরব, ডেনমার্ক, সুইডেন, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও নেদারল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকরা অংশ নেন। তবে চীন, ভারত এবং রাশিয়ার কোন প্রতিনিধি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেননি। সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, কবি আবদুল হাই শিকদার, এম আবদুল্লাহ, এস এম হাসান তালুকদারসহ অনেকেই অংশ নেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Rubo

২০১৭-০৯-২৪ ০৯:৫৫:১৬

জাতীয় ঐক্কের নামে বিএনপি সরকারের সাথে বসতে চাইছে যে সুযোগে তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়টিকে মূল হিসাবে সামনে নিয়ে আসবে। সরকার তাদেরকে সে সুযোগ দেবে বলে মনে হয় না ।

আপনার মতামত দিন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

বিছানায় তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেসুতের বড়ছেলের মৃতদেহ

গোয়া: যৌন ব্যবসায়ও আধার কার্ড

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

‘জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা অবশ্যই বাতিল করতে হবে’

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ