যক্ষ্মা হাসপাতালে দ্রুত করোনা পরীক্ষার যন্ত্র ও জৈবসুরক্ষা উপকরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক রিপোর্টার

অনলাইন ২৮ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:০৯ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৭

প্রাণঘাতী করোনার টেস্টের গতি কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের যক্ষ্মা হাসপাতালগুলোতে থাকা ল্যাবরেটরিতে দ্রুত কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ যন্ত্র ও জৈবসুরক্ষা উপকরণ সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার রাজধানীর শ্যামলীর ২৫০ শয্যার যক্ষ্মা (টিবি) হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রদত্ত জিনএক্সপার্ট মেশিন কীভাবে মাত্র ৪৫ মিনিটে কোভিড-১৯ শনাক্ত করতে পারে তা প্রত্যক্ষ করেন। একই সঙ্গে বহু-ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা বা মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিবি রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া উন্নতকরণে যন্ত্রোপকরণ হস্তান্তর করেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব কমাতে দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)’র মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গত দশ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস মার্চ ২০২০ থেকে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তাও সম্প্রসারণ করেছে। বিজ্ঞপ্তি মতে, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের (এনটিপি) চিকিৎসকগণ কীভাবে জিনএক্সপার্ট মেশিন ব্যবহার করে যক্ষ্মা হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করছেন এবং শনাক্তকৃত রোগীদের জরুরি চিকিৎসা দিচ্ছেন রাষ্ট্রদূত তা সরজমিনে পরিদর্শন করেন।


উল্লেখ্য, এর আগেও যক্ষ্মা পরীক্ষার জন্য ইউএসএআইডি বাংলাদেশ সরকারকে ৭৪টি জিনএক্সপার্ট যন্ত্র প্রদান করেছে, যেগুলো এখন কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক কোম্পানি সেফাইড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত জিনএক্সপার্ট পদ্ধতিটি যক্ষ্মা ও কোভিড-১৯’সহ চাহিদামাফিক বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করতে সক্ষম।

রাষ্ট্রদূত মিলার হাসপাতালের পরীক্ষাগারে গিয়ে কোভিড-১৯ পরীক্ষায় জিনএক্সপার্ট যন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপুষ্ট কার্যক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। যক্ষ্মা এখনও মৃত্যুর কারণ

মার্কিন দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, সাম্প্রতিককালে কোভিড-১৯ মহামারি সারা বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রে অবস্থান করলেও যক্ষ্মা এখনও বিশ্বের একক সংক্রামক রোগে মৃত্যুর প্রধান কারণ। আর বাংলাদেশে তো মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসাবে যক্ষ্মা রয়েই গেছে। সোমবার বহু-ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার রোগনির্ণয় পদ্ধতি উন্নতকরণে রাষ্ট্রদূত মিলার জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের নিকট দুটি মাইকোব্যাকটেরিয়া গ্রোথ ইন্ডিকেটর টিউব (এমজিআইটি) যন্ত্র হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম গ্রহণে তহবিল সংস্থানে প্রথম পর্যায়ের দাতা সংস্থাগুলোর অন্যতম হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এর সবগুলো প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫৬.৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএআইডি থেকে উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা হিসাবে প্রদত্ত প্রায় ৩৭ মিলিয়ন ডলার। এই তহবিল বাংলাদেশের পরীক্ষাগার ও পরীক্ষাগারের কর্মীদের সক্ষমতা জোরদারকরণ, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সেবা উন্নতকরণ, সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ সম্পর্কিত গুজব ও ভুলধারণা দূরীকরণে সহায়ক হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের অধিক সহায়তা দিয়েছে। আর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন সহায়তা ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নতকরণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও চর্চা উৎসাহিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় হয়েছে।
কেবল ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে ইউএসএআইডি ২০০ মিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থ প্রদান করেছে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

স্বর্ণের দাম কমলো

১২ আগস্ট ২০২০

ওয়ালটন পণ্য কিনে মিলিয়নিয়ার হওয়ার সুযোগ বাড়লো

১২ আগস্ট ২০২০

স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ওয়ালটনের ‘মিলিয়নিয়ার ও অসংখ্য লাখপতি’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন। এর আওতায় ...



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



ফেসবুকে না লেখার শর্তে ‘মুক্তি’

কে এই আশরাফ মাহাদী?