‘গানের ক্ষেত্রে অডিওটাই আসল’

বিনোদন

মোশাররফ রুমী | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার
মঞ্চ, অডিও মাধ্যম কিংবা টেলিভিশন বা চলচ্চিত্রের গান, সর্বত্রই তার দাপুটে উপস্থিতি আলো ছড়ায় দুর্নিবার। যেন সংগীতের এক ম্যাজিশিয়ান তিনি। গান নিয়ে যাই করেন সাফল্য তাতে ছুঁয়ে যায় দারুণভাবে। তিনি কুমার বিশ্বজিৎ। দেশীয় সংগীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আজ ঢাকা তো কাল চট্টগ্রাম। এর পরদিন রাজশাহী বা যশোর কিংবা খুলনা তো তার পরদিন দেশের অন্যকোনো জেলায়। আর মাঝে মধ্যেই আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা পৃথিবীর অন্যকোনো দেশে নিজের সমৃদ্ধ সংগীত ভাণ্ডারকে সঙ্গী করে উড়াল দেন তিনি। গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে তার সংগীত জীবনের জার্নিটা। ক্লান্তি তাকে কখনও-সখনও ছুঁতে চাইলেও সেসবে পাত্তা দেয়ার সময় নেই তার। সংগীতের মহাসমুদ্রে সাঁতরেই ক্লান্তিকে জাদুর বাক্সে বন্দি করে রেখেছেন। কণ্ঠ আর গাওয়ার ধরনে যেমন, তেমন দৈহিক অবয়বেও জ্বলজ্বলে তারুণ্য তাকে ছুঁয়ে আছে নিবিড়ভাবে। সেই চিরসবুজ গান ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’ দিয়ে সংগীতের বৃহৎ আঙিনায় তার পথচলা শুরু হয়েছিল অনেক দিন আগে। এরপর শুধুই সাফল্যের গল্প। সংগীত জগতে প্রায় চার দশক ধরে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন এ শিল্পী। এই সময়ে অসংখ্য জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন। এতটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও একই উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন কুমার বিশ্বজিৎ। বর্তমানে নতুন নতুন গান নিয়ে দারুণ ব্যস্ত এ তারকা। এর বাইরেও স্টেজ শো-র নিয়মিত ব্যস্ততায় কাটছে তার সময়। দেশের বিভিন্ন স্থানে শো করছেন তিনি। স্টেজ ব্যস্ততা উপভোগও করেন কুমার বিশ্বজিৎ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে স্টেজ শো করছি, তারপরও যেন প্রতিটি শোতেই নিজেকে নতুন একজন মনে হয়। আসলে শ্রোতাদের ভালোবাসার টানেই এই উদ্যমটা পাই। আমি এদিক দিয়ে সৌভাগ্যবানও বটে। কারণ, এতটা সময় ধরে শ্রোতাদের একই রকমভাবে গান শোনানোর ভাগ্য সবার হয়তো জোটে না। এখনকার সময়টাও স্টেজ ব্যস্ততায়ই বেশি কাটছে। সেসঙ্গে সংগীতের অন্যান্য ক্ষেত্রের ব্যস্ততাতো আছেই। কুমার বিশ্বজিৎ বর্তমানে স্টেজে শো করার পাশাপাশি ব্যস্ত রয়েছেন চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা ‘সেরা কণ্ঠ’র সিক্স সিজনের প্রধান বিচারকদের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন কার্যে। গত ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এ কাজ। টানা ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা চলবে। কেমন লাগছে এবারের বিচার কার্যক্রম? কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, আমিতো রীতিমতো মুগ্ধ। কারণ যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে তারা গান শিখে, জেনে বুঝেই অংশ নিচ্ছে। সবাই ভালো গাইছে। এদের মধ্য থেকে একটি মেয়েকে পেয়েছি আমরা যে কিনা তার অসাধারণ কণ্ঠ এবং গাওয়ার ধরনে সবার থেকে এগিয়ে আছে। ক্লাস সেভেনে পড়ে মেয়েটি। দুর্দান্ত গায়। কে সে? বিশ্বজিৎ বলেন, সেটা বলা ঠিক হবে না। কারণ এতে প্রতিযেগিতার চমক নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া এ নামটি জানা হয়ে গেলে দর্শকরাও নিজেদের জাজমেন্ট দেয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবিত হবেন। ‘সেরা কণ্ঠ’-এর বিচারক হিসেবে থাকতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে চাই ফরিদুর রেজা সাগর ভাই এবং ইজাজ খান স্বপনকে এই উদ্যোগের সঙ্গে নিয়মিত থেকে গানকে সমৃদ্ধ করার জন্য। প্রসঙ্গত, ‘সেরা কণ্ঠ’র এবারের আসরে বিচারক হিসেবে আরো আছেন মিতালী মুখার্জি, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সামিনা চৌধুরী। এদিকে সোমবার ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে কুমার বিশ্বজিতের নতুন গান ‘জ্যোৎস্নার বর্ষণে’। ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে ভিডিও আকারে প্রকাশিত এ গান সম্পর্কে বিশ্বজিৎ বলেন, একটু ভিন্ন স্টাইলে করা হয়েছে এটি। আশা করি শ্রোতা-দর্শকদের ভালো লাগবে। হালে আমাদের গান বেশিমাত্রায় ভিডিওনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে গান প্রকাশের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন শিল্পীরা। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, এটা সারা পৃথিবীর গানের ক্ষেত্রেই হচ্ছে। তবে আমাদের এখানে অডিও ভালো করার চেয়ে গানের ভিডিওটা সুন্দর করার প্রবণতাটা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা উচিত না। কারণ, গানের ক্ষেত্রে অডিওটাই আসল। আগে সুন্দর কথা, যথাযথ সুর ও তালের সমন্বয়ে গভীর যত্ন নিয়ে শ্রুতিমধুর করে গানটির অডিও তৈরি করতে হবে। এরপর ভিডিও। সংগীতাঙ্গনের এ সময়টাকে কীভাবে দেখছেন প্রশ্ন করা হলে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, মাঝখানের মন্দাভাবটা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে বলে মনে হয়। তবে অনেকের মধ্যেই রাতারাতি তারকা হওয়ার চেষ্টা ক্ষতি করছে সংগীতাঙ্গনের। এর ফলে ভালো গান তেমন বের হয়ে আসছে না। গেল ঈদে আপনার একটি নাটকে অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনি তা করেননি। কারণ কি? বিশ্বজিৎ বলেন, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তা আর করা হয়ে ওঠেনি। আগামী পরিকল্পনা? এ মুহূর্তে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ২১শে সেপ্টেম্বর এক মাসের জন্য আমেরিকা যাচ্ছি।
ম্যালাদিন ধরে দেশের অনেক শিল্পীরও অনুকরণীয় কুমার বিশ্বজিৎ। একজন শিল্পী তখনই শতভাগ সফল যখন তাকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিল্পীরা অনুকরণ কিংবা অনুসরণ করতে থাকে। কুমার বিশ্বজিৎ সেই ধারারই শক্তিমান এক শিল্পী। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছেলে কুমার বিশ্বজিতের প্রচণ্ড গানপ্রীতির কারণে বাবা সাধন রঞ্জন দে-র ছেলেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছে থাকলেও বিশ্বজিৎ নিজেকে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার দিকেই এগিয়ে যান। বাবার ব্যাপক বাধার মুখে মা শোভা রানীই তাকে ভেতরে ভেতরে সাহসের যোগান দেন। সেই সাহসে পথ হেঁটেই কঠিন অধ্যবসায় গুণে আজ কুমার বিশ্বজিৎ নন্দিত এক শিল্পী। যার অসাধারণ কণ্ঠশৈলী আর আকর্ষণীয় গায়কী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও আমাদের দেশীয় গানের জন্য বয়ে নিয়ে এসেছে আকাশছোঁয়া সম্মান।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ইউএনএইচআরসি

ভিত্তিহীন খবরে তোলপাড়

মার্কেল?

ফের সীমান্তে রোহিঙ্গা স্রোত

সন্তানদের সামনেই শামিলাকে ধর্ষণ করে বার্মিজ সেনারা

মন্ত্রী-এমপিরা আমাদের সঙ্গে আছেন

মনোনয়ন দৌড়ে ২৩ নেতা

ট্রাকচালক থেকে সপরিবারে ইয়াবা ব্যবসায়ী

খুচরা বাজারেও কমেছে চালের দাম

বাড়লো আটার দাম

মালিতে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত

উল্টো পথে যাওয়া প্রতিমন্ত্রী, সচিবের গাড়িসহ ৫০ যানবাহনকে জরিমানা

উল্টো পথে গাড়ি জরিমানা গুনলেন প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিএনপির তিন প্রস্তাব

মালিতে বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত

নারায়ণগঞ্জে ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার