পূর্বাচল ৩০০ ফুট রাস্তার দুই পাশে লেকের কাজ চলছে জোর কদমে

এক্সক্লুসিভ

বিশেষ প্রতিনিধি | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার
পূর্বাচল ৩০০ ফুট রাস্তার উভয় পাশে (লিংক রোড) ১০০ ফুট লেক নির্মাণের কাজ চলছে জোর কদমে। ডুমনি এলাকায় এস্কেবেটর দিয়ে মাটি সরানো ও বালু দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে। গত ৮ই জুলাই লেকের কাজ উদ্বোধনের পর গত কয়েক দিনে কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। সরজমিন গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র ও পরিবেশবান্ধব করে ৩০০ ফুট রাস্তার দুই পাশের লেকটি তৈরি করা হচ্ছে। ডুমনি এলাকায় এ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রকল্পের পরামর্শক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন, সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়রিং ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার দুইশ’ ছিয়াশি কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হচ্ছে চার হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডের (ডিপিএম) মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য আমার ক্ষতিপূরণসহ জমি অধিগ্রহণ বাবদ দুই ধাপে চার হাজার তিনশ’ ৮৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঢাকা জেলা প্রশাসনকে দিয়েছি। এর মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেয়া হয়েছে এক হাজার ৭৭৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং গত ২৭শে ডিসেম্বর দেয়া হয়েছে দুই হাজার ৬০৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার ১০০ ফুট চওড়া লেক বা খাল খনন ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর সংযোগ হবে বালু নদীতে। এতে মোট জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে ৯০ দশমিক ১৫৪৯ একর। প্রকল্পের আওতায় থাকছে ৩৯ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, চারটি ইউলুপ, খালের ওপর ১৩টি সেতু, চারটি এক্সপ্রেসওয়ে ফুটওভারব্রিজ এবং পাঁচটি স্লুইচগেট। এছাড়া প্রকল্পে থাকছে একটি পাম্প হাউস, ১২টি ওয়াটার বাসস্টপ ছাড়াও ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে দু’পাশেই সাড়ে ৬ মিটার সার্ভিস সড়ক থাকবে। এরপর তিন মিটার প্রশস্ত হাঁটার রাস্তার পর ৩০ মিটার খাল থাকবে। খালের পর আবার দুই মিটার হাঁটার রাস্তা, ছয় মিটার সার্ভিস রোড থাকবে। সব শেষে থাকবে দেড় মিটার করে হাঁটার রাস্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর নিকুঞ্জ, বারিধারা, জোয়ার সাহারা, ডিওএইচএস ও ক্যান্টনমেন্টসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কুড়িল থেকে পূর্বাচল (বোয়ালিয়া) পর্যন্ত ৩০০ ফুট সড়কের দুই পাশে জলাধার (খাল) তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। এ খাল খনন ও উন্নয়নে প্রকল্পের গেজেট প্রকাশ হয় ২০১০ সালে।  এরপর প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেকটা ঝিমিয়ে পড়ে। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর একটি অংশ বড় ধরনের উন্নয়ন হবে ভেবে পরে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। কারণ উন্মুক্ত জলাধার তৈরি হলে এ অঞ্চলে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্র, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে। এছাড়া রাজধানীর একাংশের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, নয়নাভিরাম এ খালটির উন্নয়ন প্রকল্প জোয়ার সাহারার ৪২ দশমিক ৫৪৮৬ একর, ডুমনি মৌজার ২৩ দশমিক ৬৩০৯ একর, বরুয়া মৌজার ১৩ দশমিক ০২১৬ একর এবং মস্তুল মৌজার ১০ দশমিক ৩৩১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রকল্প নেয়ার কারণে নগরীর নিকুঞ্জ, বারিধারা, জোহারা সাহারা, ডিওএইচএস, ক্যান্টনমেন্ট, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, কালাচাঁদপুরসহ আশেপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ ও গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জের ক্ষমতা বাড়বে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আস্থা নেই বিএনপির

রুবির বক্তব্য আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ

মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে

সর্বশেষ আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা

হঠাৎই সব এলোমেলো

হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি

পাহাড়ে দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা

একই চিত্র জাকিরুলের বাড়িতে

মা এখনো জানেন না

ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে বিমান বাহিনী

ফের কমলো স্বর্ণের দাম

লিবিয়ার আইএস ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা, নিহত ১৭

উল্টো পথে আবার ধরা সচিবের গাড়ি

ফের কমলো স্বর্ণের দাম

ছাত্রের হাতে শিক্ষক জখম

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ ভাগ নারী ও শিশু: কেয়ার