নাগরিকত্ব আইন নিয়ে পিছু হটবে না ভারত সরকার

কলকাতা প্রতিনিধি

শেষের পাতা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৫৭

দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও বিরোধীদের প্রবল চাপ সত্ত্বেও ভারত সরকার নতুন সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে পিছু হটবে না। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভের মাঝেই ফের এভাবেই নিজেদের দঢ় অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে কাশ্মীর থেকে সংবিধানের   ৩৭০ ধারা বিলোপ প্রসঙ্গেও দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। রোববার নিজের লোকসভা কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ ও সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে নেয়া হয়েছে। চাপ সত্ত্বেও আমরা সেই সিদ্ধান্তেই অনড় থাকছি। আর সেটাই করব। এদিকে রোববার সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তাদের মতামত জানাতে দিল্লির শাহিনবাগে আন্দোলনকারী মহিলার মিছিল করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তাদের পুলিশি বাধায় ফিরে আসতে হয়েছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে যে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে রাজি বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সেই ঘোষণাকে হাতিয়ার করেই সিএএ এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে আলোচনার জন্য রোববার দুপুরে অমিত শাহের বাড়ির দিকে এগিয়ে গিয়েছিল শাহীন বাগের ৫ হাজার প্রতিবাদী। শাহের প্রস্তাব ছিল, কেউ তার অফিসে যোগাযোগ করলে তিনদিনের মধ্যে দেখা করার সময় দেবেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেই দেখা হলো না। পুলিশি বাধায় আটকে গিয়েছেন শাহীন বাগের প্রতিবাদীরা। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছেন, প্রতিবাদীদের কয়েকজনকে তারা যেতে দেয়ার কথা জানালে প্রতিবাদীরা তা মানতে চাননি। এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, অমিত শাহ নিজেই প্রত্যেককে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু দেখা করার কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। অন্য এক বয়স্ক মহিলার কথায়, আমাদের কোনো প্রতিনিধি বা নেতা নেই। আমরা প্রত্যেকেই শাহের সঙ্গে দেখা করতে চাই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিক, যাদের সিএএ-এনআরসি এবং এনপিআর নিয়ে ধন্দ রয়েছে, তাদের অনুরোধ করবো, আপনারাও জবাব চাইতে প্রধানমন্ত্রী এবং শাহের কাছে গিয়ে দেখা করুন। অন্যদিকে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরেও চলছে শাহীনবাগের মতো সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন। রোববার আচমকাই আন্দোলনকারী কাছে হাজির হয়েছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে গেহলট বলেছেন, শান্তি ও সংহতি রক্ষার প্রয়োজনে সরকারের উচিত সিএএ প্রত্যাহার করা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তিনি নিজেই বাবা-মায়ের জন্মস্থান জানেন না। এই তথ্য চাওয়া হলে তিনিই প্রথম আটক শিবিরে (ডিটেনশন সেন্টারে) যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী গেহলট এদিন ফের বলেছেন, সিএএ সংবিধান বিরোধী, আর তাই এনডিএ সরকারের উচিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ফের ভেবে দেখা।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

বড় সংকটে শ্রমবাজার

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কের জনপদ নিউ ইয়র্ক

আরো চার বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ মার্চ ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত