করোনা পরীক্ষা

এবার বুথ বন্ধ করে দিতে চায় ব্র্যাক

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

প্রথম পাতা ৯ আগস্ট ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:২১

দেশে এমনিতেই করোনার পরীক্ষা কমে গেছে। কিন্তু শনাক্তের হার ২২ থেকে ৩২ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। তারমধ্যে আবার করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের বুথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিতর্কিত জেকেজি’র সাতটি বুথ বন্ধ হয়ে গেছে আগেই। এখন ৯৭টি বুথ বন্ধের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। এতে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে তারা এ সংক্রান্ত কাজ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এতে নমুনার অভাবে আরো সীমিত হয়ে আসতে পারে করোনা পরীক্ষা। ফলে সংক্রমণের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বললেন, বুথ বন্ধ হবে না। ব্র্যাকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে অন্য সংস্থা দিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ চলবে।

এ বিষয়ে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক মোর্শেদা চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আগস্ট পর্যন্ত চুক্তি ছিল। এতো দিন ব্র্যাক তার নিজস্ব অর্থায়নে নমুনা সংগ্রহের কাজটি করে আসছিল। সরকার বা কোনো দাতা সংস্থা থেকে অর্থ না পেলে এই কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারও অর্থের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। তবে সরকার দাতা সংস্থাগুলোকে বলছে যেন ব্র্যাককে ফান্ডিং করে। তিনি আরো জানান, তারাও চেষ্টা করছেন অর্থ সংগ্রহের। তিনি জানান, অর্থ পেলে হয়তোবা নমুনা সংগ্রহের কাজ চালাতে পারবো।

গত ২৭শে জুলাই ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক মোর্শেদা চৌধুরী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও ব্র্যাকের পরিচালনায় কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহ বুথগুলোতে নমুনা সংগ্রহের জন্য উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ই মে থেকে ব্র্যাক নমুনা সংগ্রহের কাজ করে। আগামী ৩১শে আগস্টের পর থেকে এই নমুনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৩৮ বুথ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নমুনা সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ল্যাবে জমা দিচ্ছে। বর্তমানে বুথগুলোর কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। যা এই মাসের শেষ নাগাদ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।

জানা গেছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯৭টি বুথের মাধ্যমে রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করতো। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৮টি সাধারণ বুথ এবং ২০টি বিদেশগামীদের নমুনা সংগ্রহের বুথ রয়েছে। বাকিগুলো, গাজীপুর, কুমিল্লা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে। তবে চলতি মাসের পর থেকে তারা আর কোনো নমুনা সংগ্রহ করবে না বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। ব্র্যাকের ৯৫ জন স্টাফ নমুনা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ব্র্যাকের নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হলে টেস্ট খুব দুর্বল হয়ে যাবে। খুব সমস্যা হবে। এই বুথগুলো বন্ধ হলে পরীক্ষার হার অনেক কমে যাবে। ব্র্যাক ভালোভাবে নমুনা সংগ্রহ করছিল। ফলাফল ভালো আসছিল। এখন কোনোভাবেই নমুনা পরীক্ষা কমানো যাবে না। পরীক্ষা বাড়াতে হবে। দৈনিক কমপক্ষে ২০ হাজার পরীক্ষা করতে হবে। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, এক্ষেত্রে সরকারের উচিত ব্র্যাকের সঙ্গে আলোচনা করে বুথগুলো চালু রাখা। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা এবং সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, দুই সপ্তাহ পর দেশে করোনা সংক্রমণের একটি ধাক্কা আসতে পারে। কারণ মানুষ কোরবানির ঈদে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেছেন। বন্যার কারণেও করোনা নমুনা সংগ্রহের সঠিক চিত্রটা আসছে না। ঢাকার বাইরে উপজেলা পর্যায়ে সংক্রমণ বেশি। এক্ষেত্রে সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার সংখ্যা এবং কন্ট্রাক ট্রেসিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম থেকেই বেশি বেশি করোনা পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এমনকি দেশের রোগতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্তসংখ্যক পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। শুরুতে পরীক্ষা না বাড়ানোয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। আলোচনার মধ্যে এক পর্যায়ে দৈনন্দিন পরীক্ষার সংখ্যা ধীরে ধীরে ১৯ হাজারে উন্নীত হয়। কিন্তু বর্তমানে তা দশ হাজারের কোঠায় নেমে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে ১১টি ভ্রাম্যমাণ দল রাজধানীতে বাসায় নমুনা সংগ্রহ করেছে। তাও শুধু বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে এই সেবা প্রযোজ্য। এখন শুধু উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পর্যায়ে সদর হাসপাতাল এবং টারশিয়ারি পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হবে বিদেশগামীদের। ব্র্যাক এককভাবে ২০টি বুথ দিয়ে বিদেশগামীদের নমুনা সংগ্রহ করে আসছে। কোভিড-১৯ টেস্ট ফি নির্ধারণ হয় জুন মাসের ২৮ তারিখ। তা ৩০শে জুন থেকে কার্যকর হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হাসপাতালে গিয়ে টেস্ট করাতে ২০০ টাকা ফি দিতে হবে। আর বাসায় গিয়ে পরীক্ষা করাতে দিতে হবে ৫০০ টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে সাড়ে ৩ হাজার টাকা এবং বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ হয়। ফি নির্ধারণের পর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হার ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। যেখানে ১৯ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা হতো সেখানে তা ধীরে ধীরে ১১ থেকে ১৩ হাজারে নেমে এসেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে আরো কমে ১০ হাজারের নিচে চলে যায়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা মানবজমিনকে বলেন, ব্র্যাকের চিঠি আমরা পেয়েছি। সেপ্টেম্বর মাস এখনো অনেক দূরে। তবে এই বুথগুলো যেন বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে ব্র্যাকের সঙ্গে। কীভাবে এগুলো সচল রেখে নমুনা সংগ্রহ বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্র্যাক না করলে অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা যায় কিনা তাও চিন্তা করা হচ্ছে। বুথ বন্ধ হবে না বলেও নিশ্চয়তা অতিরিক্ত মহাপরিচালক। পরীক্ষা বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। মানুষকে সচেতন হতে হবে। আমরা টিভি স্ক্রলে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নমুনা দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যা যা মাধ্যম আছে, সেগুলো ব্যবহার করছি।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

আল্লামা শফীর ইন্তেকাল

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

অশান্ত হাটহাজারী ক্ষোভ, বিক্ষোভ

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কোন পথে হেফাজত

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঘোষণা ছাড়া পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুতপ্ত

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাজারে হেরফের নেই

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত