কসাইয়ের দাম চড়া লাখে ১৩০০০

শামীমুল হক

প্রথম পাতা ৩০ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার

আগামী শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ। ইতিমধ্যে কোরবানি পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। চলবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত। কিন্তু কোরবানির পশু জবাইয়ের পর মানুষ যে সমস্যায় পড়েন তা হলো গরুর চামড়া ছাড়ানো। মাংস কাটা। হাড় টুকরো করা। তখনই প্রয়োজন পড়ে কসাইয়ের।
রাজধানী ঢাকায় প্রতি বছরই এ দিনটিতে কসাইয়ের কদর বাড়ে। কোরবানির গরু কাটাছেঁড়া করার জন্য ঈদের আগেই মানুষজন চুক্তিবদ্ধ হয় কসাইয়ের সঙ্গে। সোমবার রাতে নুরে আলম মহালদার নামে এক ব্যবসায়ী ছুটে যান রায়েরবাগ জসিম কসাইয়ের কাছে। সেখানে আগে থেকে আরো বেশক’জন এসেছেন কসাই ঠিক করতে। কোরবানির গরু কেটে একেবারে সাফ করে দিয়ে আসবেন জসিম কসাই ও তার দল। জসিম তাদের বলেন, আমরা প্রতিবছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। আপনারা আমার মাধ্যমে কাজ করালে দিতে হবে প্রতি হাজারে ২০০ টাকা করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ তর্ক-বিতর্কও হয়। শেষ পর্যন্ত জসিম বলেন, হাজারে ১৩০ টাকা হলে আমি রাজি। এর কমে আমি পারবো না। আপনারা অন্য জায়গায় দেখুন। জসিমের হিসাবে গরুর দাম যদি হয় এক লাখ টাকা তাহলে তাকে দিতে হবে ১৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ গরুর দামের উপর হাজারে তাকে ১৩০ টাকা মজুরি দিতে হবে। ৬০ হাজার টাকা হলে তাকে দিতে হবে সাত হাজার ৮০০ টাকা। গরুর দাম যদি হয় দেড় লাখ টাকা তাহলে তাকে দিতে হবে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। রায়েরবাগেরই আরেক কসাই বিল্লাল। তিনি রেট দিয়েছেন হাজারে একশ’ টাকা। বিল্লালের হিসাবে এক লাখ টাকার গরুর জন্য দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। বিল্লাল বলেন, আসলে আমরাও তো মানুষ। ঈদের আনন্দ আমাদেরও আছে। মানুষকে এভাবে সাহায্য করে আমরা আনন্দ পাই।
এক সময় মানুষ নিজেদের গরু নিজেরাই মিলে চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে সবই করতেন। গ্রামে উঠানে বসে গরুর মাংস কাটতেন আর উল্লাস করতেন। রাজধানীতেও ছিল পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গরু কাটার ব্যবস্থা। কোরবানি ঈদের আনন্দই ছিল এ গরু কাটাতে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী নুরে আলম বলেন, ঢাকাতে একা থাকি। সঙ্গে কেউ নেই। তাই আমাকে কসাইয়ের দ্বারস্থ হতে হয়। তিনি বলেন, গ্রামে লোকজন এমনিতেই সহায়তা করতে এগিয়ে আসে। সবাই মিলে আনন্দ উল্লাস করে পশু জবাই দেই। মাংস কাটি। সেদিন আর ফিরে আসবে না। গাউছিয়া মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তারও ঠিক করেছেন বিল্লাল কসাইকে। তিনি ৮৫/১, জনতাবাগে বসবাস করেন। সাত্তার বলেন, আসলে একা হওয়ায় কসাইয়ের কাছে ছুটে আসতে হয়। টাকা গেলেও কিছু করার থাকে না আমাদের। জসিম কসাই বলেন, ঈদের দিন আমি আমার দল নিয়ে ১০ থেকে ১২টা গরু কাটাকাটি করি। এতে দেড় লাখ টাকার মতো আয় হয়। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা মানুষ এখন কষ্ট করতে চায় না। তারা চায় টাকা দিয়ে হলেও সব তৈরি পেতে। এ জন্যই আমাদের ডাক পড়ে।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

দিনভর কান্না-আকুতি

আকামার মেয়াদ বাড়লো ২৪ দিন

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

দ্বিতীয় ঢেউ

সর্বত্র উদ্বেগ মোকাবিলার প্রস্তুতি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

নিক্কি এশিয়ান রিভিউ’র রিপোর্ট

চীন থেকে বাংলাদেশকে দূরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কূটনীতি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তৃত করেছে চীন। এ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ‘উদীয়মান’ মিত্রের মন জয় ...

গু ড নি উ জ

ডেঙ্গুতে করোনা প্রতিরোধ!

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গা হলেই কি বাংলাদেশি?

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেশে এসে বিপাকে লাখো প্রবাসী

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

সরকারি কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম নিয়ে সতর্কতার নির্দেশ

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

 বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কেনাকাটায় অস্বাভাবিক দাম নিয়ে সতর্কতা জারি করে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



শনাক্ত ৩,৫০,০০০ ছাড়ালো, মৃত্যু ৫০০০ ছুঁই ছুঁই

দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে শঙ্কা যে কারণে

সৌদি প্রবাসীদের বিক্ষোভ

টিকিটের জন্য হাহাকার

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

রাতে আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয় নুরকে

দিনভর কান্না-আকুতি

আকামার মেয়াদ বাড়লো ২৪ দিন