রয়টার্সের প্রতিবেদন

হুমকি দিলেও আফগান নিরাপত্তা তহবিলে অর্থায়ন বন্ধ করেনি যুক্তরাষ্ট্র

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২১ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার

আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীতে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিলেও তেমনটা করেনি যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৩শে মার্চ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীতে ১০০ কোটি ডলার অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে এখন অবধি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কোনো নির্দেশনা দেয়নি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, পম্পেও হুমকি দিলেও আফগানিস্তানে অর্থায়ন বন্ধে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচ সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটা বলা হয়েছে।

খবরে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে অর্থায়ন বন্ধে কোনো নির্দেশনা দেননি পম্পেও বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। ঠিক কী কারণে এখনো এমন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি তা জানা যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসন অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত পাল্টেছে কিনা তাও জানা যায়নি। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি।
পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে অর্থায়ন বন্ধ নিয়ে দ্বিমত দেখা দিয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অর্থায়ন বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজ ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয় রয়টার্সকে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মন্তব্য করতে অস্বিকৃতী জানান কর্মকর্তারা। এদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রও অর্থায়ন বন্ধ না হওয়ার কারণ নিয়ে সরাসরি কথা বলেননি। তবে বলেছেন যে, এ বিষয়ে কাজ করছে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর ল্যাফটেনান্ট কর্নেল থমাস ক্যাম্পবেল বলেন, আফগানিস্তানে আভ্যন্তরীণ শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চেষ্টার প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসপারের সমর্থন রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, পম্পেওর সিদ্ধান্তে অর্থায়ন বন্ধ করতে এসপার ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্মতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কর্মকর্তা জানান, পম্পেওর বিবৃতি মেনে অন্ধের মতো আচরণ করতে চায়নি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত মার্চে কাবুলে এক সফরে ক্ষমতা ভাগ করে সরকার গঠন করতে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহকে রাজি করাতে ব্যর্থ হন পম্পেও। নিজের ব্যর্থতার হতাশা ঢাকতে দেশে ফিরেই অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি। উল্লেখ্য, গত শনিবার ক্ষমতা ভাগ করে সরকার গঠন করেছেন ঘানি ও আব্দুল্লাহ।
এক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বলেন, এখন পর্যন্ত এই বছর কোনো অর্থায়ন বন্ধ করা হয়নি। আমি যতদূর বলতে পারবো তা হচ্ছে, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেতর এ বিষয়ে ভালো যুদ্ধ হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বারবার বলে আসছে, এ বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পায়নি।

আরো দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আফগানিস্তানে মার্কিন অর্থায়নে কোনো বিঘ্নতা ঘটেনি। অর্থায়ন বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও আফগানিস্তানে মোতায়েন কমান্ডারদের কাছে বারবার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে কংগ্রেস। তবে তারা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসপার এ বিষয়ে কোনো নির্দেশ দেননি।
প্রসঙ্গত, পম্পেও চলতি বছর ১০০ কোটি ডলার অর্থায়ন বাতিলের পাশাপাশি আগামী বছরও এই পরিমাণ অর্থায়ন বন্ধের প্রতিশ্রুতি করেছিলেন। তবে ঠিক কিভাবে তা করা হবে সে বিষয়ে কিছু প্রকাশ করেননি।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট

চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থায় প্রস্তুত ভারত

২৫ মে ২০২০

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর বিচার শুরু

এক দশকেরও বেশি জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর

২৪ মে ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত