মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ চিকিৎসাধীন ২৭

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৭

দেশে করোনা ভাইরাসে আরো একজন মারা গেছে। এতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজন। অন্যদিকে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। তাই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জনেই আছে। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো দুজন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন সাতজন। চিকিৎসাধীন আছেন ২৭ জন। দেশে লিমিটেড স্কেলে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ হয়ে থাকতে পারে।
বাড়ানো হচ্ছে-করোনা পরীক্ষার আওতা। গতকাল দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা  ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে আরো ৮২ জনের। এদের মধ্যে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। ফলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৯ জনেই আছে। তবে আগে থেকে যারা আক্রান্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে একজন বুধবার সকালে মারা গেছেন। তিনি একজন পুরুষ এবং তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। বিদেশফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে থেকে গত ১৮ই মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ২১শে মার্চ তাকে রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডা. ফ্লোরা জানান, দেশে বর্তমানে করোনা নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন এমন ৪৭ জন আছেন আইসোলেশনে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৭ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো দুজন। সব মিলিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট সাতজন। চিকিৎসাধীন আছেন ২৭ জন।

করোনা ভাইরাস ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ হয়েছে এখনও বলা যাচ্ছে না বলে আবারও জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা। তবে লিমিটেড স্কেলে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে আমাকে বিস্তারিত তথ্যের বিশ্লেষণে বলতে হবে, সেটা আমাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে তথ্য উপাত্তসহ পেশ করতে হবে। ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন নিয়ে’ কথা বলতে গিয়ে ‘লিমিটিড স্কেলে হয়ে থাকতে পারে’ এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা. সেব্রিনা বলেন, দুটো ক্ষেত্রে আমরা ইনভেস্টিগেশন করেছিলাম। তবে এখন পর্যন্ত সেটার সোর্স অব ইনফেকশন জানা যায়নি। সেক্ষেত্রে এটা লিমিটেড স্কেলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি। কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ডা. ফ্লোরা বলেন, লিমিটেড স্কেলে যে এলাকাটি নিয়ে আমরা কথা বলছি, সেখানে লোকাল ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে ভেবে আমরা ওই এলাকাটি সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে প্রতিরোধ করার জন্য কার্যক্রম নিয়েছি। অধ্যাপক সেব্রিনা বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপী কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে এরকম কোনও পরিস্থিতি হয়নি।

মঙ্গলবার যে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে তাতে পজিটিভিটির হার তুলনমূলকভাবে অনেক কম। একইসঙ্গে যেসব নিউমোনিয়া আছে যার ডায়াগনোসিস হয়নি কোথা থেকে হলো, সেগুলোর নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরকম দুটি কেস পজিটিভ পাওয়ার পর দেখা গেছে, বিদেশ আসা মানুষের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস ছিল। তাই এসব তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে লোকাল ট্রান্সমিশন হয়েছে এটা এখনও বলা যাবে না।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আরো বলেন, এখন মৃত্যু মানেই করোনায় তা নয়। কয়েকটি মৃত্যুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এগুলো পরীক্ষা করে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

আইইডিসিআর-এর পর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আরো কয়েকটি স্থানে করোনার নমুনা পরীক্ষা করবে। আইইডিসিআর’র পরিচালক এই তথ্য জানিয়ে বলেন, পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ে আইইডিসিআরে করা হবে। এখন যেহেতু রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে, পরবর্তীতে সাসপেক্টেড রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, সে কথা মাথায় রেখেই আমাদের পরীক্ষার পদ্ধতি আরেকটু সমপ্রসারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকার জনস্বাস্থ্য হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই রোগের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এ পরীক্ষা পদ্ধতি সমপ্রসারণ করা হচ্ছে। আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ঢাকার বাইরে আজ বা আগামীকালের মধ্যে পরীক্ষা পদ্ধতিগুলো শুরু হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে। অনেকে বলবেন, এ সংখ্যা এত কম কেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী যে সমন্ত মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজন, তার মানে যাদের মনে করা হয়, তাদের মধ্যে এই সংক্রমণ থাকতে পারে, কেবলমাত্র তাদের পরীক্ষা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা মেনে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে, সেখানে সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে আইইডিসিআর কাজ করছে। সেখানে যদি কারও মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ থাকে, তার নমুনা এনেও পরীক্ষা করছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষা পদ্ধতি ফলো করে যতজনের পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল, ততজনের পরীক্ষা করেছি।

প্রসঙ্গত, গত ৩১শে ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ এবং মারা গেছেন প্রায় ১৯ হাজার মানুষ। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ নয় হাজারের বেশি। বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ই মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন পাঁচজন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২০-০৩-২৫ ১৪:০২:২৫

১, ২, ৩, ৪, ৫ এই ভাবে বাড়বে সংখ্যা । আপনি বিবৃতি দিবেন আমরা পড়ব। তা চলবে। এখন ও রোগ সনাক্ত করার কিট নাই। সিলেটে রোগ পরীক্ষা করা সম্ভবপর হয়নি । স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও মন্ত্রীরা চাঁপাবাজি করেন আমরা প্রস্তুত । আমরা শক্তিশালী । তাহলে ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুর গিয়ে চিকিৎসা নিলেন কেন ?

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

‘লকডাউন’

২৭ মার্চ ২০২০

ছুটির নোটিশ

২৬ মার্চ ২০২০

আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মানবজমিন-এর সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। তবে ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত