জাবি শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহার

অনলাইন

জাবি প্রতিনিধি | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার, ৯:৪৬
প্রশাসনের দায়ের করা সন্ত্রাসী ও হত্যাচেষ্টা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ৮ শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন তৃতীয় দিনের মাথায় সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করেছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষাক এসে শিক্ষার্থীদের মামলা প্রত্যাহার করার আশ^াস দেন। সম্মানজনক ভাবে মামলা প্রহারের অঙ্গিকারে শিক্ষার্থীরা তাদের টানা অনশন প্রত্যাহার করে। এদিকে সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে মৌন মিছিল করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ। তাছাড়া মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টায় একাধিক বার শিক্ষার্থী ও ভিসির সঙ্গে বৈঠক করেছে জাবি শিক্ষক সমিতি। সোমবার সকালে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সাক্ষাতের পর দুপুরে উপাচার্যেরর সাথে আলোচনায় বসেন শিক্ষক সমিতি। এ বৈঠক আশার বানি শোনাতে ব্যর্থ হওয়ায় সন্ধ্যায় আবারে উপাচার্যের সাথে বৈঠকে বসেন শিক্ষক সমিতি। এ বৈঠকের শিক্ষার্থীদের মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা  হয়। এদিকে শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নেমেছে শিক্ষকরা। সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে মৌন মিছিল করেছে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধ শত শিক্ষক। সন্ধ্যায় ৮ জন শিক্ষার্থী অনশনে অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে ৪ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শনিবার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০তম আবর্তনের পূজা বিশ্বাস, ইংরেজি বিভাগের ৪২তম আবর্তনের সর্দার জাহিদ ও একই বিভাগের ৪২তম আবর্তনের তাহমিনা জাহান তুলি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাদেরকে অনশনরত অবস্থাতেই শহীদ মিনারের পাদদেশে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বীরেন্দ্র কুমার বিশ্বাস মানবজমিনকে বলেন, অনশনকারীদের মধ্যে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। রক্তচাপ কমে গেছে। গত দুই দিন যাবৎ না খাওয়ার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে পূজা এবং জাহিদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে। তাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
গত শনিবার বেলা ২টার দিকে সর্দার জাহিদ একাই অনশনে বসেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে পূজা বিশ্বাস তার সঙ্গে যোগ দেন। রাত ১২ টায় যোগ দেন তাহমিনা জাহান তুলি। রবিবার সকাল ৮টার দিকে যোগ দেন আইন ও বিচার বিভাগের খান মুনতাসির আরমান (৪৩ তম আবর্তন) এরপর সকাল ১১ টার দিকে যোগ দেন খান মুনতাসির আরমান। রাত ১১টায় যোগ দেন ফয়সাল আহমেদ রুদ্র। এরপর গতকাল বিকেল ৩টায় একসাথে যোগ দেন বাংলা বিভাগের নাইমুল আলম মিশু (৪২ তম আবর্তন), সাংবাদিতা বিভাগের তাসনুভা তাজিন ইভা (৪৫ তম আবর্তন)। জাহিদ, পূজা, ইভাও রাতুল মামলার আসামী হলেও তুলি, আরমান, রুদ্র ও মিশু মামলার আসামি নন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে সড়ক দুর্ঘটনায় জাবির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক আবরোধকালে পুলিশ হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়। পরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসায় অবস্থান ও ভাঙচুর চালালে ২৭ মে রাতে ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও হত্যা চেষ্টার মামলা করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন