অর্ধ শতাব্দীর ব্যবধানে ভারতের চাকমা ও হাজংরা নাগরিকত্ব পেলেন

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার
বারে বারে আদালতের রায় নিয়ে গড়িমসি করার পর অবশেষে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে বসবাসকারী লক্ষাধিক চাকমা ও হাজংদের ভারতীয নাগরিকত্ব দেয়া হল । আজ বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেযা হয়। এই বৈঠকে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী েেপমা খান্ডু যথারীতি নাগরিকত্ব দানের বিরোধীতা করেনে। তিনি বলেছেন, চাকমা ও হাজং জনগোষ্ঠীর লক্ষাধিক মানুষ অরুণাচল প্রদেশে রয়েছেন। তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হলে রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে যাবে এবং অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়বে। রাজ্যের মানুষ এতে খুশি হবেন না এবং অশান্তি হতে পারে বলেও মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ সরকার মানতে বাধ্য বলে জানানো হয়েছে।  তবে আপাতত চাকমাদের নাগরিকত্ব দেয়া হলেও সম্পত্তির অধিকার দেয়া হবে না বলে স্থির হয়েছে। গত সত্তরের দশকে সাবেক পূর্ব পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিরেন চাকমা ও হাজংরা। তখন সরকার তাদের শরণার্থীর মর্য়াদা দিয়ে অরুণাচলে, তখন বলা হত নেফা, শিবির করে থাকতে দিয়েছিল। এরপর অর্ধশতাব্দী কেটে গেলেও নাগরিকত্ব দেয়া তো দূরের কথা, তাদের সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হতে থাকে। রেশন থেকে শুরু সব সুযোগ সুবিধাই বন্ধ করে দেয়া হয়। অথচ অর্ধ শতাব্দী আগে যারা উদ্বাস্তু হয়ে এসেছিলেন তাদের খুব কমই এখন বেঁচে রয়েছেন। এখন যারা রয়েছেন তাদের প্রায় সবারই জন্ম এই ভারতে। স্বাভাবিক নিয়মেই এদের ভারতের নাগরিকত্ব প্রাপ্য। কিন্তু সরকার সেই স্বীকৃতি দিতে বার বার অস্বীকার করেছে। গত এক দশকে গুয়াহাটি হাইকোর্ট, দিল্লি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে নাগরিকত্ব দাবিতে একাধিক মামলা হযেছে। সব মামলাতেই আদালত চাকমা ও হাজংদের নাগরিত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এতদিন সরকার তা মানতে চাননি। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অরুণাচল প্রদেশের সরকার এই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সে আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের সেই রায়ের প্রায় দু’বছর পরে নির্দেশ রূপায়ণে উদ্যোগী হয়েছে ভারত সরকার।
১৯৬৪ সাল থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন উদ্বাস্তু শিবিরে রয়েছেন চাকমা ও হাজংরা। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এই চাকমারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিছু এসেছিলেন কাপ্তাই লেকের জন্য বাস্তুচ্যুত হয়ে। অন্যদিকে হাজংরা ময়মনসিংহ থেকে চলে এসেছিলেন ভারতে। তারা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় তারা রয়েছেন অরুণাচল প্রদেশেই। চাকমারা ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ এবং হাজংরা হিন্দু। পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং লাগোয়া মায়ানমারই তাদের আদি ভূমি। কিন্তু ধর্মবিশ্বাসের কারণে পূর্ব পাকিস্তানে চাকমা ও হাজংদের নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। রাজ্য সরকারের মতে, ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৭ সালে চাকমা ও হাজং শরণার্থীর সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার। তা এখন বেড়ে এক লক্ষ হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো বরাবরই বহিরাগত চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেয়ার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তাই বিষয়টি থমকে ছিল। কে›ন্দ্র ও রাজ্যেও ছিল ভিন্ন দলের সরকার। কিন্তু এখন কেন্দ্রে মোদীর সরকার, রাজ্যও বিজেপির হাতে। তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলবৎ করা সম্ভব হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিএনপিকে ভোট দিয়ে অশান্তি ফিরিয়ে আনবে না জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

অভিযোগ মিথ্যা এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি

আরো ব্লগার হত্যার হিটলিস্ট

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, অতঃপর...

ফের বেড়েছে বিদ্যুতের দাম

চাহিদা নেই, তবুও রাজউকের নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প

‘আনিসুল হককে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ভিত্তিহীন’

মৌলভীবাজারে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ভিডিএন চেয়ারম্যান ও এমডি

সিলেটে জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’, জল্পনা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

রোহিঙ্গা জাতি নিধনের তুমুল সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

যশোর জেলা স্পেশাল জজের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করতে বলা হলো পোপকে

অসুস্থ রাজনীতি বাংলাদেশকে গ্রাস করছে: ড. কামাল হোসেন