কি সেই অশনি সংকেত?

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ১২ এপ্রিল ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৪৪

প্রতীকী ছবি
চারদিকে সরকারি চাল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি কারবার। জনপ্রতিনিধি, ডিলার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এরইমধ্যে আজ সকালে জামালপুরের নরুন্দি ইউনিয়ন থেকে জব্দ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কেজি ওএমএস-এর চাল। যে চাল ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার কথা। এসব চালের হকদার হলেন গরীব, দুঃস্থ, অসহায় মানুষ। সরকার এসব মানুষের সহায়তায় দ্রুত দেশব্যাপী ওএমএস- এর চাল সরবরাহ করেছেন। আর এ চাল ডিলাররা গরীব, দুঃস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিক্রি করবেন। কিন্তু সেই ডিলাররাই তা হকদারদের কাছে বিক্রি না করে বেশি লাভের আশায় বাঁকা পথে বিক্রি করছেন।
জামালপুরের নরুন্দি ইউনিয়নের সেই ডিলারও তা অন্যত্র বিক্রির জন্য গুদামে লুকিয়ে রেখেছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে আজ সকালে গিয়ে পুলিশ তা জব্দ করে। এ ব্যাপারে মামলাও হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে ওই ডিলার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। কথায় বলে- খাসিয়ত যায়না মলে/ইজ্জত যায়না ধুলে। বিশ্বব্যাপী যখন করোনার কাল থাবা। লাসের সারি। বাংলাদেশে চলছে লকডাউন। অনাহারে আছে বেশিরভাগ দরিদ্র, দিনমজুর পরিবার। এ সময়েও যারা গরীবের হক মেরে মুনাফার চিন্তা করে- তারা কি মানুষ? ছিঃ, লজ্জা হয় তাদের দেখলে। করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছে দেশের প্রতিটি মানুষ। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র একই অবস্থা। হাহাকার চারদিকে। কাজহারা লাখ লাখ শ্রমিক। বন্ধ হয়ে আছে বহু কল কারখানা। দুগ্ধ খামারিদের কান্নায় বাতাস ভারি হচ্ছে। প্রতিদিন শুধু দুগ্ধ খামারিরা লস দিচ্ছে ৬৭ কোটি টাকা। দুধ বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিতে হচ্ছে। পোল্ট্রি খামারিরাও বিপদে। তিন টাকা করেও একটি ডিম বিক্রি করতে পারছেনা। সবকিছু বন্ধ। চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা। প্রতিটি খাতেই অন্ধকার। অর্থনীতির চাকা অচল। এ অচলতা বিশ্বজুড়ে। অশনি সংকেত হলো- করোনার পর আসছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা। প্রতিটি দেশই থাকবে নিজেদের সামলে নিতে ব্যস্ত। গাও গ্রাম থেকে ভাল খবর আসছেনা। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক প্রবাসী ফোন করছে দেশে। তাদের হাতে টাকা নেই। কেউ কেউ টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছে। বলছে, জীবন বাঁচাতে হলে টাকা পাঠান। এসব আলামত ভাল নয়। এরইমধ্যে সরকারের উপর চাপ বাড়ছে অবৈধ প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার। ইতোমধ্যে কোন কোন দেশ থেকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখানেই কিন্তু শেষ নয়। করোনার পর প্রবাসীদের দেশে ফেরার লাইন পরবে। এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটা হলে হবে ভয়াবহ অবস্থা। এমনিতেই দেশের প্রধান দুটি খাতে তথৈবচ অবস্থা। গার্মেন্ট খাতের চাকা অচল। রেমিটেন্স খাতও স্থবির। সামনের দিন যে কঠিন সময় আসছে যে কেউ চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারে। তবে আশার কথা- বিশ্বায়নের এ যুগে কোন দেশই বসে থাকবেনা। গোটা বিশ্ব সম্মলিত প্রচেষ্টায় কঠিন সময় উৎরে যাওয়ার লড়াইয়ে নামবে। সফলও হবে। এর আগে বর্তমান সময়কে মোকাবিলাই কঠিন। এর উপর যদি সরকারের মহৎ উদ্যোগে শকুনের থাবা পড়ে তাহলে অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ। তাই ওএমএস চোর, অনুদান চোরদের এখনই রুখতে হবে। মনে রাখতে হবে ড্রাম ভরা দুধ কিন্তু নষ্ট করে দিতে পারে গরুর এক ফোঁটা ছেনা বা মূত্র।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Anwar

২০২০-০৪-১২ ২২:১৭:০০

All of rice smugglers are from Awamileague

জামশেদ পাটোয়ারী

২০২০-০৪-১২ ২১:৪৪:৫৭

গরিবদের জন্য বরাদ্ধকৃত চালে ইচ্ছে করেই শকুনদের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সরকারের কাছে চাল বিতরণের ভাল অপশন থাকার পরও তা কাজে না লাগিয়ে চোরদের সুবিধা করে দেয়া হয়েছে। দেশের সুশৃঙ্খল বাহিনীগুলোকে দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করলে এই চোরেরা চুরি করা তো দুরে থাক কাছে ঘেষারও সাহস পেতোনা। এখন চলছে লোক দেখানো আই-ওয়াশ, তথা হুশিয়ার করা হচ্ছে, অনিয়ম সহ্য করা হবেনা। ডিসিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যারা চুরি করছে তাদের তালিকা দেয়ার জন্য। যাতে ডিসিরা তালিকা করতে করতেই চোরের সাবাড় করে দিতে পারে।

শহীদ

২০২০-০৪-১২ ২০:১৩:০১

আপনার এতো টেনশনের দরকার কী? আমরা কী আগের মতো গরীব? আমাদের গরীব বলার সাহস আছে বিশ্বের? বিশ্ব তো অবাক কীভাবে আওয়ামীলীগের আমলে এতো ”উন্নয়ন” সম্ভব! গত 11টি বছর আমরা 1টি শিল্পজোন করতে না পারলেও পুড়িয়েছি অন্তত কয়েক ডজন। আমরা শ্রমবাজার খুলতে না পারলেও মালয়েশিয়ায় নিবে 5লাখ ”হুজুগ” তুলে অন্তত 1কেটি মানুষকে ছবি তোলা প্রতিযোগীতায় নামাতে পেরেছি।

Amir

২০২০-০৪-১২ ১৯:১২:৩১

দেশে মহামারি ,বন্যা,খরা, ঝড় ইত্যাদি হলে ওদের অবৈধ সম্পদ গড়ার সুযোগ আসে তাই নায় কি ?আসলেই কি ওরা মানুষ? আজ দুখু মিয়ার এই সমাজে খুব দরকার ছিল-- "আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার, আমি পিনাক-পাণির ডমরু ত্রিশুল, ধর্মরাজের দন্ড, আমি চক্র-মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড! আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য, আমি দাবানল-দাহ, দহন করিব বিশ্ব।"

Amir

২০২০-০৪-১২ ১৯:০৯:৫২

দেশে মহামারি ,বন্যা,খরা, ঝড় ইত্যাদি হলে ওদের অবৈধ সম্পদ গড়ার সুযোগ আসে তাই নায় কি ?আসলেই কি ওরা মানুষ? আজ দুখু মিয়ার এই সমাজে খুব দরকার ছিল-- "আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার, আমি পিনাক-পাণির ডমরু ত্রিশুল, ধর্মরাজের দন্ড, আমি চক্র-মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড! আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য, আমি দাবানল-দাহ, দহন করিব বিশ্ব।"

নাছিরউদ্দীন

২০২০-০৪-১২ ০৫:০৬:২০

সরকারের ভালো উদ্যোগে অলরেডি শকুনের থাবা পড়েছে। আর শকুন গুলো অতীব চেনা। ওরা ক্ষমতার আশেপাশেই আছে। সেই সাড়ে সাত কোটির সময় থেকে আজও এদের চরিত্র বদলায় নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এত সব ভালো উদ্যোগ এই চোরদের কারণে শতভাগ সফল হচ্ছে না। দেশ ও মানবতা বিরোধী এসব ঘৃন্য চোরদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আবুল কাসেম

২০২০-০৪-১২ ০৩:৫০:৪৩

গরীবের চাল চোরারা সময়ের সবচেয়ে বড় জানোয়ার। দুয়েকটাকে ধরে মৃত্যুদন্ড দিলে বাকিগুলো ভয়ে ঠিক হয়ে যেত পারে। অথবা কর্তৃপক্ষ হুমকির সুরে ঘোষণা দিয়ে ভয় দেখাতে পারেন যে, চাল চোর ধরা পড়লে শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড। তাতে যদি কিছু কাজ হয়। তবে বিষ্ময়কর ব্যাপার হলো, এই চাল চোরেরা এতো বেপরোয়া, অপ্রতিরোধ্য ও অমানবিক-অমানুষ কেন? চুরির ঘটনা প্রায় মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এগুলোকে কেউ বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেননি বা বলতে পারবেননা। জাতীয় চরিত্রের এই করুন দশা দেখে মনে হচ্ছে, জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার! গরীব মানুষের দুর্দশা লাগবে সরকারের সকল সদিচ্ছা ও উদ্যোগ ভেস্তে যাবে চাল চোরাদের এখনই রুখে না দিলে।

আপনার মতামত দিন



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত