এক অসহায় বাবার আর্তনাদ

‘ছেলেটাকে বাঁচাতে চাই, মেয়েটাকে হয়ত বাঁচাতে পারব না’

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

অনলাইন ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, ৭:২৬

আল্লাহু আমাকে দু’টি সন্তান দিয়েছেন। ছেলে-মেয়ে দুই জনই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। মেয়েটাকে আর হয়ত বাঁচাতে পারবো না। কষ্টের চেয়ে আল্লাহুপাক ওকে তাড়াতাড়ি যেন নিয়ে যায়। কিন্তু ছেলেটা এখনও চলাফেরা করছে। ছেলেটাকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু মাসে মাসে রক্ত দিতে হয়। ডাক্তার বলেছে সিঙ্গাপুর নিয়ে অপারেশন করতে পারলে ও ভালো হয়ে যাবে।
কিন্তু সিঙ্গাপুর তো দূরের কথা, ঢাকায় নেয়ার মতো গাড়ি ভাড়াও আমার কাছে নেই। অসুস্থ ছেলে-মেয়ের চিকিৎসা ব্যয় বহনে এভাবেই অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল লতিফ।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তাদের ভর্তি করা হলেও চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারায় বাড়িতে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  

ভ্যানচালক আব্দুল লতিফ আরও বলেন, দুই শতক জায়গার ছোট্ট বাড়িতে একটি টিনের ঘরে স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে আমাদের সংসার ভালই চলছিল। প্রায় চার বছর আগে মেয়ে বর্ষা (১১) এবং ছেলে ওবায়দুল (৭) দু’জনেই থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। এরপর থেকে সন্তানদের চিকিৎসা করাতে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেছি। প্রতিমাসে মাসে সন্তানদের রক্ত দিতে হচ্ছে। একবার রক্ত দিতে অনেক টাকা খরচ হয়। ভ্যানগাড়ি চালিয়ে টাকার যোগান দেয়া খুবই কষ্ট। বর্তমানে ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছি। কিস্তির টাকা যোগাতে গিয়ে সংসার চালাতে পারছি না। প্রায় দু’বছর ধরে ছেলে-মেয়ের দু’বেলা খাবারও দিতে পারছি না। ভাল খাবারের অভাবে তাদের শারিরীক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।  

কান্নাজড়িত কন্ঠে মা আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, আমার বেটা-বেটিকে আপনারা বাঁচান। মেয়েটা খালি চাইয়া থাকে, কোনো কথা বলে না, ওর মুখের দিকে তাকাতে পারি না। কেন যে আল্লাহুপাক আমাদের মত গরীব মানুষের ঘরে এ রকম কঠিন রোগ দিলো? আমাদের সব শেষ হইয়া গেছে- তাও ছেলে-মেয়ে সুস্থ হইলো না।’

শাহজাদপুরের দি বার্ড সেফটি হাউসের সভাপতি মামুন বিশ্বাস বলেন, দু’টি শিশুর মধ্যে বর্ষার অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে আশা ছেড়ে দিয়েছেন। ভাল চিকিৎসা পেলে ছেলে ওবাইদুল হয়তো বাঁচবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কিছু টাকা সংগ্রহ করে শিশু দু’টির চিকিৎসার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। দানশীল ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসেন হয়তো বা ছেলেটিকে বাঁচানো সম্ভব।

স্থানীয় গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, আব্দুল লতিফ খুব পরিশ্রমী। দুই সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় যোগাতে তিনি এখন নিঃস্ব। চিকিৎসা করানোর মতো সাধ্য তার নেই। এ কারনে পরিবারটি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।  

সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমনা লায়লা জানান, থ্যালাসেমিয়ার একমাত্র চিকিৎসা মাসে মাসে রক্ত দিতে হবে। এ রোগের কারণে লিভার বড় হয়ে যেতে পারে। লিভার বড় হয়ে গেলে সেটা অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয় এবং লিভার ট্রান্সমিশন করাতে হয়। যেটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু বর্ষা ও ওবাইদুল সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে মেয়েটাকে বাচাঁনো প্রায় অসম্ভব। ছেলেটার অবস্থা এখনও অনেকটা ভাল আছে। উন্নত চিকিৎসা পেলে তাকে বাচাঁনো সম্ভব।

অসহায় শিশু দুটিকে সাহায্য পাঠাতে চাইলে
বাবা আব্দুল লতিফ ও মা আঞ্জুয়ারা: ০১৩০৮০৭২১৭৫ (বিকাশ- পারসোনাল)।

আপনার মতামত দিন



অনলাইন অন্যান্য খবর

তাহিরপুরে শহীদ মিনার জরাজীর্ণ

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

২ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত