শ্রদ্ধা ভালোবাসায় অমর একুশে পালিত

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩০

বাংলা। এটি শুধু ভাষার নাম নয়। এটি একটি সংগ্রাম গাথা অধ্যায়ের নাম। যে অধ্যায়ের মলাট রক্ত লাল। অধ্যায়টি রচিত হয়েছে দামাল ছেলেদের তাজা বুকের রক্তে। যে অধ্যায়ের পাতায় পাতায় রক্ত ছোঁয়া। পাকিস্তানি শাসক দলের চাপিয়ে দেয়া ভাষাকে না বলেছেন রফিক, শফিক, জব্বাররা। মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষায় রূপ দিতে বুক পেতে দিয়েছেন বন্দুকের সামনে।
বুলেটের আঘাতে মাতৃভাষাকে অর্জন করেছেন তারা। বিশ্বের একমাত্র জাতি যাদের ভাষার জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে, দিতে হয়েছে রক্ত।

এই কৃতিত্বপূর্ণ আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিয়েছে পুরো বিশ্ব। দিবসটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরব লাভ করে।

১৯৫২ সালের সেই ভাষা শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতি স্মরণ করেছে। নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশে পালিত হয়েছে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।  দিবসের প্রথম প্রহরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদ মিনারে কিছুসময় নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মেয়র সাঈদ খোকন আর উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র। বি?রোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বেদীতে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সম্মান জানান। আর বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরেই শহীদ মিনার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি’ও। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সঙ্গে ছিলেন। ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন মন্ত্রী, ভাষা সৈনিকবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ, বিদেশি সংস্থার প্রধানগণ।

উন্মুক্ত শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই নামে জনতার ঢল। যে ঢল চলতে থাকে পুরোদিন। আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় ছিলো। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল শহীদ মিনার ঘিরে। এছাড়াও স্কাউট, বিএনসিসির সদস্যরা ছিলেন কর্মমুখর।

রাত ১২টায় প্রথম প্রহরের পর ভোর পেরিয়ে সকাল হতেই নানান রঙের ফুলে আবারও ভরে উঠে শহীদ বেদি। অমর একুশে স্মরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, দাতব্য ও পেশাজীবী সংগঠন প্রভাত ফেরি বের করেন। শহীদ মিনারে যাওয়ার রাস্তা থেকে শুরু করে দেয়াল পর্যন্ত ফুটিয়ে তোলা হয় নানা রঙের আচড়ে। আলপনাসহ আঁকা হয় ভাষা শহীদদের বিভিন্ন প্রতিকৃতি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে যানজট লক্ষ্য করা যায় পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ আশপাশের এলাকায়। গতকাল সকাল থেকেই ধানমন্ডি লেক, চন্দ্রিমা উদ্যান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, গুলশান লেক, হাতির ঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। সাদাকালো পোশাকে এসেছেন তারা। ছোট্ট শিশুটি বাবা, মায়ের হাত ধরে ঘুরছে ফিরছে উন্মুক্ত হাওয়ায়। শিশুটি স্বাধীনভাবে ডাকছে মা-বাবা। এটাই মাতৃভাষার সৌন্দর্য। এটাই প্রাপ্তি। যান্ত্রিক এই শহরে গাছগাছালীর সংস্পর্শ পেতে ছুটির দিনই প্রধান ভরসা। এই উদযাপন ভাষার স্বাধীনতার। এই সাদাকালো পোশাক শহীদদের প্রতি শোক প্রকাশের।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

বড় সংকটে শ্রমবাজার

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কের জনপদ নিউ ইয়র্ক

আরো চার বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ মার্চ ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত