শিশুর হাঁপানি ও করণীয়

শরীর ও মন

| ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৪২
হাঁপানি তো বয়স্কদের রোগ, এত ছোট বয়সে এ রোগ কেন ? বাচ্চা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে তো ? আমাদের পরিবারের কারো এ রোগ নেই, তাহলে ওর কেন হলো ? নেবুলাইজেশন, ইনহেলার তো হাঁপানির শেষ চিকিৎসা। এখনই শুরু করলে পরবর্তী সময়ে কাজ করবে তো ?
হাঁপানিতে আক্রান্ত সন্তানের উদ্বিগ্ন পিতা-মাতা প্রায়ই শিশু বিষয়ক চিকিৎসকদের এ ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন। অ্যাজমা বা হাঁপানি একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট। এটি শিশুদের খুবই সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। যত ভালোভাবে এই রোগ ও এর চিকিৎসা সর্ম্পকে জানা যায়, তত ভালোভাবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অ্যাজমা কী ? অ্যাজমা শ্বাসনালির অসুখ। প্রদাহের ফলে অতিরিক্ত মিউকাস তৈরি হয় ও শ্বাসনালির মাংসপেশি সংকুচিত হয়।
এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘœ ঘটে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।
অ্যাজমার কারণ: সঠিক কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি, তবে ধুলাবালি, ভাইরাস ইনফেকশন, ঠা-া, এলার্জি, ধোঁয়া, পাখির পালক, জীব-জন্তর পশম, কিছু খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি প্রভাবক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। এছাড়া বাবা অথবা মা একজনের অ্যাজমা থাকলে শিশুর অ্যাজমা হবার আশঙ্কা ৩৩ শতাংশ।
অ্যাজমার উপসর্গ ও লক্ষণ: নিম্নের উপসর্গগুলো প্রায়ই দেখা গেলে ধরে নিতে হবে আপনার সন্তান অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়েছে। এগুলো হলো-ঘন ঘন কাশি (কিছু দিন পরপর বারে বারে কাশিতে আক্রান্ত হলে), রাতে শোবার বেলায় বা ভোরের দিকে কাশি বা শ্বাসকষ্টের আওয়াজ পাওয়া গেলে, বুকে শাঁ শাঁ শব্দ এবং শ্বাস ত্যাগের সময় বাঁশির মতো শব্দ, নিঃশ্বাস বা বুক বন্ধ ভাব।
নেবুলাইজার: অ্যাজমার চিকিৎসায় নেবুলাইজার খুবই কার্যকর। এর মাধ্যমে তরল ওষুধকে ধোঁয়ায় পরিণত করা হয়। ফলে শিশুরা খুব সহজে ওষুধ গ্রহণ করতে পারে এবং ওষুধ খুব তাড়াতাড়ি (১০মিনিট) তার কার্যক্ষমতা সম্পাদন করতে পারে। কিন্তু এটিই একমাত্র চিকিৎসা নয়।
ইনহেলার: ইনহেলার হিসেবে অনেক ওষুধ অ্যাজমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যা স্পেশাল চেম্বারের মাধ্যমে ব্যবহার করা উচিত। সাধারণত দীর্ঘকালীন ব্যবহৃত ওষুধ এই মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়।
অ্যাজমা কি ছোঁয়াচে রোগ ? অ্যাজমা ছোঁয়াচে রোগ নয়। পারিবারিক বা বংশগতভাবে অ্যাজমা হতে পারে। আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খেয়ে অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাছাড়া মার সংস্পর্শে থেকেও অ্যাজমা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
অ্যাজমার চিকিৎসা: শিশুদের অ্যাজমার চিকিৎসা সাধারণত তার অবস্থার উপর নির্ভর করে। যেমন- যে কোনো ধরনের পারসিসেন্ট অ্যাজমার জন্য, প্রতিদিন প্রদাহনাশক ওষুধের প্রয়োজন হয়। বিশ্বের উন্নত দেশে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়। এটাই অ্যাজমার রোগীর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ থাকার চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে চিকিৎসার পাশাপাশি দরকার অ্যাজমা সচেতনতা।
[লেখক: ডা. ফাতেমা সুইটি, সহকারী অধ্যাপক, চট্ট্র্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Abu jafar sadik

২০১৭-০৯-১৯ ১৮:৩০:৩৭

আপনি ঔষধের নাম দিন আমার উপকৃত হবো

আপনার মতামত দিন

গুম আর জোর করে গুম এক নয়

আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু

‘দুর্নীতি বাড়ার জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী’

রংপুর ও রাজশাহীতে শীত বাড়ছে

দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত: যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল

বরিশালে রানী এলিজাবেথের পুত্রবধূর একদিন

ইরান-সৌদি আরব বাকযুদ্ধ

বরখাস্ত তিনজন, তদন্ত কমিটি

‘শিগগিরই সুখবরটি শুনতে পাবেন’

যে রাস্তাগুলো বন্ধ থাকবে আজ

জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত

সমঝোতার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধার পাহাড়

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি