নাইজেরিয়ায় ‘লাসসা জ্বর’ মহামারীতে মৃত ৭০

মানবজমিন ডেস্ক

এক্সক্লুসিভ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:০৭

পুরো বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস মহামারী নিয়ে তটস্থ তখন নীরবে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে আরেক মহামারী। সেখানে ‘লাসসা জ্বর’ মহামারীতে ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এনসিডিসি) জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে এই মহামারী চলছে সেখানে। দেশটির তিন রাজ্যে এখন পর্যন্ত এর সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

খবরে বলা হয়, দেশজুড়ে জ্বরটিতে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে এনসিডিসি। তারা জানায়, সব মিলিয়ে মধ্য-জানুয়ারিতে এরকম আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০০’র কিছু বেশি। বর্তমানে তা ১ হাজার ৭০৮ জনে পৌঁছেছে। নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৭২ জনে।
সর্বশেষ অন্দো, ডেল্টা, কাদুনা রাজ্যে নতুন চারজন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

আল-জাজিরা জানায়, লাসসা জ্বর সাধারণত ইঁদুর গোত্রীয় প্রাণীর মলমূত্রের মাধ্যমে দূষিত হওয়া খাবার বা গৃহস্থালী জিনিসপত্র দিয়ে রোগটি মানুষের মাঝে ছড়ায়। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে, রোগটির বিশেষ কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, মুখে আলসার হওয়া, পেশিতে ব্যথা, ত্বকের নিচে রক্তস্রাব, হার্ট ও কিডনি অচল হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা গেছে। ভাইরাসটি প্রথম ৬ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা শরীর থেকে বের হওয়া তরল পদার্থ ও মলমূত্রের মাধ্যমে এর সংক্রমণ হয়ে থাকে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, জ্বরটির ‘কার্যকরী ওষুধ’ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ‘রিবাভিরিন’ রোগটি সারাতে সক্ষম।  

আফ্রিকা অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এদেশে লাসসা জ্বর শনাক্ত করার মতো পরীক্ষাগার রয়েছে পাত্র পাঁচটি। এই রোগটি ইবোলা ও মারবার্গ ভাইরাস গোত্রেরই সদস্য। তবে এতে প্রাণহানির হার কম। এর উৎপত্তিস্থল নাইজেরিয়ার লাসসা শহরে। ১৯৬৯ সালে এটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। উৎপত্তিস্থলের সঙ্গে মিলিয়েই এর নামকরণ করা হয়েছে। প্রতি বছর অঞ্চলটিতে এতে আক্রান্ত হন এক থেকে তিন লাখ মানুষ। প্রাণ হারান অন্তত ৫ হাজার। এর আগে সিয়েরা লিওন, লিবেরিয়া, টোগো ও বেনিনে এর অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

JAKIR

২০২০-০২-১৬ ১৭:১৬:২৪

AMEEN

আপনার মতামত দিন



এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য হোটেল-গেস্ট হাউজে থাকার ব্যবস্থা

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় যে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের সেবা করে চলেছেন, তাদের হাসপাতালের নিকটবর্তী ...

সরজমিন সিলেট

যেভাবে বদলে গেল নগরের দৃশ্যপট

২৭ মার্চ ২০২০

ব্যতিক্রমী মমতা

২৭ মার্চ ২০২০

ভারতে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ৬৪৯ মৃত্যু ১৩

২৭ মার্চ ২০২০

ভারতজুড়ে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত