সংবাদপত্র জগৎকে বদলে দেয়ার নাম মানবজমিন

শামীমুল হক

প্রথম পাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৭

চোখের পলকে পেরিয়ে গেল বাইশটি বছর। মানবজমিন আজ পা দিয়েছে তেইশে। দীর্ঘ এ সময়ে স্মৃতির মলাট ভারী হয়েছে অনেক। একঝাঁক তরুণ, মেধাবী সাংবাদিক নিয়ে পথচলা শুরু। আর এর মধ্যমণি হলেন দেশের সংবাদপত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মতিউর রহমান চৌধুরী। চারদিকে হাঁকডাক। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম রঙিন ট্যাবলয়েড আসছে বাজারে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ব্যতিক্রমধর্মী বিজ্ঞাপন।
নজরকাড়া এ বিজ্ঞাপন আকৃষ্ট করে পাঠক মহলকে। ১৯৯৮ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই প্রকাশ হয় মানবজমিন। এর আগেই দেশজুড়ে আলোচনা কি আছে এ ট্যাবলয়েড পত্রিকায়? পশ্চিমা ধাঁচের ট্যাবলয়েড পাঠক কীভাবে নেয়? ছিল নানা শঙ্কা। প্রথম দিনের লিড নিউজ ‘হাসিনার চালে হতবাক খালেদা’। লুফে নেন পাঠক। হাতে হাতে দৈনিক মানবজমিন। কোথাও কোথাও পত্রিকা নিয়ে কাড়াকাড়ি। এ এক অবিশ্বাস্য কাহিনী। বাংলামোটরের ওয়ালসো টাওয়ারে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী ধন্যবাদ জানান সহকর্মীদের। সেই যে শুরু এখনো চলছে। তবে, দীর্ঘ এ পথচলা মসৃণ ছিল না। ‘কারো তাঁবেদারি করে না’ স্লোগান সাহস যুগিয়েছে মানবজমিন কর্মীদের। সেই স্লোগানকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে মানবজমিন। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কে এম বাবর আশরাফুল হক শুরু থেকেই ছায়ার মতো আছেন। আর টেকনিক্যাল এডিটর হিসেবে দূর প্রবাস থেকেও দেখভাল করেন ড. মেহযেব রহমান চৌধুরী। মানবজমিন দেশের পত্রিকা জগতের অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। প্রতিদিন বিনোদন পাতা বের করার ক্রেডিট মানবজমিন-এর ললাটেই। শুধু তাই নয়, মানবজমিন গোটা পত্রিকা জগতের সময়কে বদলে দেয়। সে সময় গভীর রাত পর্যন্ত সাংবাদিকরা কাজ করতেন অফিসে। ভোররাতে প্রেসের চাকা সচল হতো। কোনো কোনো জেলা শহরে পত্রিকা পৌঁছাতো বিকালে, সন্ধ্যায় কিংবা রাতে। আবার কোনো জায়গায় পৌঁছাত পরদিন। প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর নির্দেশ সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে পত্রিকার কাজ শেষ করতে হবে। এরপরই ছাপা। রাতের মধ্যে বাংলাদেশের সকল জেলায় পৌঁছে যাবে পত্রিকা। যেই নির্দেশ সেই কাজ। অসম্ভবকে সম্ভব করা হলো। সকাল আটটার মধ্যে পাঠক পত্রিকা হাতে পেয়ে যাচ্ছেন।

পরে দেশের সকল পত্রিকা তাদের সময় এগিয়ে আনে। সাংবাদিকদের রাতব্যাপী কাজ থেকে মুক্ত করার ক্রেডিটও মানবজমিনের। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মানবজমিন-এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ হারুন-উর-রশীদ। বর্তমান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের ‘চাচার পাঁচালি’ মানবজমিন পাঠকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। প্রয়াত আহমদ জামান চৌধুরীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমৃত্যু লিখে গেছেন মানবজমিন-এ। শুরু থেকে  বার্তা সম্পাদক আহমেদ ফারুক হাসান তার সহকর্মীদের নিয়ে প্রাণপণ লড়াই করেছেন। দেশের তারকাখ্যাত রিপোর্টারও তৈরি হয়েছে মতিউর রহমান চৌধুরীর হাত ধরে। প্রতিষ্ঠালগ্নে মানবজমিনে কাজ করেছেন মিজানুর রহমান খান, সিরাজুল ইসলাম কাদির, শহিদুল আজম, মিলান ফারাবী, জাহেদ চৌধুরী, ফখরুল আলম কাঞ্চন, কাজী হাফিজ, মুজাহিদ আনসারী, কাওসার মাহমুদ, দেলোয়ার হোসেন, নাজমুল আহসান, মাসুদ করিম, মুহিবুল হোসেন জিতু, সারোয়ার হোসেন, ইমরুল সুমন, আজহার মাহমুদ, শওকত ওসমান রচি, সালেহউদ্দিন, আহসান কবীর, শাহনাজ মুন্নী, ইকবাল করিম নিশান, লায়েকু্‌জ্জামান, রুমা পাল, বাছির জামাল, হুমায়ূন কবির খোকন, মিজান মালিক, তৌহিদুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার, বিশ্বজিৎ দত্ত, রিয়াজুল ইসলাম, নিয়াজ মাহমুদ। বিভিন্ন পৃষ্ঠার দায়িত্বে ছিলেন আলফ্রেড খোকন, কবি সরকার আমিন, মুজিব ইরম, আরিফ হায়দার, শায়ের খান, অনন্ত উজ্জল। পরে এসে যোগ দেন শওকত মাহমুদ, আশরাফ খান, মোস্তাফিজ শফি, মনোয়ারুল ইসলাম, কামাল হোসেন, নাশরাত চৌধুরী, মুজিব মাসুদ, হারুনুর রশীদ, মামুন আব্দুল্লাহ, মনির হায়দার, দেলোয়ার হোসেন, মনিজা রহমান,  ফয়সল নোই, হুসাইন জাকির, রফিকুল ইসলাম মন্টু, আকতার হোসেন, ওমর ফারুক, আসলাম রহমান, চাঁদনী হায়দার, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, নাজমুল ইমাম, মাসুদুল আলম তুষার, শেখ মামুনুর রশীদ, জিলানী মিল্টন, আশরাফুল হক রাজীব, মাশহুদুল হক, তারেক মোর্তুজা, আতিকুর রহমান, হামিদ বিশ্বাস, আরজে নীরব, সৌমিত্র দেব, অংশুমান ওবায়েদ, আরিফ হোসেন, আবুল কাশেম, রাজীব আহমেদ, উৎপল রায়, মোকতাদির চৌধুরী, রকিবুল ইসলাম মুকুল, অমিতোষ পাল, হাসান শাফিঈ, সালমান ফরিদ, আহমেদ জামাল, আলমগীর শাহরিয়ার, তুহিন সানজিদ, মো, ওবায়দুল্লাহ, টুটুল রহমান, ইন্দ্রজিৎ সরকার, শর্মী চক্রবর্তী, ফিরোজ মান্না, আসাদুজ্জামান সম্‌্রাট, কিসমত খন্দকার, ইলিয়াস হোসেন, মারুফ মল্লিক, সাব্বির নেওয়াজ, কাজী সায়েমুজ্জামান, হাসানুল কাদীর, ফারুক আহমেদ মেহেদী, নিজামুল হক বিপুল,  জামিউল আহসান শিপু, ওবায়দুল্লাহ বাদল, সাখাওয়াত কাওসার, পবন আহমেদ, বকুল আহমেদ, কামরুজ্জামান বাবুল, তৌফিক উদ্দিন, নাহিদ মেরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস কেকা, নাজনীন আখতার, ইমরান সুমন, নাজিয়া আফরিন, মোরছালিন বাবলা, জামাল উদ্দিন, নুরুজ্জামান, তহুর আহমেদ, নুরুজ্জামান লাবু, তাকি মো. জুবায়ের, মঞ্জুরুল ইসলাম, মোস্তফা কাজল, আবদুল্লাহ তুহিন, শফিক শাহীন, আহমেদ পিপুল, নিয়াজ জামান সজীব, নূর মোহাম্মদ, শাহ আলম, মো. জাকারিয়া, রোকেয়া ইসলাম, শহীদুর আলম ইমরান, কোহিনুর আকতার সোমা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানবজমিন-এর আপনজন হিসাবে সঙ্গে রয়েছেন হাসান শাহরিয়ার। সাহিত্য পাতার দায়িত্বে ছিলেন রাজু আলাউদ্দিন। আর সম্পাদকীয় পাতা দেখতেন আজিজ মিসির। ছিলেন আবু সাইয়িদ খান। পিআইবি’র পরিচালক কবি সাযযাদ কাদির চাকরি থেকে অবসরের পর সরাসরি যোগ দেন মানবজমিনে। ছড়াকার আনজীর লিটন শুরু থেকেই মানবজমিনের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি শিশু একাডেমির পরিচালক।  জালাল আহমেদ পেজ ম্যাকআপের বিষয়টি দেখতেন। আর আশরাফুল নওশাদ ছিলেন হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের প্রধান। কাজী আদরের লেখার আলাদা ভক্ত তৈরি হয়েছিল পাঠক মহলে। গরল কথাটিও তিনি ফুটিয়ে তুলতেন সহজ সরল ভাষায়। বিনোদনের লেটেস্ট আপডেট শুধু নয়, শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল তথ্যের ভান্ডার ছিলেন মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন। তার বহু এক্সক্লূসিভ রিপোর্ট দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। চট্টগ্রামের ব্যুরো প্রধান হিসেবে সামসুদ্দিন হারুণ শুরু থেকেই কাজ করছিলেন।

সিলেটে ছিলেন চৌধুরী মুমতাজ আহমেদ। নিউইয়র্ক থেকে একসময় লিখেছেন আবু তাহের, আমেরিকা থেকে কাওসার মুমিন ও লন্ডন থেকে তানজীর আহমেদ রাশেল রিপোর্ট পাঠিয়ে পত্রিকাকে সমৃদ্দ করেছেন। সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ ছিল অফিসে। এসব সহকর্মীদের কেউ কেউ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন পরপারে। আজকের এই দিনে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। বহু ঘটনার স্বাক্ষী মানবজমিন। শুরুর দিকের ঘটনাই এটি। এক সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরেই শুনতে পাই মানবজমিন কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। সাতটার মধ্যে কাজ শেষ করে সহকর্মীরা ফিরে গেছেন বাসায়। এরই ফাঁকে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় অফিসে। ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।

বিজ্ঞাপনের ক’জন কর্মী ও পিএবিএক্সের সহকর্মীকে মারধর করা হয়। সন্ত্রাসীরা ভেবেছিল অফিস জমজমাট থাকবে সন্ধ্যার পর। তখনই হামলা চালানো হবে। কিন্তু সাতটার মধ্যে পত্রিকার কাজ শেষ করায় বেঁচে যাই আমরা সবাই। সে সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের একটি রিপোর্টে ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালায় জাপা নেতাকর্মীরা। আর মামলা, হয়রানি তো নিত্যসঙ্গী। মানবজমিন এগিয়ে চলছে তার গতিপথে। বর্তমানে যারা কাজ করছেন তারাও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এখনো সেই তারুণ্যের দাপট। প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে দিনরাত পরিশ্রম করছেন সাজেদুল হক। আর বার্তা সম্পাদক কাজল ঘোষ তার দায়িত্বের পাশাপাশি অবিরাম লিখে যাচ্ছেন। সিটি এডিটর ও প্রধান প্রতিবেদক লুৎফর রহমান রিপোর্টারদের নিয়ে হৈ-হুল্লোড়ে মেতে থাকেন সবসময়। অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া ও আদায় করার গুরুদায়িত্ব পালন করছেন গুরুত্বের সঙ্গে। ফিচার এডিটর হিসেবে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মু. আ. কুদ্দুস। বিশেষ প্রতিনিধি দীন ইসলাম ও বিএনপি বিটের অভিজ্ঞ রিপোর্টার কাফি কামালের অনেক রিপোর্ট আলোড়ন তুলেছে দেশজুড়ে। সিনিয়র রিপোর্টার কাজী সোহাগ আজ সংসদে তো কাল আওয়ামী লীগ অফিসে।

পরশু আবার যাচ্ছেন বিটিসিএল অফিস কিংবা অন্য কোনো অ্যাসাইনমেন্টে। কূটনৈতিক রিপোর্টার মিজানুর রহমান সবসময় থাকেন ব্যস্ত। বিশ্ব নিয়ে ভাবনা তার। আর অর্থনৈতিক রিপোর্টার এমএম মাসুদ অর্থের ভাণ্ডারের খোঁজ রাখেন নিয়মিত। শেয়ারবাজারে গেলে হতাশ হয়ে ফেরেন। সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্যস্ত তামান্না মোমিন খান। প্রতিদিনই তার দেশের বিশিষ্টজনের কারো না কারো সঙ্গে কথা হচ্ছে। স্বাস্থ্য নিয়ে কাহিল ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এখন আবার সচিবালয়েও দৌড়ঝাঁপ করছেন। ক্রাইম আঁকড়ে ধরে আছেন রুদ্র মিজান। তার সঙ্গী শুভ্র দেব, আল-আমিন, মরিয়ম চম্পা।  দুদক আর দুর্নীতি নিয়ে তটস্থ মারুফ কিবরিয়া। অন্যদিকে আইন আদালত নিয়ে দিন পার করেন রাশিম মোল্লা। ইদানীং শিক্ষা নিয়ে ভাবছেন পিয়াস সরকার। আর যখন যেখানে প্রয়োজন হাজির হন মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বিএনপি বিটের দায়িত্ব পালন করছেন শাহনেওয়াজ বাবলু, নির্বাচন কমিশনে আদ্যোপান্ত শাকিল আহমেদের জানা। কলকাতা প্রতিনিধি হিসাবে শুরু থেকেই রয়েছেন পরিতোষ পাল। সম্প্রতি বাংলারজমিন বিভাগ থেকে রিপোর্টিংয়ে যুক্ত হয়েছেন নূরে আলম জিকু। প্রতিদিন সকালে অনলাইনের দরজা খুলেন রোকনুজ্জামান পিয়াস। তাকে সঙ্গ দেন এ বি কাওনাইন কবির। আর বিকালে রয়েছেন আলতাফ হোসাইন। রাতে অনলাইনে মানবজমিন আপডেট করেন আবদুর রউফ রনি, ইমরান কেটি ও তারেক আজিজ। প্রধান ফটো সাংবাদিক শাহীন কাউসার এখন ব্যস্ত ভিডিও নিয়ে। প্রায়ই ভিডিও নিয়ে এসে বসে পড়েন ইমরানের পাশে। আর তার সহকারী হিসেবে আছেন ডায়নামিক জীবন আহমেদ। ফটো সাংবাদিক হিসাবে মানবজমিনে শুরু থেকে কাজ করেছেন কাজী বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে বিশাল এক টিম। এ টিমে ছিলেন, এ হাই স্বপন, কাজল হাজড়া, মুয়ীদ খন্দকার, তারেক আজিজ, লুৎফর রহমান, জয়নাল আবেদীন, গোলাম মোস্তফা, রাজু দিক্ষিৎ, সঞ্জিব বসাক, লিটন, আরিফ ডন, সেন্টু, মো. তামিম ও নাসির উদ্দিন।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের দায়িত্ব পালন করছেন সায়েন্স ফিকশন লেখক আবুল হোসেন। এখানে আরো আছেন জাহিদুর রহমান রিফাত ও অনিম আরাফাত। এ বিভাগে কাজ করেছেন, হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী, ওয়াকিল আহমেদ, আজিজুর রহমান, এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া, রেফায়েত হোসেন, কাজী আরিফ, হাসনাইন মেহেদী, নাজমুল আহসান, মেজবাহ উল হক সহ আরো অনেকে।  

পাঠককে বিনোদনের খবরাখবর পৌঁছে দিতে কাজ করছেন মোশাররফ রুমী। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস কাজ করে যান একমনে। তার সঙ্গে আছেন ফয়সল রাব্বিকিন, কামরুজ্জামান মিলু, এনআই বুলবুল। এ বিভাগে শুরু থেকে কাজ করেছেন ইকবাল করিম নিশান, জামাল রেজা, পর্সিয়া সুলতানা, সীমান্ত খোকন, রাগীব হাসান। মাহমুদ মানজুর, সাইফ চন্দন, শাহ আলম সাজুও পরে এসে যোগ দেন। এক সময় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর যোগ দেন মানবজমিন-এ। বিনোদনের আদ্যোপান্ত নিয়ে তিনি লিখেছেন নিয়মিত। বিনোদন জগতের আলোচিত ফটোগ্রাফার মুজাহিদ সামিউল্লাহ এখনো বহন করছেন ক্যামেরা। দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে দেশের যাত্রা শিল্প নিয়ে লিখেছেন মিলন কান্তি দে। বাংলারজমিনের দায়িত্বে আছেন কাজী সুমন। আরো আছেন তানিয়া মোমিন খান, সুদীপ অধিকারী ও তাইমুন ইসলাম রায়হান।

স্পোর্টস বিভাগে সামন হোসেনের নেতৃত্বে আছেন ইশতিয়াক পারভেজ, আনোয়ার হোসেন পিন্টু, আরিফুর রহমান ও মুশফিকুর রহমান শাহ। এ বিভাগে শুরু থেকেই কাজ করেছেন, পারভেজ আলম চৌধুরী, এমএম কায়সার, জাবেদ খসরু, রানা হাসান, আবদুল্লাহ সায়ীদ, শামসুল ইসলাম কবীর, সুরভী গোলদার, আজাদ মজুমদার, জুলফিকার হায়দার, তালহা বিন নজরুল, সুদীপ্ত আনন্দ, মাকসুদা লিজাসহ অনেকে। সম্পাদনা সহকারী বিভাগে বানান নিয়ে কারবার করছেন গাজী আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে সৈয়দ জামাল উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, এজাজ রসুল সোহেল। সম্প্রতি যোগ দিয়েছে ইয়ানুর। এ বিভাগে আরো কাজ করেছেন আবুল হাসেম সরকার, সলিমুল্লাহ সলিম, আবু জাফর খান, মোরশেদ আলম, মোবারক হোসেন, আবুল খায়ের, আবু সাঈদ, ওমর ফারুক, জামাল হোসেনসহ অনেকে।  
শিল্প ও আর্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন জাহিদুর রহমান খান সুমন। আর কম্পিউটার বিভাগ আগলে রাখছেন মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ একঝাঁক কর্মী। রয়েছেন ছানাউল্লাহ নূরী, আজিজুল হক দুলাল, নাছির উদ্দিন শরীফ, আবদুর রহিম, শাহজাহান তালুকদার, আবু ইউসুফ, চিত্তরঞ্জন দেবনাথ ও আবুল কালাম মজুমদার জসিম। এ বিভাগের সবচেয়ে প্রাণখোলা, হাসিখুশি সহকর্মী ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক। অকালে আবু বকর পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়।

হিউম্যান রিসোর্স বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছেন মো. আনিসুর রহমান। হিসাব বিভাগকে শুরু থেকেই আগলে রেখেছেন নিজাম উদ্দিন। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মনির হোসেন। সার্কুলেশন বিভাগের পুরো দায়িত্ব সারোয়ার হোসেন টুটুলের কাঁধে। মাঝে মাঝে গভীর রাতে তাকে দৌড়াতে হয় প্রেসে।  এ বিভাগে আরো আছেন মাঈনুল হক, রহিমা বেগম রেখা, মহসিন আলী, আবদুর রহিম ও ইসমাঈল হোসেন। আর বিজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান মোশাররফ হোসেন। তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন গোলাম কিবরিয়া, আবু হানিফ ঢালি, রাফায়েতুল ইসলাম রবিন, সেলিম রেজা, দেলোয়ার হোসেন, রবিউল ইসলাম, নাজমুল হক, রীনা হালদার, আরিফুল ইসলাম, সোহেল রানা ও শারমিন আক্তার সালমা। অঙ্গ সজ্জায় রয়েছেন সামছুর রহমান সাচ্চু, আলমগীর হোসেন ও জয়নাল আবেদীন জুয়েল। কম্পিউটারে ত্রুটি হলেই ডাক পড়ে সিদ্দিকুর রহমান ও মারুফ আহমেদের। পিএবিএক্সের মাধ্যমে সংযোগ ঘটান ফেরদৌসি বেগম ও কবিরুল ইসলাম। মাঝে মাঝে খলিলুর রহমান এ জায়গা দখল করেন। আর পান থেকে চুল খসলেই ডাক পড়ে সাত্তার মুন্সীর। তার নেতৃত্বে অফিস সহকারী হিসেবে রয়েছেন শাহীনুল ইসলাম,  মোহাম্মদ আলী, আনিস খন্দকার, শাহ খাজা আহমদ, সিরাজুল ইসলাম সুরুজ, সুজন মিয়া, মো. আহসান উল্লাহ ও মিলন খন্দকার। উৎপাদনে আছেন বাহাউদ্দিন কাজল ও আসাদুল হক স্বপন।

মানবজমিন-এ সারাদেশের জেলা ও উপজেলা থেকে সহকর্মীরা প্রতিদিন রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে রয়েছেন সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার ওয়েছ খসরু, যশোরের নূর ইসলাম, বগুড়ার প্রতীক ওমর, নারায়ণগঞ্জের বিল্লাল হোসেন রবিন, খুলনার রাশেদুল ইসলাম, কুমিল্লার জাহিদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাবেদ রহিম বিজন, বরিশালের জিয়া শাহীন, রংপুরের জাভেদ ইকবাল, রাজশাহীর আসলাম-উদ- দৌলা, দিনাজপুরের শাহ আলম শাহী, পঞ্চগড়ের সাবিবুর রহামন সাবিব, পাবনার রাজিউর রহমান রুমি, নোয়াখালীর নাসির উদ্দিন বাদল, গাইবান্ধার সিদ্দিক আলম দয়াল, কুড়িগ্রামের মিজানুর রহমান মিন্টু, লালমনির হাটের মিলন পাটোয়ারী, মৌলভীবাজারের ইমাদ উদ দীন, মাসুদ আহমেদ, ময়মনসিংহের মতিউল আলম, টাঙ্গাইলের মাহমুদ কামাল, কিশোরগঞ্জের আশরাফুল ইসলাম, নরসিংদীর মোর্শেদ শাহরিয়ার, মুন্সীগঞ্জের মোজাম্মেল হোসেন সজল, গাজীপুরের ইকবাল আহমেদ সরকার, মানিকগঞ্জের রিপন আনসারী, চট্টগ্রামের ইব্রাহিম খলিল, কক্সবাজারের রাসেল চৌধুরী, চাঁদপুরের মোরশেদ আলম, লক্ষীপুরের মো. আব্বাস হোসেন, নীলফামারীর দীপক আহমেদ বাগেরহাটের আবু সাঈদ সানু নড়াইলের হুমায়ুন কবীর রিন্টু, হবিগঞ্জে রাশেদ আহমেদ, নবীগঞ্জের এম এ বাছিত, সাভারের হাফিজ উদ্দিন, শ্রীমঙ্গলের ইদ্রিস আলী, কমলগঞ্জের সাজিদুর রহমান সাজু, বাহুবলের নূরুল ইসলাম মনি, বানিয়াচংয়ে মোখলেছ মিয়া, রাজনগরে আবদুর রহমান সোহেল, শায়েস্তাগঞ্জে শাহ মোস্তফা কামাল, মাধবপুরে রাজিব দেব রায় রাজু, সরাইলে মাহবুব খান বাবুল, নবীনগরে শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী, টঙ্গীর এম এ হায়দার সরকারসহ অনেকেই।
দীর্ঘ এ সময়ে মানবজমিনের পাশে ছিলেন অনেকেই। আজকের এ দিনের তাদের কথা খুব করে মনে পড়ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত প্রতিথযশা সাংবাদিক এবিএম মূসা, ফখরুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, রম্য লেখক আতাউর রহমান, সাবেক সচিব আসাফ্‌দ্দৌলাহ্‌, ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, নূরুল কবীর, ড. মাহফুজ পারভেজ,  ড. আসিফ নজরুল. ড. বদিউল আলম মজুমদার, শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, আমীর খসরু,  দিলীপ বড়ুয়া, ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, সুভাষ সিংহ রায়, সোহরাব হোসেন, গোলাম মোর্তোজা, আলী ইদ্‌রিস প্রমুখ।

এছাড়া আইনি সহায়তা যারা দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম প্রয়াত ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, তবারক হোসেন ও এডভোকেট সাজেদুর রহামন প্রমুখ। শুরু থেকে মানবজমিন-এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত ছিলেন, এখনো আছেন। স্মৃতি থেকে এ লেখায় কারো নাম বাদ পড়লে তা একেবারেই অনিচ্ছাকৃত। এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। সত্যি বলতে কি, মানবজমিন একটি পরিবার। এ পরিবারের সুখ-দুঃখ একে অপরে ভাগ করে নেন। এভাবেই পেরিয়েছে বাইশটি বছর। কোনো দল বা গোষ্ঠী নয়। সত্যকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ কর্মরত সাংবাদিক-কর্মচারীদের সাহস বাড়িয়েছে। আর তাই তো নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আজ অনলাইন এবং প্রিন্ট আকারে মানবজমিন জাতীয়, আন্তর্জাতিক বাংলাভাষী পাঠক সমাজে অন্যতম জনপ্রিয়-শীর্ষ দৈনিক। ১৫ই  ফেব্রুয়ারি তেইশ বছরে পা দেয়ার এ দিনে সবার প্রতি বিনম্র ভালোবাসা। রইলো শুভাশিস ও কৃতজ্ঞতা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

নূরুল ইসলাম মনি

২০২০-০২-১৭ ১৩:২৬:০১

মানবজমিন পত্রিকা জগতে একটি বিপ্লব। এ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি গর্বিত। নূরুল ইসলাম মনি, বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি।

Mohammed Ali

২০২০-০২-১৬ ১৮:২২:৩৪

নিরপেক্ষতার কারণে মানবজমিন পত্রিকা পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। আর সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান চৌধুরীর জন্য অনেক অনেক দোয়া করছি, মহান আল্লাহ যাতে ওনার নিরপেক্ষ লিখনে আরও অনেক সাহস এবং শক্তি জোগায়।

Hasan Pintu

২০২০-০২-১৫ ০৬:৫১:৪২

এরকম একটি পত্রিকায় কাজ করতে পারায় সত্যিই আমি ধন্য। প্রিয় মানবজমিনের জন্য সব সময় শুভ কামনা।

মুসা বিন মোহাম্মদ

২০২০-০২-১৫ ০৬:৪৮:৫৩

ভালো থাকুক প্রিয় মানবজমিন। শুভ জন্মদিন

M.A Musa

২০২০-০২-১৫ ০৬:৩০:৫৫

মানবজমিন আমার জীবনে অবস্বরণীয় হয়ে থাকবে। সাংবাদিকতার মহাসড়কে হাটতে শিখিয়েছে প্রাণের মানবজমিন। ভালো থাকুক চিরদিন।

নূর মোহাম্মদ

২০২০-০২-১৫ ০৫:৪৮:৩২

মানবজমিনে পাচ বছর শিক্ষা সেক্টর নিয়ে কাজ করেছি, বিশেষ করে দুনীতি অনিয়মের খবরে দিকে একটু নজরটা বেশি থাকায় আলোচিত কয়েকটি রিপোর্ট করতে পেরেছিলাম' মানবজমিনের লাল শিরোনামগুলো বিশেষ ভাবে মিস করি , ভাল থাকুক মানবজমিন এ শুভ কামনা

মো. মিজানুর রহমান

২০২০-০২-১৫ ১২:৩২:০৭

মানবজমিন পরিবারে জন্মলগ্ন থেকে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত বরগুনা জেলা প্রতিনিধি

মোঃ আবদুর রউফ

২০২০-০২-১৪ ২২:০৬:০১

এদেশে অনেক পত্রিকা আমি দেখেছি, যারা কখনোই নীতিবাক্যে অটল ছিলেন না। আর মানবজমিন শুরু থেকেই সেই তাবেদারি না করার নীতি বাক্যে আজও অটল। আমি গর্বিত, মানবজমিন পত্রিকার খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি হতে পেরে।

Ferdous

২০২০-০২-১৪ ২১:৫৭:২৮

মানবজমিন একটা অত্যন্ত জনপ্রিয় নিরপক্ষ এবং আমার প্রিয় পত্রিকা।সত্যিই মানবজমিন কারও তাঁবেদারি করেনা।প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিতে পত্রিকাটিকে অনেক অনেক ধন্যবাদ নিরেপক্ষতার জন্য।

এম. এন মোস্তফা নূর-

২০২০-০২-১৫ ১০:০৪:৩২

দৈনিক মানবজমিন প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই একটি কমিটমেণ্ট লালন করছে। আমরা তা প্রত্যক্ষ করছি। সত্যিই কারো তাবেদারী করেনা। গণ মানুষের আশা-আকঙ্ক্ষার কথা বলতে এই পত্রিকার আরো আরো ভূমিকা প্রত্যাশা করি। এই গণতন্ত্রহীনতার সময়ে দেশের বঞ্চিত মানুষের পক্ষে লুটপাট জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে গণ মানুষের মুখপাত্র হয়ে আরো আরো কাজ করার দায় মানবজমিন পালন করুক। শুভেচ্ছা রইল।

শহীদুল ইসলাম

২০২০-০২-১৫ ০৯:৩৫:২৯

ধন্যবাদ স্যার, দারুন একটি লেখা প্রকাশের জন্য। শুভ হোক আগামীর পথ চলা “মানবজমিনের”

শফিকুল ইসলাম শফিক।শে

২০২০-০২-১৪ ১৫:১৪:১৬

অামি বাংলা বাজার পর্তিকার গ্রীন রোড থেকে অাছি শামীম ভাই।!।

Hasan

২০২০-০২-১৪ ১৪:৪৯:১০

মানবজমিন আমার প্রিয় একটা পত্রিকা আমি ২০০১ থেকে শুরু করে আজ পযন্ত পড়ি, যখন ইনকাম করতে পারিনি তখন সংসারে বাজার খরচের টাকা থেকে জমিয়ে পত্রিকা পড়তাম, এখন প্রবাসে বসে নেটে পরি , আর মতিউর রহমান ভাই, আমার প্রিয় একজন সম্পাদক, প্রবাসে এসে যাকে চিনেছি মতি ভাই নামে এখনো প্রবাসের অনেকে চিনে মতি ভাই নামে , চ্যানেল আই তে রাত ১২ টার সময় প্রতিদিন দেখতাম মতি ভাইয়ের উপস্থাপনায় সংবাদপত্রে আলোচনার টকশো যা এখন আর দেখতে পাইনা আমাদের দেশে চ্যানেল আই এখন আর দেখতে পাইনা

আব্দূস সালাম

২০২০-০২-১৪ ১২:৪২:১৮

মানবজমিন এ ১৬ বছর কাজ করেছি। ২০১৩ সালে রংপুর ব্যুরো প্রধান হিসাবে আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় যোগ দেই। মানবজমিন হচ্ছে সাংবাদিক তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান।মতি ভাইয়ের তুলনা হয় না

motiur rahman

২০২০-০২-১৪ ১২:৩৪:২১

এখন মানবজমিন পত্রিকা কি আগের মত বিক্রি হয়? এক সময় নিয়মিত পাঠক ছিলাম।

Aktarujjaman

২০২০-০২-১৪ ১১:৩১:০৯

ধন্যবাদ ভাল ভাল নিউজ কাভার করার জন্য❤❤❤❤❤

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

‘লকডাউন’

২৭ মার্চ ২০২০

ছুটির নোটিশ

২৬ মার্চ ২০২০

আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মানবজমিন-এর সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। তবে ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত