সরজমিন ঢাকা দক্ষিণ ৪ নং ওয়ার্ড

যানজট জলাবদ্ধতা প্রধান ইস্যু

আলতাফ হোসাইন

এক্সক্লুসিভ ১৫ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৫

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারণা জমে উঠেছে। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে এলাকা। প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি নিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের দোরগোড়ায়। ব্যতিক্রম নয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরশনের আওতাধীন ৪ নং ওয়ার্ড। দক্ষিণের অন্যতম এই ওয়ার্ডটি নন্দীপাড়া থেকে শুরু করে মাদারটেক, উত্তরপাড়া, পাটোয়ারী গলি, গোড়ানের কিছু অংশ, ছায়াবিথি আবাসিক এলাকা, বাসাবো চৌরাস্তা, বাসাবো মাঠ ও বাসাবো বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার বিস্তৃত। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এই ওয়ার্ডে ভোটার ২৬ হাজারেরও বেশি। এই এলাকার অন্যতম সমস্যা যানজট ও জলাবদ্ধতা।
মেরামতের নামে সারাবছর রাস্তা খুড়াখুড়ির ফলে এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির শেষ নেই। ওয়ার্ডের পরপর দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মো. গোলাম হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে এলাকায় সারাবছর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলে। এছাড়া যানজট, জলাবদ্ধতা ও মাদক ব্যবসা এই এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা। যা এখন স্থানীয়দের রীতিমত গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনেও এসব সমস্যা সমাধান না হওয়ায় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবারের নির্বাচনেও বিএনপি থেকে সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. গোলাম হোসেন। রেডিও প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি প্রচারণায় নেমেছেন। তার বিপরীতে ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপি নেতা হারুন ও মুরসালিন এবং জাতীয় পার্টির বিনি আমিন।

সরজমিন বাসাবো মাদারটেক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক অলিগলির রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর তা এখনো ঠিক করা হয়নি। ফলে রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রবেশ করতে পারছে না। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন। বাসাবো এলাকার রাস্তা কিছুটা প্রশস্ত হলেও মাদারটেক এলাকার অবস্থা ভালো নয়। অধিকাংশ রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরা ও সরু। রাস্তার ওপরই বিদ্যুতের খুঁটি ও বড় বড় ডাস্টবিন বসানো। গোড়ান-বনশ্রী এলাকার ঢোকার মুখে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনেই বিশাল ডাস্টবিন। এতে যেমন রাস্তা সংকুচিত হয়েছে, তেমনি দুর্গন্ধে কেউ ওই এলাকায় থাকতে পারবেন না। অভিযোগ করেও সমাধান না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও স্থানীয়রা জানান, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময় স্থানীয়রা কাউন্সিলরের নিকট অনুরোধ জানানোর পর আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

মাদারটেক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সফিউজ্জামান সোহাগ জানান, এই সমস্যা আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিনের। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের এলাকার সমস্যা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আমরা কয়েকবার এলাকায় যানজট নিরসনসহ বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে বর্তমান কাউন্সিলরের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে সাক্ষাত করেননি। পরে তাকে ফোন দিয়েও সাক্ষাৎ করতে পারিনি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে মাদারটেক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় এখন মাদকে ছয়লাব। মাদক কেনাঁেবচাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চলে এই এলাকায়। বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাকে হেনস্থা করার জন্য অন্যান্য প্রর্থীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন। এলাকায় মাদক বিস্তার রোধে আমি শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। এলাকায় মাদকের বিচরণ নেই বললেই চলে। আমি কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়েই মাদকের সিণ্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি। তিনি বলেন, এলাকার কেউ বলতে পারেব না যে আমি উন্নয়ন করিনি। একজন কাউন্সিলর হিসেবে এলাকায় যা যা করার দরকার তাই করেছি আমি। সম্প্রতি রাস্তা খোড়াখুড়ির কাজ শেষ হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে পাকা হয়ে যাবে।

গোলাম হোসেন বলেন, একথা ঠিক মাদারটেক এলাকার কিছু এলাকার রাস্তা কাটা। স্যুয়ারেজ লাইন বা পানির পাইপ বসানোর জন্য এটা হয়েছে। রাস্তা কাটার পর সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার হলে তা বসে গিয়ে পরে বিপত্তি হতে পারে, বৃষ্টির সময় দেবে যেতে পারে। এ কারণে কিছুটা সময় নিয়ে সংস্কার করা হয়। তিনি জানান, বিল না পাওয়ায় ঠিকাদাররা কাজ করতে পারছেন না। নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে বিল পেলে মার্চের মধ্যেই সব রাস্তার সংস্কার হবে। জনগণকে একটু ধৈর্য ধরতে বলব। তাদের সুবিধার জন্যই আগের ২ ফুট ডায়ার স্থলে ৩ ফুট ডায়ার বড় স্যুয়ারেজ পাইপ বসানো হয়েছে। তার আশা, এ কাজ শেষ হলে আগামী বর্ষায় দ্রুত পানি সরে যাবে, এলাকায় জলাবদ্ধতার নিরসন হবে।

ওদিকে নানা প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শুরু থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গোলাম হোসেন এই এলাকায় টানা দুইবার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করলেও কোনো উন্নয়ন কাজে অংশ নেননি। প্রতিবছর উন্নয়নের নামে সড়ক কেটে একাকার করে ফেললেও সড়ক আর সময় মতো ঠিক করেননি। গত ১৩ বছরে এই এলাকার কেউ মশার ওষুধ দেখেননি। বরং আমি গত বছর আমার নিজ উদ্যোগে এই এলাকার প্রতিটি অলি গলির জলাশয়ে ওষুধ ছিটিয়েছি। জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, মাদারটেক থেকে বাসাবো পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই যানজট থাকে। আমি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করি তাহলে আমি এই যানজট সমস্যা সমাধানে যা করতে হয় তাই করবো। আমার এলাকায় কোন উন্মুক্ত কোন খেলার মাঠ নেই। আমি এর ব্যবস্থা করবো। এছাড়া এলাকা কেন্দ্রিক জনগণের যে মৌলিক চাহিদা আছে সেগুলো বাস্তবায়নে আমি কাজ করবো। তিনি বলেন, বর্তমান কাউন্সিলরের ছত্রছায়ায় এই ওয়ার্ডে মাদকের অবাধ বিচরণ চলছে। আমি জয়লাভ করলে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করবো।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

ধামরাইয়ে সেই ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্বা স্কুলে যাওয়া বন্ধ

২৯ জানুয়ারি ২০২০

ধামরাইয়ে চতুর্থ শ্রেণির সেই স্কুল ছাত্রী এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চরম অভাব অনটনে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী ...

করোনা ভাইরাস

চীনে মৃতের সংখ্যা ১০৬ আক্রান্ত ৪৫১৫

২৯ জানুয়ারি ২০২০

করোনা ভাইরাস

পরিচয় লক্ষণ ও করণীয়

২৯ জানুয়ারি ২০২০

করোনা ভাইরাস

বিভিন্ন দেশের উদ্ধার পরিকল্পনা

২৯ জানুয়ারি ২০২০

করোনা ভাইরাস

বিশ্বব্যাপী মারা যেতে পারে সাড়ে ৬ কোটি মানুষ

২৮ জানুয়ারি ২০২০





এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত