নিউ ইয়র্কে আবু হোরায়রা মসজিদের একটি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নারী মুসল্লীদের বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | ৮ জুন ২০১৭, বৃহস্পতিবার
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী আমেরিকান অধ্যুষিত ইস্টএলমহার্স্ট এলাকার আবু হোরায়রা মসজিদ কর্তৃপক্ষের এ বছরের তারাবীহর নামাজ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি আমেরিকান নারী মুসল্লী বিশেষ করে দ্বিতীয় প্রজন্মের ধর্মপ্রাণ নারী ও তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশী নারী মুসল্লীদের এই বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করেছেন নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী অন্যান্য কম্যুনিটির মুসলিম নারী ও তরুণীরাও। এদের বেশিরভাগই নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী নারী, অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং  রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মী।
 
জানাগেছে, নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যান্য মসজিদের ন্যায় প্রতিবছর আবু হোরায়রা মসজিদেও একটি ফ্লোরে নারী মুসল্লীদের তারাবীহর নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা ছিল। এই বছর মসজিদ কর্তৃপক্ষ মসজিদের সামনে বাংলা ও ইংরেজীতে প্রদত্ত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, 'মসজিদের বিশেষ প্রয়োজনে বোনদের জন্য এ বছর তারাবীহর নামাজ পড়ার কোনোরূপ সু-ব্যবস্থা রাখ হয় নাই।' এই বিজ্ঞপ্তি মসজিদের ফটকে লাগানোর পর থেকেই নারী মুসল্লীরা মসজিদ কমিটির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নামেন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তারা ফেইসবুকে এই ইস্যুতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং মসজিদ কমিটি যাতে নারীদের নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা পুনরায় গ্রহণ করেন সেজন্য মসজিদ কমিটির নিকট সকল মুসলিম নারী ও তরুণীকে পিটিশন দাখিলের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে একটি পিটিশন পেইজ তৈরী করেছেন।

মসজিদ কমিটির নিকট ইংরেজী ভাষায় লিখিত পিটিশনে আবু হোরায়রা মসজিদে নারী মুসল্লীদের তারাবীহার নামাজ আদায়ে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনকারী নারীরা বলছেন, যদিও মসজিদ কমিটি বলছে মসজিদের বিশেষ প্রয়োজনের কথা; কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাস্তবতা হলো এ বছর মসজিদে পুরুষ মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত পুরুষদের নামাজের ব্যবস্থা করতে গিয়ে মসজিদ কমিটি নারীদের নামাজ পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত  করেছেন-যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এমনকি ইসলামের আইনের পরিপন্থী। আন্দোলনকারী নারী মুসল্লীরা বলছেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মূলত নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন, যা আল্লাহর ঘর মসজিদে কখনো হতে দেওয়া যায় না।
 
 

বিগত ৬ জুন এ সংক্রান্ত এক ঘোষণায় আগামী ৯ জুন শুক্রবারের মধ্যে মসজিদ কমিটিকে তাদের দাবী মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারী মুসল্লীরা। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইসলামিক সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা এবং ফিকহ কাউন্সিল অফ নর্থ আমেরিকা এক যৌথ বিবৃতিতে নিউ ইয়র্কের সকল মসজিদে বিশেষ করে তারাবীহর নামাজের সময় নারীদের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। এরপর থেকে আবু হোরায়রা মসজিদসহ নিউইয়র্কের সকল মসজিদই এই নির্দেশনা মেনে চলেছে।

আবু হোরায়রা মসজিদের নারী মুসল্লীদের তারাবীহর নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থার দাবীতে এই কর্মসূচীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফারজানা লিন্ডা, শারমীন হোসাইন, শাহানা মাসুম, প্রমুখ।  এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী শাহানা মাসুম বলেন,বাংলাদেশী পুরুষরা অনেকদিন ধরে আমেরিকাতে থাকলেও তাদের অনেকেই এখনো বাংলাদেশী পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। এই জন্যই নারীদের তারাবীহর নামাজ আদায়ের বিষয়টি তারা এতো হালকা ভাবে দেখতে পেরেছেন।' এ বিষয়ে আবূ হুরায়রা মসজিদ কমিটির মন্তব্য জানতে বেশ কয়েকবার মসজিদের নম্বরে ফোন করেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ওবাইদুল ইসলাম

২০১৭-০৬-২৩ ০৮:০০:১৩

মুসলিমক মহিলাদের মসজিদে তারাবির নামাজ পড়া থেকে বিরত রাখা জুলুম । নামাজে বাঁধা দেওয়া ( যে কোনো কারনে বা যে কোনো ভাবেই ) বড় জুলুম । জালিমরা বেহেস্তে যাবে না । নামজে বাঁধা দান কারিরা কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে ।

আপনার মতামত দিন

গুম আর জোর করে গুম এক নয়

আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু

‘দুর্নীতি বাড়ার জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী’

রংপুর ও রাজশাহীতে শীত বাড়ছে

দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত: যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল

বরিশালে রানী এলিজাবেথের পুত্রবধূর একদিন

ইরান-সৌদি আরব বাকযুদ্ধ

বরখাস্ত তিনজন, তদন্ত কমিটি

‘শিগগিরই সুখবরটি শুনতে পাবেন’

যে রাস্তাগুলো বন্ধ থাকবে আজ

জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত

সমঝোতার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধার পাহাড়

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি