চাষীদের মুখে হাসি

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

রকমারি ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার

প্রাচীন কাল থেকেই বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে ও আলু উৎপাদনের জন্য পরিচিত জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা। এবার এলাকাটিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশক ঔষধের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং রোগ-বালাই কম হওয়াসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলাতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। যার ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু জেলা ও উপজেলা সরবরাহসহ বিভিন্ন বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে কালাইয়ের আলু। ফলে বর্তমান আলুর বাজারে আলুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। আর সেই সঙ্গে আলুর বাজারে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় চাষীরা।
 
কালাই উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে ও সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ ওই ৫টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২শ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত আলু চাষ হয়েছে, যা অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা দাড়িয়ে ১১হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। এর মধ্যে উফশী জাতের আলু চাষে হযেছে ১০ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় পাকড়ী জাতের আলু চাষে হয়েছে ৩শ ৫০ হেক্টর জমিতে।

উফশী জাতের আলু চাষের মধ্যে রয়েছে- মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, রোজেটা, ক্যারেজ আর স্থানীয় পাকড়ী জাতের আলু চাষের মধ্যে রয়েছে-তেল-পাকড়ী, পাহাড়ী-পাকড়ী, বট-পাকড়ী ও ফাটা-পাকড়ী।

এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, ও রোজেটা জাতের আলু চাষ হয়েছে। সেই সঙ্গে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু ঢাকা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

এছাড়া এখানকার আলু মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে কালাইয়ের আলু।
এই উপজেলাতে ১০ থেকে ১৫টি স্থানে প্রতিদিন প্রায় ৪হাজার ৫হাজার মণ বিভিন্ন জাতের আলু দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসহ বিভিন্ন বিদেশে পাঠানোর জন্য আলু ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনছে। এর ফলে বাজারে আলুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে আর আলুর ভালো দাম পাওয়ায় স্থানীয় আলু চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলার আপলাপাড়া গ্রামের আলুচাষী আব্দুল কাদের বলেন, ৮ বিঘা জমিতে এস্টোরিক্স ও কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছি। বিঘা প্রতি আলুর উৎপাদনের খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা আলু পেয়েছি প্রায় ১শ মণ। বিদেশী এক কোম্পানীর এজেন্ট কাছে ঐসব আলু বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমান আলুর বাজার দরে বিঘা প্রতি লাভ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা।

উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের আলুচাষী রাজ্জাক বলেন, মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানীর এজেন্ট কাছে মণ প্রতি ৫শ’ ৫০ টাকার দরে দুই বিঘা জমি মিউজিকা জাতের আলু বিক্রি করেছি। এবারে আলুর বাজারে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় অনেক খুশি হয়েছি।

উপজেলার নান্দাইলদীঘি গ্রামের মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানীর আলু কেনার এজেন্ট মো. বাশেদ ও রফিকুল বলেন, মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানীর চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬টাকা কেজি দরে প্রায় ৪শ মণ বিভিন্ন জাতের আলু কিনতে হচ্ছে। আর এভাবে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আলু কিনতে হবে।
 
কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীজ, সার ও কীটনাশক ঔষধ সরবরাহসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই উপজেলাতে এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান আলুর বাজারে আলুর দাম ভালো পেয়ে কৃষকেরা অনেক খুশি হয়েছে। তাছাড়া এখানকার আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর ফলে আগামীতে আরও বেশী আলু চাষা হবে বলে তিনি জানা।

আপনার মতামত দিন

রকমারি অন্যান্য খবর

তৈরী হচ্ছে রেলকোচের ১৬০ প্রকার পণ্য

সৈয়দপুরে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের কারিশমা

৪ মার্চ ২০২০

কাশ্মীরী আপেল কুলে সাফল্য

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জমজে জমজে বিয়ে

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই

২৫ জানুয়ারি ২০২০

এত লম্বা চুল! কে এই তরুণী?

১৭ জানুয়ারি ২০২০



রকমারি সর্বাধিক পঠিত