হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ, সংগ্রহও ভালো

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

বাংলারজমিন ২২ মে ২০২০, শুক্রবার

আম্ফানের প্রভাবে বইয়ে যাওয়া দমকা হাওয়া ও মাঝারি বৃষ্টির প্রভাবে চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্প-জাতীয় মা মাছ ডিম ছেড়েছে। শুক্রবার ভোর রাতে বৃষ্টির পরম মা-মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলেরা নদীতে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহের উৎসবে মেতে উঠে। ডিম সংগ্রহ ভালো বলেও জানিয়েছেন জেলেরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা বিশেষজ্ঞ ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শুক্রবার সেহেরির সময় চট্টগ্রামে মাঝারি ধরনের দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি হয়। এরপর হালদা নদীতে মা মাছের নমুনা ডিম দেওয়ার খবর আসে। ফলে হালদা নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমটিার এলাকায় নৌকার মাধ্যমে জাল ফেলে জেলেরা ডিম সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।

জেলেরা জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোররাতে প্রতিটি জালে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত নমুনা ডিম পাওয়া যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ছে। বেলা ১১টার পর প্রতিজালে এক কেজি করে ডিম পাওয়া যাচ্ছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, মা মাছ মূলত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে মূল ডিম ছাড়তে শুরু করে। এরপর নদীতে প্রায় ৩০০ জেলে ডিম সংগ্রহের উৎসবে মেতে ওঠে। তবে কী পরিমাণ ডিম তারা সংগ্রহ করেছে তা এখনো পর্যন্ত হিসাব করা যায়নি।
তবে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ সন্তোষজনক। প্রতিটি জালেই কমপক্ষে ১ কেজি করে ডিম পাচ্ছে। ডিমগুলোও হেলদি। আশা করা হচ্ছে বিকেলের মধ্যে ২ থেকে ৩ হাজার কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ হতে পারে। তবে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে ডিম সংগ্রহ পুরোদমে শুরু হবে।
রুহুল আমিন বলেন, এবার ডিম সংগ্রহ বেশি হতে পারে। যা ১২ থেকে ১৪ হাজার কেজি’র মতো আশা করা হচ্ছে। কারণ এবার নদী দূষণকারী দু’টি প্রতিষ্ঠান (বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পেপারমিল) বন্ধ রয়েছে। করোনায় লকডাউনের কারণে নদী সংলগ্ন বিভিন্ন কারখানার দূষণও নেই। ড্রেজার চলাচল বন্ধ ও মা মাছের মৃত্যু তুলনামূলক কম হওয়ার বেশি ডিম পাওয়ার আশা দেখছেন।   
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ মে হালদায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। আহরণ করা প্রায় ১০ হাজার কেজি ডিম। যা থেকে ২০০ কেজি’র কিছু বেশি রেণু উৎপাদিত হয়েছিল। ২০১৮ সালের ২০শে এপ্রিল হালদা থেকে ডিম সংগ্রহ করা হয় ২২ হাজার ৬৮০ কেজি ডিম। যা ৩৭৮ কেজি রেণু উৎপাদিত হয়। এ সময় এসব রেণুর মূল্য ছিল প্রায় পৌণে পাঁচ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রতিবছর এই সময়ে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশসহ কার্প জাতীয় মা-মাছ ডিম ছাড়ে। যা থেকে কোটি কোটি টাকার রেণু উৎপাদন হয়। সারা দেশে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে এই প্রজননক্ষেত্রই মূল ভরসা। ফলে এই প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বেসরকারি সংস্থা সমূহ সারা বছর প্রাণপণ লড়াই চালায়।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

পাকুন্দিয়ায় আরও তিনজনর করোনা শনাক্ত

২৬ মে ২০২০

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় কয়েক দিন বিরতি দিয়ে আবারও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। নতুন করে আজ ...

চাঁদপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীর মৃত্যু

২৬ মে ২০২০

চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা এলাকায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হৃদয় চন্দ্র বণিক (৫৯) নামের এক স্বাস্থ্য সহকারীর ...

গোয়াইনঘাটে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নিখোঁজ ১

২৬ মে ২০২০

 সিলেটের গোয়াইনঘাটে ১ রুস্তমপুর ইউনিয়নে মাটি কাপা রাস্তার ভাঙ্গা সাতরাইয়া পাড়ি দিতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের ...

দিরাইয়ে লেগুনার ধাক্কায় শিশু নিহত

২৬ মে ২০২০

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বেপরোয়া লেগুনার ধাক্কায় ৪ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে দিরাই ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত