পর্ব-২

ইনবক্সে ফাঁদ

ফেসবুক ডায়েরি

ছানোয়ার হোসেন | ১৬ জুলাই ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০০
(ক)
এক বন্ধু ‘ও’ পজিটিভ রক্তের জন্য অনুরোধ পাঠিয়ে ইনবক্সে একটা টেক্সট করলো
যদি রক্ত পাওয়া যায় তবে মেসেজে উল্লেখিত তিনটি নাম্বারে ফোন করে জানাতে বললো। নাম্বারগুলো যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সিরিয়ার।
বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম,
-রোগী কোন্‌ দেশের?
-জানি না
-তোমাকে মেসেজটা কে পাঠিয়েছে?
-কোনো এক ফেসবুক ফ্রেন্ড
-নাম্বার তিনটা কোন্‌ দেশের একটু দেখেছো?
-না তো। কোন্‌ দেশের?
 দেশগুলোর নাম শুনে সে বোকা বনে গেল। সে খেয়ালই করেনি রোগী কোন্‌ দেশের আর রক্তদাতাই বা কোন্‌ দেশের।
(খ)
ইদানীং অনেকেই ইনবক্সে একটি মেসেজ পেয়ে থাকতে পারেন যে, কোনো এক লোকের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট রিসিভ না করার জন্য। সে নাকি হ্যাকার।
আমাকে এমন একজন লোক এই  মেসেজটি ফরোয়ার্ড করলেন যার কখনও এটা আমাকে পাঠানোর কথা নয়।
পরে বুঝলাম এই মেসেজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘স্প্যাম’ হিসেবে এসেছে।
এই ধরনের মেসেজগুলোর নানা উদ্দেশ্য থাকতে পারে যা সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা ভালো বলতে পারবেন। হ্যাকার নিজেই এসব  মেসেজ ছড়িয়ে দিয়ে কোনো ফায়দা লুটতে পারে।
(গ)
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সাত সকালে একটা লিঙ্ক পাঠিয়ে Good Morning জানালেন।
একটু অবাকই হলাম। কারণ আমাদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক এবং তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বিষয়টি যায় না। এরপর প্রতিদিন এটা তার কাছ থেকে আমার ইনবক্সে আসতে থাকলো।
আমি যা বুঝার বুঝে গেলাম। তাই ভুলেও তার সেই লিঙ্কে ক্লিক করলাম না।
(ঘ)
ধর্মীয় বিষয়ে বা মানবিক বিষয়ে অনেক ধরনের ম্যাসেজ ইনবক্সে আসে যা ১০ জন কিংবা ২০ জনকে পাঠিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয় এবং ফজিলতও বলে দেয়া হয়। সুসংবাদের লোভও দেখানো হয়।
ভুলেও কখনও এসবে ক্লিক করিনি। এসব ছেলেমানুষি আমার ভালো লাগে না, কিংবা আস্থা পাই না।
মানুষের আবেগ, দুর্বলতা, মানবিকবোধ এবং স্বাভাবিক প্রবণতার উপর ভিত্তি করে কিছু খারাপ লোক এসব কাজ করে থাকে। উদ্দেশ্য খারাপও হতে পারে, মজা করার জন্যও হতে পারে, আবার বাজে উদ্দেশ্য নিয়েও হতে পারে। তাই সাবধান থাকাই ভালো। ফেসবুকসহ অনলাইনভিত্তিক নানা জিনিস ডাউনলোড এবং আকর্ষণীয় লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করার আগেও একটু বুঝেশুনে করা উচিত। কেননা, প্রকৃতির কীটপতঙ্গ থেকেও খারাপ ভাইরাস এখন অনলাইনে বাস করে।
ফিশিং/হ্যাকিং/প্রতারণার নানা ফন্দিতে কোনো একজন ধরা খেলেই বোকামির দণ্ড দিতে হয় তার হাজারও কাছের মানুষদের। তাই না বুঝে কোনো মেসেজ ফরোয়ার্ড কিংবা ইনবক্সের কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা মানেই অনেক মানুষকে ইনবক্সের ফাঁদে ফেলে দেয়া।
তাই অসচেতন এবং অনভিজ্ঞ বন্ধুর কাছ থেকে আসা ইনবক্সের মেসেজগুলো থেকে সাবধান থাকাটা খুব জরুরি। আর বিজ্ঞ বন্ধু হলেও জিজ্ঞাসা করেই ক্লিক করা উচিত। বলা তো যায় না কে কাকে গিনিপিগ বানিয়ে আপনার গোপনীয়তায় প্রবেশ করতে চাচ্ছে, কিংবা হ্যাক করতে চাচ্ছে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী কিংস

গুম আর জোর করে গুম এক নয়

আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু

‘দুর্নীতি বাড়ার জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী’

রংপুর ও রাজশাহীতে শীত বাড়ছে

‘ভারত ও চীন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর নির্মাণে সহায়তা করবে’

দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত: যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল

বরিশালে রানী এলিজাবেথের পুত্রবধূর একদিন

ইরান-সৌদি আরব বাকযুদ্ধ

বরখাস্ত তিনজন, তদন্ত কমিটি

‘শিগগিরই সুখবরটি শুনতে পাবেন’

যে রাস্তাগুলো বন্ধ থাকবে আজ

জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত

সমঝোতার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধার পাহাড়

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’