মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাবে

কাজী সোহাগ, টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) থেকে

প্রথম পাতা ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৬

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। গতকাল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এর আগে তিনি দলের নেতাদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সংক্ষিপ্ত  যৌথসভা করেন। গত ২০ ও ২১শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের পর নতুন কমিটি  প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসে। সভায় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয়ভাবে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এর কর্মসূচি নিয়েছি। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও কর্মসূচি নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ মুজিববর্ষে কর্মসূচি পালন করবে এই কর্মসূচিকে আমাদের সফল করতে হবে। মুজিববর্ষ নিয়ে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এটা একটা বড় ব্যাপার ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তার নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। আজ সেই নামটি আর কখনো মুছে ফেলতে পারবে না, কারণ দীর্ঘ ২৪ বছর লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর একমাত্র লক্ষ্য ছিল এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন। সে লক্ষ্যে  কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাকে হত্যার পর  সেই কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি আজ দারিদ্র্যের হার ২০.৫ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। বঙ্গবন্ধু যখন  দেশ স্বাধীন করেছিলেন তখন এই দারিদ্র্যের হার ছিল ৮২ ভাগ এর উপরে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি আজকে যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি অর্থনৈতিকভাবে এবং সেই সকল অর্জনের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামের মানুষ যেন পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের প্রতিটি  নেতাকর্মীকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব- এটাই আমাদের লক্ষ্য। ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যতিব্যস্ত থাকার কারণে দলের কয়েকজন নেতা জাতির পিতার সমাধিতে আসতে পারেননি তার কারণও জানান দলীয় সভাপতি। বলেন, সিটি নির্বাচনে যারা কাজ করেছে, তাদের যাওয়ার দরকার নাই। বাকি যারা থাকবে তাদের নিয়ে আবার আসব। পরবর্তীতে নোটিশ নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির সভা করা হবে বলেও জানান তিনি। আজকে যেহেতু বেশি সময় নাই, আমাকে  হয়তো অল্পসময়ের মধ্যে রওনা দিতে হবে। এরপর উপস্থিত সকল নেতার প্রতি ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। এরপর সাড়ে ৩টার দিকে হেলিপ্যাড থেকে  হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা: নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। পরে দলের  নেতাসহ উপস্থিত সবাইকে নিয়ে সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া  মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এ শ্রদ্ধা জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতার সমাধিতে। আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে নিয়ে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান শেখ হাসিনা। হেলিকপ্টারযোগে তিনি টুঙ্গিপাড়া পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে    পৌঁছানোর পর বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন  শেখ হাসিনা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে  সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ  নেন তিনি। এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম  সেলিম, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এবং পরিবারের নিকটাত্মীয় ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতেই অগ্রবর্তী দল হিসেবে টুঙ্গিপাড়ায়  পৌঁছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল। আর শুক্রবার সকাল ৭টায় ঢাকায় সংসদ ভবন চত্বরের মিডিয়া সেন্টারের সামনে  থেকে বাসে চড়ে রওনা দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। মোট ছয়টি বাসে করে কেন্দ্রীয় নেতারা টুঙ্গিপাড়ায়  পৌঁছান দুপুর সাড়ে ১২টার পর। তারা বাস থেকে নেমে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাদের নিয়ে জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

আওয়ামী লীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজাব: ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে ‘সোনার মানুষ তৈরির কারখানা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর সেই সোনার বাংলা গড়তে আওয়ামী লীগ প্রচলিত ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করবে বলেও জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ট্র্যাডিশনের সঙ্গে টেকনোলজি, আইডিয়ালিজমের সঙ্গে রিয়েলিজমের সুন্দর সমন্বয় করে সোনার বাংলা বিনির্মাণের চূড়ান্ত লক্ষ্য অভিমুখে আমরা উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যেতে চাই। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় সম্মেলনের পর আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল ও জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় এসেছি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনা বাংলা বিনির্মাণে সোনার মানুষ  তৈরির কারখানা হিসেবে আওয়ামী লীগকে সময় যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন মডেলে আমরা ঢেলে সাজাব। সাংগঠনিক কাঠামোকেও শুদ্ধ করব, সুশৃঙ্খল করব। সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত এই লক্ষ্য ছড়িয়ে দেয়ার শপথ ও অঙ্গীকার নিতেই আমরা আজ এখানে এসেছি। টানা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। তৃতীয় মেয়াদের সরকার একবছর পার করেছে। এ অবস্থায় সোনার বাংলা বিনির্মাণে কোনো ধরনের বাধা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন,  সোনার বাংলা বিনির্মাণ একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। আমাদের টার্গেট আছে, ভিশন আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যে ভিশন-২০২১, ভিশন ২০৪১ ও ডেল্টা প্ল্যান রয়েছে, আমরা এই তিনটিকে সামনে রেখে আমাদের এজেন্ডা ঠিক করেছি। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের এগিয়ে  যেতে হবে।

কাদের বলেন, বাধা ও চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। সময়ের পরিবর্তনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। নতুন নতুন বাধাও আসতে পারে। চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। আর তার জন্য সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। সাংগঠনিক শক্তি ও আদর্শের পতাকা হাতে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দল।  যে কোনো নির্বাচনের আগেই তারা  হেরে যায়। বিএনপি’র বিজয়ের   কোনো ইতিহাস নেই। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। এটা তারা নিশ্চিত জেনেই কখনও ইভিএম, কখনও নির্বাচনের শুদ্ধতা নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ তারা তুলছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি’র মন মানসিকতা, কথাবার্তায় পরাজয়ের সুর রয়েছে। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটি কাজ করবে।

আপনার মতামত দিন



প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ডাক সঞ্চয়ের মুনাফা কমায় ক্ষোভ, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ায় ত্রাহি অবস্থা

মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে হাত

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সেলফি যখন যম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শি জিন পিংকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

চীনে ৫ লাখ মাস্ক ১০ লাখ গ্লাভস পাঠাচ্ছে ঢাকা

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



ডাক সঞ্চয়ের মুনাফা কমায় ক্ষোভ, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ায় ত্রাহি অবস্থা

মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে হাত

শি জিন পিংকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

চীনে ৫ লাখ মাস্ক ১০ লাখ গ্লাভস পাঠাচ্ছে ঢাকা