করোনা ভাইরাস

ঝুঁকিতে বাংলাদেশ আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার

এক্সক্লুসিভ ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:০৯

চীন থেকে বিশ্বের কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়া নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সতর্ক বাংলাদেশও। নতুন যে নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে, তা থেকে ঝুঁকিমুক্ত নয় ঢাকাও। কারণ চীনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এখন পর্যন্ত চীন থেকে আসা দুজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হলেও তাদের মধ্যে এ ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা বি ভাইরাসে আক্রান্ত। পাশপাশি গত কয়েকদিনে চীন থেকে আসা বিভিন্ন ফ্লাইটের ৯০০ যাত্রীকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করা হলেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) আয়োজিত ‘২০১৯ এন কভ ভাইরাস আউটব্রেক’ সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে সিডিসি’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা এ তথ্য জানিয়েছেন। চীনের উহান শহরের একটি মাছের বাজার থেকে এ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।
নিউমোনিয়া-সদৃশ এ ভাইরাসটি নতুন এক ধরনের করোনা ভাইরাস। নোবেল করোনা ভাইরাস, উহান করোনা ভাইরাস, উহান ফ্লু, উহান সি ফুড মার্কেট নিউমোনিয়া ভাইরাস ও উহান নিউমোনিয়া নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ভাইরাসটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে বলছে ২০১৯-হঈড়ঠ। সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পানা ও উন্নয়ন) এবং সিডিসি’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, কিছু ভাইরাস মানুষ ছাড়া অন্যান্য পশু-পাখির মধ্যে সংক্রমিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি এ রকমই একটি ভাইরাস। এই ভাইরাসের উপস্থিতি সর্বপ্রথম পরিলক্ষিত হয় ২০১৯ সালের ৮ই ডিসেম্বর। এরপর ৩১শে ডিসেম্বর এই ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করা হয়। এতে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক লোক আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। প্রথম জনের মৃত্যু ঘটে গত ৯ই জানুয়ারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষা করে দেখেছে, যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের সবাই অন্য কোনো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন। অধ্যাপক ডা. সানিয়া বলেন, যেহেতু চীনের সঙ্গে আমাদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী ও পর্যটক ভ্রমণ করতে যায়, তাই এক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এই ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই সামান্য। এছাড়া এই ভাইরাসের সংক্রমণকে জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হবে কি-না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে বসেছে সংস্থাটি। এ ভাইরাসের মাধ্যমে রোগে আক্রান্ত হলে তার লক্ষণ কী হতে পারে সে সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. সানিয়া বলেন, এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি নিউমোনিয়া হবে পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
। সবশেষে কিডনি ফেইলিওরের মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন ও আইএইচআর স্বাস্থ্য ডেস্কগুলোতে সতর্কতা ও রোগের সার্ভেইল্যান্স জোরদার করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথে নতুন করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু হয়েছে। নতুন ভাইরাস সম্পর্কে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইসস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরো বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত থাকায় নোবেল করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তিনি জানান, দেশে কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাদের আলাদা করে রেখে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি কুর্মিটোলা হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য রি-এজেন্টও আছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। চীন ছাড়াও জাপান, থাইল্যান্ড তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কলোম্বিয়া, যুক্তরাজ্য ও অষ্ট্রেলিয়ায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা যায়, করোনা ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এছাড়াও অনেক ধরনের করোনা ভাইরাস উটসহ বিভিন্ন পশু, বিড়াল ও বাদুরের মধ্যে দেখা যায়। চীনের উহান শহরের শনাক্তকৃত বেশির ভাগ রোগী শহরের সামদ্রিক খাবার ও পশুর বাজার হতে আক্রান্ত হয়েছেন। পরবর্তীকালে সাংহাই, বেইজিং ও অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিমানবন্দর এবং অন্যান্য প্রবেশ পথ দিয়ে যারা ভাইরাস সংশ্লিষ্ট দেশ ভ্রমণ করে দেশে প্রবেশ করছেন তাদের একটি স্বাস্থ্য তথ্য কার্ড দিচ্ছেন। এতে নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত সম্পর্কে হয়েছে, চীনসহ পৃথিবীর কয়েকটি দেশে বর্তমানে ২০১৯-হঈড়ঠ৯ (মার্স ও সার্স সমগোত্রীয় করোনা ভাইরাস) এর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। আপনি যদি এসব দেশে ভ্রমণ করে থাকেন এবং ফিরে আসার ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর (১০০ ডিগ্রির বেশি হয়) গলাব্যথা, কাশি ও শাসকষ্ট দেখা দিলে আপনার দেহে ২০১৯-হঈড়ঠ ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি দ্রুত সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগযোগ করুন। প্রয়োজনে আইইডিসিআর-এর হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নম্বরগুলো হচ্ছে-০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯৩৭-০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫।
পুরোপুরি অবরুদ্ধ চীনের দুই শহর: চীনের সরকার দেশটির দুটি শহরে পরিবহণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে ওই শহর দুটি থেকে এখন থেকে পরবর্তী ঘোষণার পূর্বে কেউ বাইরে যেতে পারবে না। একইসঙ্গে বাইরের কেউও শহর দুটিতে প্রবেশ করতে পারবে না। নতুন ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। চীনের উহান শহরকে মনে করা হচ্ছে ভয়াবহ এই ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল। উহানসহ এর পার্শবর্তী হুয়াংগ্যাং শহরে ওই অবরোধ জারি করা হয়েছে। এরফলে শহর দুটিতে চলবে না কোনো গণপরিবহন। বাতিল করা হয়েছে সকল ট্রেন ও বিমান। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী করোনা ভাইরাসের আক্রমণে নিহত হয়েছেন মোট ১৭ জন। এছাড়া, এতে আক্রান্ত হয়েছেন আরো অন্তত ৬ শতাধিক মানুষ। চীনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি। এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে বেইজিং, সাংহাই, হংকংসহ চীনের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে ইতিমধ্যে হয়ত ভাইরাসটি সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে ঘনিয়ে আসছে চীনের নববর্ষও। এসময় সপ্তাহজুড়ে বড় ছুটি পান চীনারা। তাই অনেকেই শহরগুলো ছেড়ে গ্রামে যাত্রা করেন এসময়। এতে চারদিকে ভাইরাস ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিস্তার থামাতেই সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি শহরকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকেই উহান প্রদেশের বেশিরভাগ গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়। ১১ মিলিয়ন মানুষের শহরটি ছেড়ে কাউকে বাইরে যেতেও নিষেধ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই উহানের নিকটবর্তী হুয়াংগ্যাং শহরেও এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেখানে বাস করেন প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

শনাক্ত

৬ জুলাই ২০২০

করোনা নিয়ে ৮টি অপারেশন

ডা. সফর আলীকে নিয়ে আতঙ্কে দৌলতপুরবাসী

৫ জুলাই ২০২০



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত