শূন্য হাতে ফিরলেন মোদি

অন্য গণমাধ্যমের খবর

| ২৮ জুন ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৩
পাঁচ ঘণ্টার মোলাকাত। তার মধ্যে কুড়ি মিনিট নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প একান্তে। বাকি সময় দু’পক্ষের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠক। হোয়াইট হাউসে নৈশভোজ। রোজ গার্ডেনে যৌথ বিবৃতি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর তিন দিনের এই সফর সম্পর্কে প্রবীন কূটনীতিকেরা বলছেন, দু’পক্ষ থেকেই বন্ধুত্বের উষ্ণতার দীর্ঘ ঘোষণা আছে। কিন্তু ট্রাম্প জমানার এইচ ওয়ান বি ভিসা নীতি অথবা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো বিষয়গুলি তুলতে ব্যর্থ হলো ভারত।

মোদী-ট্রাম্পের বেশ কয়েক বার আলিঙ্গন অবশ্য দেখা গিয়েছে, হোয়াইট হাউসে অতিথিবৎসল ট্রাম্প দম্পতির সহৃদয় বিদায় জানানোর ফুটেজ দেখা গিয়েছে। কিন্তু এই সফর শেষে মোদী কার্যত শূন্য হাতে দেশে ফিরছেন বলেই মনে করছেন অনেক প্রবীণ কূটনীতিক। প্রাক্তন বিদেশসচিব কানওয়াল সিব্বল যেমন মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে, ভারত সম্পর্কে মার্কিন মনোভাবে কোনও পরিবর্তনই আসবে না।

মোদীর সফরের মুখে হিজবুল প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিনকে বিশেষ সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করল আমেরিকা। যৌথ বিবৃতিতেও তার নাম এল। কিন্তু সিব্বলের প্রশ্ন, দশ বছর আগেই তো হিজবুল মুজাহিদিনকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। এখন তার নেতাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করাটা কি নাটক নয়?  অটলবিহারী বাজপেয়ী ও দেশে যাওয়ার আগেও দাউদ ইব্রাহিমকে বিশ্ব-সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করেছিল আমেরিকা।
প্রাক্তন কূটনীতিকেরা শুধু নন, সাউথ ব্লকের অনেকেই মনে করছেন, মোদী আমেরিকা গিয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসকে বড় বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছেন। চিন যে এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে, তা নিয়েও ট্রাম্পের কাছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কান্নাকাটি করেছেন মোদী। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদের বক্তব্য, পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক স্তরে রাখাটাই দিল্লির লক্ষ্য। তবু আমেরিকার কাছে গিয়ে নালিশ করাটা যেন, ‘মা আমাকে ও মারছে’ গোছের কাঁদুনি গাওয়া!

এ কথা ঠিক পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে চিনের সিল্ক রুট তৈরি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন একমত হয়েছে। কিন্তু শিবশঙ্কর মেননের মতো কূটনীতিক মনে করেন, চিনের সঙ্গে রণং দেহি মনোভাব ভারতের বিদেশনীতির সাবেকি মূলমন্ত্র নয়। অনেক কূটনীতিক মনে করেন, চিনের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকলেই বরং আমেরিকার কাছে দিল্লির গুরুত্ব বাড়ে। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক চিনের উপরে চাপ বাড়ায়। অজিত ডোভাল ও জয়শঙ্কর এখন যে ভাবে চিনের সঙ্গে সংঘাতের কৌশল নিয়েছেন, তাতে ভারতের মার্কিন নির্ভরতা বেড়েছে।
দু’দেশের মধ্যে অসামরিক পরমাণু চুক্তির বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুলে রয়েছে। তা নিয়ে কথা হয়েছে। তবে তিন পৃষ্ঠার সুদীর্ঘ যৌথ বিবৃতিতে আঞ্চলিক সন্ত্রাসের মোকাবিলা যতটা গুরুত্ব পেয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ততটা পায়নি। আছে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ এলাকায় শান্তিরক্ষার কথা। উত্তর কোরিয়ার লাগাতার হুমকি থেকে শুরু করে আফগানিস্থানে নয়া কলেবরে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা, নাম না করেও দক্ষিণ-চিন সাগর সমস্যার ইঙ্গিত— এই সবই ঠাঁই পেয়েছে বিবৃতিতে।

ভারত সরকারের দাবি, দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে মার্কিন কর্তাদের সক্রিয় করে তোলা ও যৌথ বিবৃতি দেওয়ানোটাও মোদীর সাফল্য। কূটনীতির জগতের অনেকেই কিন্তু বলছেন, বারাক ওবামা এক সময় বিষয়টি নিয়ে খানিকটা উৎসাহ দেখালেও চিন যে এই এলাকাটিকে বাড়ির পুকুর ভাবতে শুরু করেছে, তা নিয়ে জাপান বা ভারতের মাথাব্যথা থাকলেও ট্রাম্পের কোনও উৎসাহ নেই। বিবৃতিটি তাই নাম কা ওয়াস্তে।

রণেন সেন অথবা শ্যাম শরণের মতো কূটনীতিক প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, তাঁরা পাকিস্তান সম্পর্কে আমেরিকার নীতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা সচিব এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দু’জনেই মার্কিন সেনাবাহিনীর লোক। এই অবস্থায় পাকিস্তানকে মার্কিন সেনার প্রতিরক্ষা সহায়তা কমছে কোথায়? প্রধানমন্ত্রীর এই আমেরিকা সফরের পরে বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, মোদীর  আসল সমস্যা হলো, তিনি বিদেশনীতির দিকে নজর দেওয়ার চেয়েও পাকিস্তান ও চিনের বিরোধিতা করে নির্বাচনী রাজনীতির মোক্ষ লাভেই বেশি ব্যস্ত।

সূত্র- আনন্দবাজার
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Amina

২০১৭-০৭-১০ ০৭:৫৫:০২

USA also banned Muslims !!

Mohammed

২০১৭-০৬-২৮ ০৮:১০:৪২

At least he got permission how to hate Muslim and killed Muslim.

Citizen

২০১৭-০৬-২৮ ০৭:৩৭:০৫

No doubt, Mr Modi is elected PM of India, a land of Apx 1200 million people - a huge market. That didn't, doesn't and will not erase the spot in his character for which he was banned in America till his election as PM. Modi caused killing of thousands muslims and destruction of Babri Mosque in India and sill cultures his anti muslim phobia.

Kamrul Hayder

২০১৭-০৬-২৮ ০৫:৩২:১৬

PM Modi is shameless - he was banned in USA as a violent person after Gujrat killing & Babri Masjid destroyed.

আপনার মতামত দিন

লিবিয়ার আইএস ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা, নিহত ১৭

উল্টো পথে আবার ধরা সচিবের গাড়ি

ফের কমলো স্বর্ণের দাম

ছাত্রের হাতে শিক্ষক জখম

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ ভাগ নারী ও শিশু: কেয়ার

মমতার দলে ভাঙনের সুর

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে : খালেদা

‘রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও তাদেরকেই করতে হবে’

ঝালকাঠিতে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

ইয়াবাসহ বাস আটক নিয়ে পুলিশের সওদা!

এইডস আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গা নারীসহ ৪জন চমেকে ভর্তি

রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয় অনুপ্রবেশকারী: ত্রাণসচিব

আগাম নির্বাচন ডাকলেন আবে

শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সৈনিক মনোয়ারের বাড়িতে শোকের মাতম

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

মধুপুরে রোহিঙ্গা সন্দেহে যুবক আটক