আচরণবিধিতে গুরুত্ব কম ইসি ব্যস্ত ইভিএম নিয়ে

শাকিল আহমেদ

প্রথম পাতা ২৯ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৯

আসন্ন ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি নিয়ে শুরু থেকেই গাছাড়া নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি প্রতিপালন হচ্ছে কিনা এদিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। প্রচারণার শেষ মুহুর্তে কমিশন এখন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের প্রস্তুতি নিয়েই ব্যস্ত। দেশের ইতিহাসে ইভিএম-এ সর্বার্ধিক সংখ্যক ভোটারের ভোট গ্রহণ করা হবে এবারের নির্বাচনে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের বাকি আর দুই দিন। ৩০শে জানুয়ারি মধ্য রাতে শেষ হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। ১লা ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ। ২২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ১০ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা।


ইতোমধ্যে বিএনপি প্রার্থীদের অধিকাংশই ভোটের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দুই সিটির রির্টানিং অফিস থেকে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি নিয়ে এপর্যন্ত দুই সিটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে শতাধিক অভিযোগ এসেছে। বেশিরভাগই কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারে বাধা, অতিরিক্ত নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন, মাইক ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় এই অভিযোগ এসেছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার প্রবণতা থাকলেও মেয়র প্রার্থীদের অভিযোগ এসেছে শুধু বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৫১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্মসচিব আবুল কাসেম মানবজমিনকে জানান, এপর্যন্ত ৫১টি অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে অনেকগুলোর সমাধান হয়েছে। শুধু বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের উপর হামলার যে অভিযোগ ছিলো সেটি কমিশনে দিয়েছি।

এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিবেন। যখনই কোনো অভিযোগ লিখিতভাবে আসছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুই জনকে সতর্ক করা হয়েছে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ১০৭ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলেই সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন। গতকাল বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল জানান, ১৪০ টি অভিযোগ দিয়েছেন এরমধ্যে ১০২টিই নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়েছে। কোনটিরই কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফুটপাতের উপর নির্বাচনী ক্যাম্প করেছে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত মাপের বাইরে পোস্টার সাটানো হয়েছে, ইসির নির্ধারিত সময়ের বাইরেও চলছে প্রচার মাইক। যাতে অনেকটাই বিড়ম্বনায় পড়েছেন নগরবাসী। এদিকে গতকাল কমিশন সভায় বসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা সেখানেও আচরণবিধি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি বলে মানবজমিনকে জানান নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটি আলোচনার কোন বিষয় না, আচরণবিধি নিয়ে আইনের কোন সমস্যা থাকলে কমিশন সভায় আলোচনা হতে পারে। যখন যে এজেন্ডা সামনে থাকে সেগুলো নিয়ে আমরা কমিশন সভায় আলোচনা করি। আচরণবিধি নিয়ে কোন অভিযোগ পেলে আমরা সব সময় নির্দেশনা দিয়ে থাকি। দুই সিটির বিএনপি প্রার্থীর উপর হামলার ঘটনাকে ক্রিমিনাল অফেন্স উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে যাওয়াও সংঘর্ষ হয়েছে এটা আচারণবিধির মধ্যে পড়ে না।

এটা ক্রিমিনাল অফেন্স পুলিশ এবিষয় ব্যবস্থা নিবেন। সিটি নির্বাচনে কোথাও কোন ম্যাজিস্ট্রেটের তৎপরতা নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুইকোটি মানুষের শহরে ৪৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট কিভাবে খুঁজে পাবেন? এর আগে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার অভিযোগ করেছিলেন, ইসির কমিশন সভায় সিটি নির্বাচনের আচরণবিধি নিয়ে কোন আলোচনা করা হয়না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের শতাধিক নির্বাচনী অফিস রয়েছে ফুটপাতের ওপর বলে অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এদিকে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তির মধ্যেই গতকাল দুই সিটির প্রতিটি কেন্দ্র ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) এর প্রদর্শনী করা হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা এতে অংশ নেন। সব কেন্দ্রে আগামীকাল অনুশীলন (মক ভোটিং) ভোট হবে । এবারই প্রথম অর্ধকোটি ভোটার ইভিএমে ভোট দিবেন। সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ইভিএম। ঢাকার দুই সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৯ জন। নতুন ইউনিয়নসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশ (ডিএনসিসি) এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩  জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ জন ও মহিলা ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। এই সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪ টি,সংরক্ষিত, ১৮ টি। মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৩ হাজার ১৮টি, ভোটকক্ষ ৭ হাজার ৮৪৬ টি। দক্ষিণ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ জন ও মহিলা ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫৩ জন। এই সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। মোট ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ১৫০টি ও ভোট কক্ষ ৬ হাজার ৫৮৮টি।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

কাহিল মধ্যবিত্ত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চীনা পণ্যের দাম নিয়ে খামখেয়ালি

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বুয়েট, চবির পথেই কি হাঁটবে ঢাবি

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কারাগারে বিদেশি বন্দি ৫৭৭

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছুটির নোটিশ

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ মানবজমিন-এ ছুটি থাকবে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় আগামীকাল পত্রিকা প্রকাশিত হবে। ...

সিপিডির সেমিনারের তথ্য

২০৩০ সালে দেশ থেকে অর্থ পাচার ১৪ বিলিয়ন ছাড়াবে

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত