টিসিবি’র পচা পিয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ

আলতাফ হোসাইন

শেষের পাতা ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৯

ফাইল ছবি
মিশর, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টন পিয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। এর বেশির ভাগই বিক্রি হচ্ছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র মাধ্যমে। ঢাকা শহরের ৬৫টি স্থানে খোলা ট্রাকে প্রতিদিন এক টন  করে পিয়াজ বিক্রি হয়। অন্যন্য জেলা শহরেও একই কার্যক্রম চলছে। ৪৫ টাকা কেজি দরের এই পিয়াজ কিনতে ব্যাপক আগ্রহও আছে সাধারণ ক্রেতাদের। কারণ এখনও বাজারে পিয়াজের দাম আকাশচুম্বি। বিদেশ থেকে আমদানি করা বড় আকৃতির পিয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। এই পিয়াজ সহজে পঁচে যাচ্ছে।
জাহাজে করে আসা এসব পিয়াজ ক্রেতাদের হাতে আসা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জাহাজ এবং গুদামে থাকছে। এতে বস্তাভর্তি পিয়াজ পঁচে যাচ্ছে। এই পিয়াজই তুলে দেয়া হচ্ছে ক্রেতাদের হাতে। এনিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে ক্রেতাদের মধ্যে। টিসিবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি করা পিয়াজ আসছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। দেশে আসা মাত্র এগুলো এজেন্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। তবে বড় আকৃতির পিয়াজ সহজে পঁচে যাচ্ছে। এতে টিসিবিও বিপাকে পড়েছে। পঁচে যাওয়ায় এক কেজি করে প্রতিজনের কাছে বিক্রির নিয়ম থাকলেও গতকাল কোথাও কোথাও একেক জনকে পাঁচ কেজি করে দিতে দেখা গেছে। টিসিবি জানায়, দুই একটা পিয়াজ নষ্ট বের হলে তা ফেলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ডিলাররা ভালো খারাপ মিলিয়ে বিক্রি করছে। তবে ডিলাররা বলছেন, এত বেশি নষ্ট বের হচ্ছে যে তা ফেলে দিলে অর্ধেক পিয়াজ ফেলে দিতে হবে।
সরজমিনে রাজধানীর জিগাতলা ও খামারবাড়ি মোড়সহ কয়েকটি পয়েন্টে দেখা যায়, নষ্ট পিয়াজ দেয়ায় অনেকে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। অনেকে আবার পাল্টে নিতে চাইলেও দেয়া হচ্ছে না। এতে ডিলাররাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। তারা বলছেন, যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় গুদামে ভালো পিয়াজও নষ্ট হচ্ছে। টিসিবির তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, চাহিদা বেশি থাকায় এক কেজির জায়গায় দুই কেজি দেয়ার অনুমতি দেয়া আছে। ২ কেজির জায়গায় ৫ কেজির দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। এটা যারা করছে তারা অনিয়ম করছে। যেসব ডিলাররা এটা করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু পিয়াজ নষ্ট হচ্ছে না, আসলে ফ্রিজিং কন্টেইনারে করে আনার কারণে পিয়াজে পানি ধরছে। এতে কিছু পিয়াজ নষ্টও হতে পারে। তবে সেটা বেশি না। কারণ পিয়াজ আসার পর আমরা এক দুই দিনের মধ্যে ট্রাকসেলে দিয়ে দেই। নষ্ট হওয়ার সুযোগই দেয়া হচ্ছে না। মিশরের পিয়াজগুলো বড় সাইজের তাই বস্তার ভেতর অনেক পিয়াজ থেঁতলে গিয়েও নষ্ট হচ্ছে। গুদামে কোন পিয়াজ নেই। আমদানির পর সরাসরি ট্রাকসেলে চলে যাচ্ছে। চাইলেও এগুলো বেশিদিন রাখাও যাবে না। অনেক দূর থেকে পিয়াজ আসছে কিছুতো নষ্ট হবেই।
তবে পিয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পিয়াজ আনা হচ্ছে বিমানপথে কিংবা সমুদ্রপথে। সমুদ্রপথে মিশর ও তুরস্ক থেকে আনা হয় রেফার্ড কনটেইনারে। এটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষায়িত কনটেইনার। ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারে সাধারণত ২৭ থেকে ২৮ টন পিয়াজ আনা হয়। কার্গো বিমানে আসা পিয়াজও থাকে বিশেষায়িত অবস্থায়। এ জন্য বিমান ও সমুদ্রপথে পিয়াজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। মিয়ানমারের পিয়াজের গুণগতমান কিছুটা খারাপ হলেও মিশর কিংবা তুরস্কের পিয়াজ নষ্ট থাকে না। কিন্তু টিসিবির ক্ষেত্রে উল্টো ঘটনা ঘটছে। আসলে নিম্ন মানের পিয়াজ আমদানি করা হচ্ছে তাই দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে টিসিবির একজন ডিলার বলেন, মিশর ও তুরস্ক থেকে আসা পিয়াজের মান ভালো। কিন্তু টিসিবি গুদামে ভালোভাবে তা সংরক্ষণ করতে পারছে না। এর দায় নিতে হচ্ছে আমাদের। ক্রেতারা আমাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। কিন্তু আমাদেরতো কিছু করার নেই। তিনি বলেন, টিসিবি থেকে পিয়াজ এনে প্রতিদিনই ক্রেতাদের গালাগাল শুনতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তারা যদি এক কেজি পিয়াজের মধ্যে ৩০০ গ্রামই পচা কিংবা নষ্ট পান, তাহলে তারা তো ক্ষুব্ধ হবেনই। পিয়াজের বাজার স্বাভাবিক করতে রাজধানীর ৬৫টি পয়েন্টে ট্রাকসেল দিচ্ছে টিসিবি। সচিবালয়ের গেট, প্রেস ক্লাব, কাপ্তান বাজার, ভিক্টোরিয়া পার্ক, সায়েন্স ল্যাব মোড়, নীলক্ষেত মোড়, শ্যামলী, জিগাতলা মোড়, খামারবাড়ি মোড়সহ ৬৫টি পয়েন্টে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে টিসিবি। খামারবাড়ি মোড়ে টিসিবির পিয়াজ কিনতে আসা বক্কর বলেন, ৫ কেজি পিয়াজের মধ্যে ২ কেজি নষ্ট বের হবে। মিশরের পিয়াজ আকারে বড় হওয়ায় চার-পাঁচটা মিলেই এক কেজি হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি পিয়াজ যদি নষ্ট পড়ে তাহলে অনেক লস হয়ে যায়। এমনিতেই এই পিয়াজের কোন স্বাদ নেই। ভেতরের আকৃতিটা বাধা কপির মতো। কোন ঝাঁঝ নেই। আবার এখন দেখছি প্রায় অধিকাংশ পিয়াজ নষ্ট। ডিলাররা নষ্টগুলো আলাদাও করছে না। ভালো খারাপ মিলিয়ে বিক্রি করছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আলেয়া বেগম বলেন, ভালো পিয়াজের সঙ্গে পচা পিয়াজ মিশিয়ে দেয় ডিলার। অনেক বলার পরও তারা পঁচা পিয়াজ আলাদা করে দেয় না। এতো  কষ্ট করে পিয়াজ পাওয়ার পর একটি নষ্ট পড়লে মন খারাপ হয়ে যায়। পঁচা পিয়াজ পেলে পাল্টে দিতে বলি কিন্তু তারা দেয় না। খামারবাড়ি এলাকার বিক্রেতা রবিউল বলেন, আরও অনেক পিয়াজ গুদামে আছে সেগুলোও নষ্ট। টিসিবি নষ্ট পিয়াজ দিচ্ছে আমাদের কি করার আছে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

ফের অস্থির চালের বাজার

২৩ জানুয়ারি ২০২০

ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস

২৩ জানুয়ারি ২০২০

দিল্লিতে ৩০-৩১শে জানুয়ারি বৈঠক

দু’বছর পর আলোচনার টেবিলে বিবিআইএন

২৩ জানুয়ারি ২০২০

বিশ্বে গণতন্ত্রের পশ্চাৎযাত্রা

‘হাইব্রিড শাসনাধীন’ দেশ বাংলাদেশ

২৩ জানুয়ারি ২০২০

এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘিরে তদন্ত পরিবারের সন্দেহ

২২ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

সোনাইমুড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

থানা হেফাজতে এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

সহকর্মীদের বিক্ষোভ নানা প্রশ্ন

বিশ্বে গণতন্ত্রের পশ্চাৎযাত্রা

‘হাইব্রিড শাসনাধীন’ দেশ বাংলাদেশ