রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে ইরান

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
মিয়ানমারে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা প্রতিরোধে সমস্ত কূটনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে ইরান। ইরান সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ বাকের নোবাখত এক্ষেত্রে তার দেশের সর্বোচ্চ তৎপরতার প্রত্যয় ঘোষণা করলেন। তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা ফারস এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোহাম্মদ বাকের নোবাখত। তিনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান সব সময়ই বিশে^র নিরপরাধ ও নির্যাতিত মানের পক্ষে থেকেছে। ওআইসির সম্মেলনে যোগ দিতে কাজাখস্তানে যোগ দেয়ার সময়ে সেখানে অন্য দেশগুলোকে স্পর্শকাতর এ ইস্যুতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
তিনি আরো বলেন, (এ ঘটনার প্রেক্ষিতে) আমরা আমাদের সব রকম কূটনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করবো। এ সময় তিনি মিয়ানমারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে যথাযথ প্রতিক্রিয়া না দেখানোয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমালোচনা করেন। তবে তার আগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের করুণ পরিণতি ও বেদনায় নীরবতা অবলম্বনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, মানবাধিকারের ছবকদাতাদের কড়া সমালোচনা করেন ইরানের সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ সাইদ আলী খামেনীই। পাশাপাশি তিনি মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহারিক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ইসলামিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। মঙ্গলবার আয়াতুল্লাহ খামেনীই বলেন, অবশ্যই এক্ষেত্রে ধর্মীয় বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু এটা পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক বিষয়। কারণ এই সহিংসতা ঘটাচ্ছে মিয়ানমারের সরকার। এ সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন নিষ্ঠুর নারী। তিনি আবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তার এমন কর্মকা-ের মাধ্যমে তার সেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মৃত্যু ঘটেছে। এ সময় তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁরও সমালোচনা করেন। বলা হয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিব মিয়ানমারের অপরাধের বিরুদ্ধে শুধু নিন্দা জানিয়েই দায় শোধ করেছেন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীই বলেন, যারা মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেন, ইরানের ভিতরে কাউকে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে শাস্তি দিলে তারা শোরগোল করেনÑ তারা তো মিয়ানমারের এই গণহত্যা ও হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে ইসলামিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ ও ব্যবহারিক কোনো ব্যবস্থা নেয়ার ওপর জোর দেন আয়াতুল্লাহ খোমেনীই। তিনি বলেন, অবশ্যই ব্যবহারিক পদক্ষেপ বলতে সেনাবাহিনী মোতায়েনকে বোঝায় না। এটা হতে পারে মিয়ানমার সরকারের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ করা। সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে এই অপরাধের কথা তারস্বরে প্রচার করা উচিত। ফারস নিউজ আরো লিখেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা দীর্ঘদিন যাবত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমারে বৈষম্যের শিকার। তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হয় না। সরকার তাদেরকে বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখে থাকে, যদিও তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলো উপচে পড়ছে রোহিঙ্গায়। তাদের সংখ্যা দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও আসছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এই বৃষ্টির মওসুমে তাদের দাঁড়ানোর মতো জায়গা নেই। পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা বর্ণনা করেছেন রাখাইনে ভয়াবহ, লোমহর্ষক সব কাহিনী। তারা বলেছেন, ছেলেমেয়ের সামনে মাকে, তার টিনেজ মেয়েদের গণধর্ষণ করা হচ্ছে। স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। গুলি করে পাখির মতো মানুষ মারা হচ্ছে। হাত-পা কেটে ফেলা হচ্ছে। শিরñেদ করা হচ্ছে। তারপর কর্তিত মাথা নিয়ে উল্লাস করছে তারা। গ্রামের পর গ্রাম আগুনে জ¦ালিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন এগুলোকে প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে। আর এসবই করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদেরকে সমর্থন দেয়া বৌদ্ধরা। অন্যদিকে বিদেশী সাংবাদিকদের নিয়ে আক্রান্ত এলাকায় একটি পোড়া বাড়ি দেখানো হয়েছে। মোবাইলে ছবি তোলা হয়েছে অগ্নিসংযোগকারীদের। তা দেখানো হয়েছে সাংবাদিকদের। বলা হয়েছে, অগ্নিসংযোগকারী এসব মানুষ রোহিঙ্গা মুসলিম। ওই সাংবাদিকদের সঙ্গে ছিলেন বিবিসির জনাথন হেড, এপির সাংবাদিকও। তারা একটি সরকারি স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পান ওই ছবিতে দেখানো অগ্নিসংযোগকারীদের। এ সময় তারা নিশ্চিত হন এসব মানুষ রোহিঙ্গা মুসলিম নন। তারা অন্য একটি ধর্মের সদস্য। তারা হিন্দু। এ নিয়ে বিবিসি, এপি সহ সারাবিশে^র বিভিন্ন মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। ফারস নিউজ লিখেছে, যেসব মানুষ রাখাইনে এমন নৃশংসতা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসছেন তাদেরকে হাঁটতে হয় কয়েক দিন। জাতিসংঘ বলছে, তাদের বেশির ভাগই দুর্বল, রোগা, নিঃস্ব। তাদের জরুরি আশ্রয়ের প্রয়োজন।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

এখনও আসছে রোহিঙ্গারা, সমঝোতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

৯০ টাকা ছাড়ালো পিয়াজের কেজি

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মামুলি ব্যাপার

‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

চিরঘুমে লোকসংগীতের মহীরুহ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার ক্ষতি পোষাতে দরকার ১০০ কোটি টাকা

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ

দুই দলেই হেভিওয়েট প্রার্থী

দরিদ্রদের জন্য বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে

৭ই মার্চ ভাষণের স্বীকৃতিতে দেশব্যাপী শোভাযাত্রা আজ

সম্মতিপত্র প্রকাশের দাবি বিএনপির

ঘরে ঘুরে দাঁড়ালো চিটাগং

মিশরে মসজিদে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ২৩০

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি