কারাগারে বিদেশি বন্দি ৫৭৭

আল-আমিন

প্রথম পাতা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২৪

দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় ও ৫৫টি জেলা কারাগারে বিভিন্ন দেশের বন্দি রয়েছেন ৫৭৭ জন। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ৮৭ জন। এই ৮৭ জনের মধ্যে ৬ জন বিদেশি নারী। মাদক চোরাচালান, অবৈধ উপায়ে স্বর্ণ পাচার, নানারকম প্রতারণা, জাল ডলার ব্যবসা, পাসপোর্ট জটিলতা, অবৈধ ভিওআইপি’র ব্যবসা ও মানব পাচারের অভিযোগে বন্দি রয়েছেন তারা। জামিন ও আইনগত  জটিলতায় প্রায়  ১২ জন বন্দি জেলখানা থেকে মুক্ত হতে পারছেন না । বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে জানালেও কোন সমাধান মেলেনি। তবে কারা কর্তৃপক্ষ ওইসব দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। একাধিক বন্দির খোঁজ পাওয়া গেছে যে, তারা আদালতের মাধ্যমে জামিন লাভের পরও আবারও নতুনভাবে জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপরাধে।
পুলিশ আবারও তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের পাঠিয়েছেন কারাগারে। ওইসব বন্দিরা অধিকাংশ আফ্রিকা মহাদেশের নাগরিক। কারাগারের আলাদা সেলে বিদেশী বন্দিদের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও কঠোর সতর্ক দৃষ্টিতে রাখা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা-মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন মানবজমিনকে জানান, ‘নানা অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ৫৭৭ জন বিদেশী বন্দি দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছে। ওইসব বন্দিদের রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে।’

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে দিন দিন বাড়ছে বিদেশী বন্দিদের সংখ্যা। গত বছরে সারাদেশের কারাগারে প্রায় ৩০০ জন বন্দি ছিলো। চলতি বছরে প্রায় দেড় শতাধিক বেড়েছে। ৫৭৭ জনের মধ্যে প্রায় ১৯ টি দেশের বন্দি বেশী রয়েছে। তারা বাংলাদেশে এসে অপরাধ প্রবনতায় জড়িয়ে অথবা নানা কারণে এখন জেলে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, যারা বন্দি রয়েছেন তারা অধিকাংশই প্রতারণা ও  পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় বন্দি রয়েছেন। আফ্রিকা মহাদেশের একাধিক দেশ,  ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকেরা ভিজিট ও বিজনেস ভিসা নিয়ে দেশে এসেছিলেন। তারা বাংলাদেশে এসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করছিলেন। এসময় তাদের নামে অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়। এরপর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।

সূত্র জানায়, কোন কোন বিদেশী নাগরিক দেশে অবৈধ উপায়ে স্বর্ণ আনা ও জাল ভিসার কারণে বিমানবন্দরেই আটক হয়েছিলেন। এরপর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছিলো। এছাড়াও যারা কারাগারে রয়েছেন তারা অধিকাংশই আফ্রিকা দেশের নাগরিক। তারা নানারকম প্রতারণার দায়ে জেলে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, সারাদেশে ৫৭৭ জনের মধ্যে ৮৭ জন  কেরানিগঞ্জর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পার্ট-২ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। এসব নাগরিকেরা হলেন, পাকিস্তানের ১৭ জন, ভারতের ১৭ জন, কামেরুনের ৭ জন, মালয়েশিয়ার ৭ জন, চীনের ৬ জন, নাইজেরিয়ার ৬ জন, ইউক্রেনের ৬ জন, মিয়ানমারে ৪ জন, গিনির ৪ জন, জাপানের ৪ জন, পেরুর ২ জন, মালির ১ জন, দক্ষিণ কোরিয়ার ১ জন, নেপালের ১ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১ জন, স্পেনের ১ জন, আলজেরিয়ার ১ জন, জার্মানীর ১ জন, তানজেনিয়ার ৩ জন। এরমধ্যে ৬ জন বিদেশী নারী বন্দি রয়েছেন। তারা হলেন- পাকিস্তানের ৩ জন, ভারতের ২ জন ও তানজেনিয়ার ১ জন।

সূত্র জানায়, ৫৭৭ জনের মধ্যে প্রায় ১২ জন বিদেশী বন্দি পাসপোর্ট ও আইনগত জটিলতার কারণে মুক্ত হতে পারছেন না। তাদের পাসপোর্টে সংশ্লিষ্ট দেশের ভুল ঠিকানা রয়েছে। এতে ওই দেশের দূতাবাসগুলো মনে করেছে যে, বন্দি হাজতি তাদের নাগরিক নয়। তারা অন্য দেশের নাগরিক। তারা তাদের দেশে ওই বন্দিকে ফেরত নিতে রাজি হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষ বার বার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে অবহিত করার পরও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে অভিহিত করবেন বলে জানা গেছে।  

সূত্র জানায়, যেসব বন্দি কারাগারে আছেন তাদের দেখতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা কারাগারে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। তারা তাদের মামলার সর্বশেষ খবর নেন। ওইসব বন্দি মুক্ত হলে তাদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলে জানা গেছে।  

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা সেলে রাখা হয়। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে ওইসব সেলের বাইরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। তবে বিদেশী বন্দিরা কারাগারের অন্যান্য হাজতিদের মতই একই রকম খাবার পেয়ে থাকেন।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

‘লকডাউন’

২৭ মার্চ ২০২০

ছুটির নোটিশ

২৬ মার্চ ২০২০

আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মানবজমিন-এর সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। তবে ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত