অসামাজিক কার্যকলাপ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে আটকে বিয়ে দিলেন এলাকাবাসী

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

অনলাইন ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:১৬ | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৪৫

পরকীয়া প্রেমের খেসারত দিতে হলো মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে। সম্প্রতি স্বামীহারা ফারহানা ইয়াসমিন সকলের অজান্তে মেহেরপুরের বুড়িপোতা ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের আনছারুল হকের ছেলে সরোয়ার হোসেন সবুজের (৩০) সাথে চুটিয়ে প্রেম-প্রেম খেলায় মেতে উঠেছিল। সকলের সন্দেহের দানা বেঁধে উঠলেও ফারহানা পরিবার, সমাজ ছাড়াও তার একমাত্র মেয়েকে আড়াল করে পরকীয়া প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামের পূর্বপাড়াস্থ তার ভাড়া বাড়ীতে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার সময় বেরসিক জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে কেলেংকারীর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে সাথে সাথে গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ, খালেক, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমান, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর নবীরউদ্দীনসহ অসংখ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রথমে পরকীয়া প্রেমের কথা দু’জন অস্বীকার করলেও নানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন। ঘটনার তদন্ত করতে অভিযুক্ত সবুজ ও ফারহানার মোবাইল ফোন সার্চ করে তাদের পরকীয়ার তথ্য বেরিয়ে আসে। মোবাইল ফোনের ম্যাসেঞ্জারে তাদের অনৈতিক মেলামেশা ও গোপনীয় আলাপচারিতার অডিও ভিডিওর চিত্র পাওয়া গেছে।
ফারহানা জানান, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পর থেকে সবুজের সাথে আমার পরিচয়। সে আমার ছোট দেবরের মত। আমার বাড়ীতে প্রায়ই বেড়াতে আসে। আমার প্রয়াত স্বামী শাহাব উদ্দীন জীবিত থাকাকালীন সময় থেকে আমার বাসায় যাতায়াত করতো। অন্যদিকে সবুজ জানায়, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক নানা কর্মসূচীতে তার সাথে আমার পরিচয়। আমি তার ছোট ভাই হিসাবে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। পরবর্তীতে সে আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছে। এসময় তার একমাত্র ছোট মেয়ে বহু লোকজন ও সাংবাদিকদের জানায়, অনেক আগে আমার মা সবুজ আঙ্কেলকে মোটর সাইকেল কিনে দিয়েছে। ঘটনার পোষ্ট মর্টেম শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক অভিভাবক হিসাবে ও গাংনী পৌরসভার মেয়রের প্রস্তাবে উভয়ে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান ও গাংনী পৌরসভার মেয়রের উপস্থিতিতে ২০ লাখ টাকা দেন মোহরে তাদের ২য় বিয়ে পড়ানো হয়। এসময় ছেলে পক্ষের পিতা ও নিকটাত্মীয়, গাংনী পৌর সভার কাউন্সিলর আসাল উদ্দীন, শ্রমিক নেতা মনিসহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যনকে সকলেই ভাবী সম্বোধন করতো। তাই শরৎ চন্দ্রের ভাষায় ‘বৌদির বিয়ে’ হওয়ায় শহরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছ্।ে এনিয়ে স্বামী শাহাবউদ্দীনের মৃত্যু নিয়ে নানা সন্দেহ দানা বেঁধে উঠছে। অনেকেই মন্তব্য করে বলছেন, এই পরকীয়া প্রেমের কারণেই শাহাব উদ্দীনকে প্রাণ দিতে হয়েছ্।ে এই দু’জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মৃত্যু রহস্য উদঘাটিত হতে পারে বলে অনেকেই বলাবলি করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ খালেক জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নইলে উচ্ছৃংখল বেরসিক লোকজন বেপরোয়া হয়ে শৃংখলা ভঙ্গ করতো।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

হাসিব

২০২০-০৫-৩০ ০৪:৩৪:০৭

এটা কোন বিচার হলো না... ওদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার ছিলো.. যা দেখে সবাি শিক্ষা নিতো

মো নজরুল ইসলাম সুমন

২০২০-০৫-২৭ ০৯:৪২:৩৩

এটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উনাদেরকে বিয়ে দিয়ে ভালো করেছেন। যদি না দিতেন তাহলে হয়তো তার মেয়েটার জীবন দিতে হতো কারণ উনাদের উশৃঙ্খল জীবনযাপন যদি তার মেয়ে দেখে যেত তাহলে হয়তো অন্য কোন অঘটন হয়ে যেত। উনার স্বামী কিভাবে মারা গেছে তা উদ্ঘাটন করা এখন খুব প্রয়োজন হয়ে গিয়েছে তাই আমার মনে হয় ভাল হবে উনার মৃত্যুর রহস্য তা বের করা ।আমার মনে হয় ভালো হবে। ধন্যবাদ

আহমেদ

২০২০-০৫-২৭ ০৫:২৫:১২

১। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যার কাদের প্রডাক্ট ??? ২। ব্যাবিচারের বিচার না বিয়ে ?? কোন আইনে আছে ? ৩। তারা যে অন্যায় করল তার বিচার কি হবে ? ৪। এভাবে সহজ ও সুবিধা জনক বিচার কি সবাই পাবে ? না কি শুধু দলের ভাবীরা পায় ?

মোঃ শহিদুল ইসলাম

২০২০-০৫-২৭ ০৩:৫৩:০২

দুজনে প্রেম করেছে ভালই করেছে সবাই মিলে ধরেছে ভালই করেছে দুজনকে বিয়ে দিয়েছে ভালই করেছে নব বিবাহিত সংসার সুখের হয় যেন নতুন সংসারের দির্ঘায়ু কামনা করছি যেন পুনরায় পরকিয়া না করতে হয় । কিন্তু একটা কথা স্বামী মারা যাওয়ার কারন উল্যখ করা হয় নাই কারন টা উল্যেখ থাকলে ভালো হতো ।

ইকবাল

২০২০-০৫-২৭ ১১:০৩:০২

“শরৎ চন্দ্রের ভাষায় ‘বৌদির বিয়ে’ হওয়ায়” মানে কী? শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বৌদির বিয়ে’ নামে কিছু লেখেননি। তবে ওই নামে কোলকাতায় ফালতু একটা সিনেমা তৈরি হয়েছে। তার সাথে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোনো সম্পর্কে নেই।

আরিফ রব্বানী

২০২০-০৫-২৬ ২১:১৬:১৬

দেবর যখন স্বামী একটা উপন্যাস লেখা হোক।

Mohammed Faiz Ahmed

২০২০-০৫-২৭ ০৯:২৪:০৫

পরকীয়া বা অবৈধ ভাবে মেলামেশা ইসলামে হারাম, বৈধ ভাবে মেলামেশা পাপ নয় এবং বৈধ। দেরিতে হলেও কোরআন ও শরিয়েত ভাবে তারা স্বামী স্ত্রী এই নিয়ে তাদের পাপী ভাবা ঠিক না। আসল কথা হল যারা সমাজ সেবা করেন তার যদি অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন তাহলে মানুষ আপনাদের জুতা মারবে এটাই স্বাভাবিক, স্বামী স্ত্রীর মাজে মতের অমিল থাকতেই পারে,সমাধান ও আছে পারিবারিক মান সন্মান পদ দলতি করে পরকিয়ায় লিপ্ত হওয়া খুবীই খারাপ।

Mahmud

২০২০-০৫-২৬ ২০:১৪:০২

দেবর-ভাবীর সুখী দাম্পত্ত জীবন কামনা করছি ।

মোতাহার হোসেন

২০২০-০৫-২৬ ১৯:৪৭:০০

এমন অবস্থা একটা জাতি কে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায় আস্তে আস্তে কারন চরিত্রই একটা জাতির উন্নতির চাবি কাঠি।। আর এর জন্য শরিয়াত সম্মত আইন প্রয়োগ দরকার।

কাজী জাহান

২০২০-০৫-২৬ ১৯:৩২:২৭

এ'ঘৃণ্য লালসা সমাজ রাজনীতির জন্য অনেক ক্ষতিকর। একজন জনপ্রতিনিধিহয়ে যে অনৈতিক কার্যকলাপের জন্ম দিয়েছেন কলংককে মুছতে পারবেনা। বিয়ে হয়েছে ভালো কথা সাধুবাদজানাই কিন্তু দাগতো থেকেই যাবে।

Kama hossain

২০২০-০৫-২৬ ১৮:৫০:০৯

যার চরিত্র যেমন তার কর্মও তেমন।

আনোয়ার

২০২০-০৫-২৬ ১৮:৪০:০৬

ঊর্মি ভাবি! এটাকি ঠিক! হাহাহাহা

Dewan Chowdhury

২০২০-০৫-২৬ ১৮:২০:২৩

Baje reporting..

এটিএম তোহা

২০২০-০৫-২৬ ১৬:৪৬:৪৬

এরকম ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা একজন নয় সারাদেশে অসংখ্য আছে নেতা কর্মী,জনতার মনোরঞ্জোনের জন্য । কেউ ধরা খায়,কেউ আশ্রয় পায়,কেউ তলে তলে সমাজকে নষ্ট করে। কেউ স্বামী বদল করেনা শুধু, দলও বদল করে। এখনতো তৃণমূলেও সুন্দরী আপা,ভাবীদের পোয়াবারো। এদের রক্ষায় আবার আইনও আছে।

আবু বকর

২০২০-০৫-২৬ ১৬:১২:৪৯

"অসংখ্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।" লকডাউনের এহেন জটিল পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আইনভঙ্গকারি নেতৃস্থানীয় এবং অনৈতিক ও ব্যভিচারে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।

Mahsin

২০২০-০৫-২৬ ১৫:১৮:০৫

ফালতু নিউজ। সময়টা নস্ট করলাম।

Fahim

২০২০-০৫-২৬ ১২:৫৪:২৭

জনগণের সেবা করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে হুম এটাই হলো আসল সেবা।

faiz feni

২০২০-০৫-২৬ ১২:৪৫:৫৫

আপা আপনি আরো এগিয়ে যান

shiblik

২০২০-০৫-২৭ ০০:৩০:২৮

Public do not have any thing better to do than lay seize on someone's house and poking into a female's personal life?

Mamun

২০২০-০৫-২৬ ২৩:৫৯:১১

Forced marriage shouldn't be allowed no matter what.

ISLAM

২০২০-০৫-২৬ ২৩:৪০:০৬

ba besh valo,30 bocor jubok ar 40 boudi...

Kadir Mahmud

২০২০-০৫-২৬ ১০:৩২:৫৬

We believe this type of mischief is not acceptable in a Muslim country. But this type of mischievous work is increasing in our country day by day.

সুমন

২০২০-০৫-২৬ ১০:১০:০৪

এমন না হলে লীগ হবে কেমনে?

ঊর্মি

২০২০-০৫-২৬ ২৩:০৪:২৮

পরকীয়া বলুন আর জাই বলুন, পদবীধারী একজন নেত্রী, দিন রাত দুস্থ জণগনের সেবায় ব্যস্ত থাকতে হয়, তা মাঝে মধ্যে সময় করে একটু আধটু বিনোদন, ইত্যাদি করতেতো হবেই।

Aftab Chowdhury

২০২০-০৫-২৬ ০৯:৪৯:৫৭

সব নোংরা সমাজবিরাধী লোকগুলিই কেন আওয়ামিলিগ করে ? আওয়ামী শীর্ষ নেতৃত্বকে তা খুঁজে দেখতে হবে।

Kamal

২০২০-০৫-২৬ ০৯:১৪:৫৭

Papiya league. Korona kale subo kag. Masoallah.

Md. Harun Al-Rashid

২০২০-০৫-২৬ ২২:০৬:১৩

এনাকে ভোটে পাশ করাতে শ্লোগান ছিল " ....আপার চরিত্র, ফুলের মত পবিত্র"(?)

মোহাম্মদ হাছান ফেণী

২০২০-০৫-২৬ ০৮:৩৭:১৮

সাহাব উদ্দিনের মৃত্যু উদগাডন হয়া দরকার

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

গণপূর্ত সচিবের ফোন ধরেননি তাই-

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী হেলালীকে শোকজ

৩ জুলাই ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত