বিশ্ব আবহাওয়া দিবস ২০১৭

আকাশের বিশ্বজনীন ভাষা মেঘ

মত-মতান্তর

ড. মোহন কুমার দাশ | ২৩ মার্চ ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৮
আবহাওয়া পূর্বাভাস ও সতর্কতায় মূল ভূমিকা পালন করে মেঘ। বিশ্বের পানি চক্র ও সমস্ত জলবায়ু ব্যবস্থায় মেঘের অবদান অনস্বীকার্য। পাশাপাশি আবহমান সময় ধরে মেঘ প্রাণিত করে চলেছে নানা শিল্পী, কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, আলোকচিত্রী ও উৎসাহী সবাইকে ।
 আজ ২৩ মার্চ ২০১৭- বিশ্ব আবহাওয়া দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেঘমালাকে অনুধাবন (Understanding Clouds)’। আবহাওয়া, জলবায়ু ও পানি ব্যবস্থায় মেঘের অসীম গুরুত্ব বিবেচনা রেখে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে । আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস মেঘের উপর নির্ভরশীল।

    পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে মেঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার মূল নিয়ামক মেঘ। আঞ্চলিক আবহাওয়া ঘটনার ও প্রধান কারণ এই মেঘ। সঠিক ও সুচারুভাবে আবহাওয়া পূর্বাভাসের জন্য অন্যতম উপাদান মেঘমালা। এই জন্য মেঘেদের ধরণ জানা ও বুঝা প্রয়োজন। আবহাওয়া ও জলবায়ুর গাণিতিক মডেলে মেঘেদের যথাযথ উপস্থাপনের উপর নির্ভর করে পূর্বাভাস ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির যথার্থতা।


    পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে মেঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থার মূল নিয়ামক মেঘ। আঞ্চলিক আবহাওয়া ঘটনার ও প্রধান কারণ এই মেঘ। সঠিক ও সুচারুভাবে আবহাওয়া পূর্বাভাসের জন্য অন্যতম উপাদান মেঘমালা। এই জন্য মেঘেদের ধরণ জানা ও বুঝা প্রয়োজন। আবহাওয়া ও জলবায়ুর গাণিতিক মডেলে মেঘেদের যথাযথ উপস্থাপনের উপর নির্ভর করে পূর্বাভাস ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির যথার্থতা।

    বাংলাদেশে মেঘেদের পূর্ণ জীবন চক্র নিয়ে উন্নত গবেষণা নেই বললেই চলে। বিশেষভাবে কালবৈশাখীর (মার্চ, এপ্রিল ও মে) তিন মাস তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সুবিধার্থে মৌলভীবাজার ডপলার ওয়েদার রাডার সার্বক্ষণিক চালু রাখার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া অধিদপ্তর এ লক্ষ্যে তৎপর ও উদ্যোগী হবেন এই প্রত্যাশা আজকের বিশ্ব আবহাওয়া দিবসে। 

মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে
    পৃথিবীর প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। কালবৈশাখী, টর্নেডো, শিলা বৃষ্টি, বজ্রপাত, অতি বৃষ্টি, সাইক্লোন, বন্যা সহ নানাবিধ আবহাওয়া ঘটনা সারা বছর জুড়ে ঘটতে থাকে। হুমকীর সম্মুখীন হয় জনজীবন ও সম্পদ। এজন্য আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি যাচাই, মওসুমভিত্তিক ও তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস যথাসময়ে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

    সঠিক ও স্থানভিত্তিক পূর্বাভাসের জন্য মেঘেদের জীবন চক্র নিয়ে উন্নত গবেষণা আবশ্যক। সম্প্রতি বন্ধ করে দেয়া ঢাকাস্থ সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এস এম আর সি) এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছিলো। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণ এবং গবেষণা কর্মকর্তাবৃন্দ বিগত সময়ে শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাকর্ম সম্পন্ন করেছেন। উক্ত গবেষণাকর্ম সম্পাদনকালে কর্মকর্তাবৃন্দ আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের সার্বিক সহায়তা করেছে এবং নিজেরাও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাকর্ম সম্পন্ন করেছে। তাদের ঐ সকল গবেষণাকর্ম আমেরিকা, ভারত, জাপান, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং সমাদৃত হয়েছে। অনেক দেশ এই গবেষণাকর্মের ফলাফল উচ্চতর গবেষণা, পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করছে।

    এস এম আর সি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠা থেকে ২০১৫ সালে পর্যন্ত নিউমেরিকাল ওয়েদার প্রেডিকশন, ডাটা এসিমিলেশন, সিজনাল ওয়েদার প্রেডিকশন প্রভৃতি বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি দিয়ে আসছিলো।

    এই কেন্দ্রের গবেষণার সুবিধা নিয়ে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, শাহজালাল, রাজশাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, খুয়েট প্রভৃতি থেকে শিক্ষার্থীরা এম এস, এম ফিল, পি এইচডি ডিগ্রি  নিয়েছেন ও অনেকে দেশের বাইরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরণের গবেষণা কেন্দ্র দেশে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উন্নত গবেষণা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। পাশের দেশ ভারতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া-জলবায়ু বিজ্ঞান পড়ানো হয়। এমনকী  সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে শতাধিক আবহাওয়া -জলবায়ু বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আছে। চাকরী সুবিধা ও উন্নত গবেষণার সুযোগ থাকায় তাদের দেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে দেশে চলে আসে। এমন সুন্দর ভাবনা আমাদের দেশে বাস্তবে হোক এই প্রত্যাশা।  

এস এম আর সি  ভবনটি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যা এক বছরের ও বেশী সময় ধরে সম্পূর্ণ  বন্ধ আছে। কেন্দ্রটিতে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও উন্নতমানের কম্পিউটার সরঞ্জামাদি। যা অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হতে চলেছে। কেন্দ্রের গবেষকগণ সকলে স্ব স্ব ক্ষেত্রে শিক্ষা জীবনে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত ছিল।  গবেষকগণ আবহাওয়া বিজ্ঞান, পানি বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি পি এইচডি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বিশ্বের স্বনামধন্য বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে চাকুরী ও গবেষণা কর্মের সুযোগ পেয়ে তারা দেশকে কিছু দিতে পারবে বলে আত্মপ্রত্যয়ী, উদ্যোগী ও আশাবাদী ছিল।

সারা বিশ্ব এখন আবহাওয়া-জলবায়ু বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের একমাত্র আবহাওয়া-জলবায়ু বিজ্ঞান গবেষণা চালু রাখা অত্যন্ত দরকার। বাংলাদেশ সরকার এখন টেকসই উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য আবহাওয়া, জলবায়ু, সমুদ্র বিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পানিবিজ্ঞান ও  মেঘ বিষয়ে গবেষণায় অধিকতর মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় টেকসই উন্নয়নের জন্য উন্নত, দক্ষ ও সক্ষমতা সম্পন্ন মেধাশক্তি ও প্রযুক্তি দরকার। এজন্যসার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র (এস এম আর সি)-র আদলে একটি আবহাওয়া-জলবায়ু-মেঘ গবেষণা কেন্দ্র এখন সময়ের দাবী।

লেখক: সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

জিন্দাপার্ক নিয়ে দ্বন্ধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ৫

টাইম ম্যাগাজিন নিয়ে আবার বিতর্কে ট্রাম্প

চট্টগ্রামে নারীঘটিত কারণে আইনজীবি খুন

‘নতুন বাকশাল দেখছি’

আওয়ামী লীগ নেতারা হিন্দুদের সম্পদ দখল করছে

মিশরে বিপুল সংখ্যক ‘হামলাকারী’ নিহত

বারাক ওবামাকে হত্যার পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

কীভাবে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারকের পদ হারালো বৃটেন?

‘ডিপ্লোম্যাটিক মাইনফিল্ডে’ আসছেন পোপ, তাকিয়ে বিশ্ব

গুম আর জোর করে গুম এক নয়

‘দুর্নীতি বাড়ার জন্য রাজনীতিবিদরা দায়ী’

রংপুর ও রাজশাহীতে শীত বাড়ছে

‘ভারত ও চীন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়ি ঘর নির্মাণে সহায়তা করবে’

দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত: যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

‘শেষ মুহূর্তে হলে সরকার সমঝোতায় আসবে’

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি