ইমরুলকে হাথুরুসিংহের অভয় বাণী

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
ফাইলফটো: অনুশীলনে ইমরুলকে হাথুরুসিংহের পরামর্শ
২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ইমরুল কায়েসের। এরপর ভালোমন্দেই চলছে তার ক্রিকেট জীবন। একটু খারাপ করলেই দল থেকে বাদ পড়ার সবচেয়ে বড় ভয় থাকে তার। এই ভয় নিয়ে তাকে এখনো খেলতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। দলে আসা যাওয়ার মাঝেও যখনই সুুযোগ পেয়েছেন তখনই প্রমাণ করেছেন নিজেকে। বিশেষ করে দেশের টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে সেরা জুটি। প্রতিটি ম্যাচেই তাকে মাঠে নামতে হচ্ছে নানা রকম চ্যালেঞ্জ নিয়ে। এবার তার ক্যারিয়ারে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। ওপেনিং ছেড়ে তিনে খেলা। শ্রীলঙ্কা সিরিজে তাকে নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছিলেন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে দেশেই। কিন্তু কোচের মুখ রক্ষা করতে পারেননি। যে কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাকে রাখা হবে কিনা সেই নিয়ে চলে নানা গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত ১৫ সদস্যের টেস্ট দলে ইমরুলকে রেখে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন বলেছেন, ওকে দেখা হবে এ সিরিজে। তার মানে ফের বাদ পড়ার ভয়! তাহলে খেলার আত্মবিশ্বাস পাবেন কোথায়! তবে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের প্রোটিয়া সিরিজে কোচ তার পাশে আছেন। সব চিন্তা উড়িয়ে খেলার লাইসেন্স দিয়েছেন। তাই এখন যে কোনো পজিশনে খেলতেই তিনি আত্মবিশ্বাসী।
ইমরুল বলেন, ‘কোচ বলেছেন, একজন খেলোয়াড় চারটা ইনিংস খারাপ খেলেছে বলে তো আমরা তাকে বাদ দিতে পারি না। আমাকে বলেছেন, ‘তুমি টানা দুই-তিন বছর টেস্ট ক্রিকেটে রান করেছো। সব ফরম্যাটেই রান করেছো। দুই-চারটা ইনিংস খারাপ করলেই তোমাকে বাদ দিতে পারি না। আমাকে বলেছেন, তুমি খেলে যাও। অসুবিধা নেই।’
অভিষেকের পর ১৬ টেস্টে মাত্র একটি ফিফটি ছিল তার সম্বল। এমন পারফরম্যান্সে কি দলে জায়গা থাকে? ২০১১ সালে শেষ পর্যন্ত দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। তবে এবার দলে ফিরেই ইমরুল তার প্রতি আস্থার মান রাখেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ড সিরিজে ইনজুরিতে পরে হয় বড় ধরনের ছন্দপতন। সবশেষ ১৫ ইনিংসে ফিফটি মাত্র একটি। তার ওপর কোচের এমন পরীক্ষাতে পথ যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে এসেছিলেন অনুশীলনে। তার সঙ্গী বলতে সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হক। কাকতালীয়ভাবে হলেও সত্যি এই তিনজনই এখন একই রকম চ্যালেঞ্জের মুখে।
ইমরুলকে সরিয়ে ওপেনিংয়ের চ্যালেঞ্জ সৌম্য সরকারের ঘাড়ে। মুমিনুলকে সরিয়ে ইমরুলকে তিনে এনে দল কোনো সুফল পায়নি। তবে মুমিনুল চারে ও আটে খেলে কিছুটা হলেও তার টিকে থাকার চেষ্টার নজির রেখেছেন। তিনজনই গতকাল ইনডোরে সময় কাটিয়েছে ব্যাট হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকাতে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে দল ও দেশ। এমন কন্ডিশনে চাপ নিয়ে কতটা ভালো করতে পারবেন তারা? ইমরুল নিজের বিষয়ে বলেন, ‘আমার জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। নিজেও সেটা ভালোভাবে জানি। যেহেতু শেষ সিরিজটি ভালো খেলিনি। আসলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ নয়, প্রতিটি সিরিজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমি চেষ্টা করব চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতে। চেষ্টা করব মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলতে।’
ইমরুলের উপর এবার প্রধান নির্বাচকেরও প্রত্যাশার চাপ আছে। তাকে দলে জায়গা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, অভিজ্ঞতার জন্য তাকে রাখা। কতটা কাজে লাগাতে পারবেন সেই অভিজ্ঞতা? ইমরুল বলেন, ‘আমি যেভাবে খেলছি, এভাবে খেলা অবশ্যই একটু কঠিন। আমি নিজেও জানি একটা সিরিজ খারাপ খেললে আমার জন্য পরের সিরিজ চাপের। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি সিরিজে রান করার। কখনো সফল হই, কখনো হই না। যে কয়দিন খেলব, চেষ্টা করব ভালো খেলার।’  হঠাৎ করেই নিজের এমন অবস্থার জন্য তিনি অবশ্য ইনজুরিকেই দায়ী করছেন। ইমরুল বলেন, ‘শেষ দুটি টেস্ট আমার জন্য খারাপ হয়েছে। এর আগে নিউজিল্যান্ডে ইনজুরি হয়েছে। সেটির কারণে ফেরার পর শ্রীলঙ্কায় ওভাবে পারফর্ম করতে পারিনি। সব মিলিয়ে একটু আনলাকি বলব নিজেকে। ইনজুরি না হলে যে ছন্দে যাচ্ছিলাম, সেই পারফরম্যান্স আরেকটু ভালো হতো। ইনজুরি থেকেও একটু সমস্যা হয়েছে।’

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন