বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেরেমি করবিন

আমরা একটি ফেয়ার এন্ড ভ্যালেন্সড সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই

তাইসির মাহমুদ

বিশ্বজমিন ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:১০

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আমার অগ্রাধিকার। আমি এমন একটি দেশে নেতৃত্ব দিতে চাই, যে দেশের মানুষ দরিদ্রতায় জর্জরিত থাকবে না। ছেলেমেয়েদের শিক্ষার অধিকার থাকবে। শিশুরা স্কুল কলেজ শেষ করে ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য যাবে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা অর্জনে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে না। তিনি আরো বলেছেন, আমি এমন একটি দেশে নেতৃত্ব দিতে চাই যেদেশের ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করতে পারবো। যেদেশের মানুষ ভালো বেতন পাবে। ভালো পরিবেশে চাকরির সুযোগ থাকবে।
আমি বৈষম্য দেখতে চাই না। আমরা একটি ফেয়ার এন্ড ভ্যালেন্সড সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমি সেটা করতে বদ্ধ পরিকর। তিনি গত ১৭ই নভেম্বর রোববার সকালে সেন্ট্রাল লন্ডনের গর্ডন স্কয়ারের বার্কবেক ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরী রুমে আধঘণ্টার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেন।

প্রশ্ন: লেবার পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা কেমন?
জেরেমি করবিন: খুব ভালো। বহু নির্বাচনী আসন ঘুরেছি। প্রতিটি আসনেই বিপুল সংখ্যক লেবার সমর্থক আমাদের প্রার্থীদের পক্ষে জোরালো প্রাচারণা অব্যাহত রেখেছেন। লেবারের পক্ষে যে মানুষের সমর্থন বাড়ছে, তার প্রমাণ পেয়েছি। প্রিন্ট মিডিয়ার অধিকাংশই আমার বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া অফকমের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ন্যায্য কাভার দিতে বাধ্য হচ্ছে। এটা আমাদের ক্যাম্পেইনে সহযোগিতা করছে। তবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের ক্যাম্পেইন অব্যাহত রেখেছি। আমার টুইটার অ্যাকাউন্টে দুই মিলিয়নের বেশি অনুসারী রয়েছেন।  

প্রশ্ন: আপনি কি বিশ্বাস করেন লেবার পার্টি এই নির্বাচনে বিজয় ঘরে তুলতে পারবে?
জেরেমি করবিন: হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি মনে করি লেবার পার্টি সরকার গঠন করবে। বর্তমানে আমাদের যত আসন আছে তার চেয়ে আরো অনেক বেশি আসনে বিজয়ী হতে হবে। বিশেষ করে স্কটল্যান্ড, মিডল্যান্ড ও লন্ডনের কিছু আসনে বিজয়ী হতে হবে। আমরা ৯৫টি আসন টার্গেট করে বেশি করে কাজ করছি। গত এক বছরে আমি ১২০টি দলীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছি। রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, কমিউনিটি সেন্টার, কলেজ, ফ্যাক্টরিতে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছি। তাদের কথা শুনেছি। মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি।

প্রশ্ন: আপনি এক নির্বাচনী সমাবেশে ঘোষণা দিয়েছেন  লেবার পার্টি ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে ফ্রি ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করবেন? এই বিশাল সার্ভিসের ব্যয় কিভাবে নির্বাহ করবেন?
জেরেমি করবিন : হ্যাঁ, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্রি ব্রডব্যান্ড চালুর প্রতিশ্রুতি আছে। এ খাতে আগামী ১০ বছরে ২০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে। ৫ বিলিয়ন পাউন্ড ইতোমধ্যে সরকারের ফান্ডে আছে। বাকি অর্থ ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ট্রান্সফরমেশন ফান্ড ও গ্রীন ফান্ড থেকে সংকুলান করা হবে। ভালো মানের ইন্টারনেট পাওয়ার অধিকার সকল নাগরিকের আছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ৯৫ ভাগ মানুষ ভালো মানের ব্রডব্যান্ড সেবা পেয়ে থাকে। কিন্তু বৃটেনে ১০ পার্সেন্টেরও কম মানুষ ভালো ইন্টারনেট সুবিধা পায়। শহরের গরীব এলাকায় ভালো ইন্টারনেট সুবিধা নেই বললেই চলে। যারা গ্রামে থাকেন তাদের অবস্থা তো আরো খারাপ। আমরা প্রথমে নগরীর গরীব এলাকা ও গ্রামের বাসিন্দাদের উন্নতমানের ইন্টারনেট সেবা প্রদান করবো। ইন্টারনেট ভালো না হওয়ার কারণে গরীব এলাকায় মানুষ ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারছে না। আজকাল কিছু করতে হলে ইন্টারেনেটের প্রয়োজন হয়।  

প্রশ্ন: জেরেমি, আপনি হয়তো জানেন- যুক্তরাজ্যে কয়েক হাজার বৃটিশ-বাংলাদেশীসহ প্রায় ৪৫ হাজার বাসিন্দা মিনি ক্যাব চালান। তারা ইলেক্ট্রিক কার কিনতে চান। কিন্ত দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছেন না। লেবার ক্ষমতায় এলে তাদের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা আছে কী?
জেরেমি করবিন: বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা একটি জরুরী অবস্থার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। এ কারণে গরীব দেশের গরীব এলাকার মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মোজাম্বিকসহ অন্যান্য দেশ ঘন ঘন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা আমাদের শহরকে বাঁচাতে হলে বায়ু দূষণ রোধ করতে হবে। আর এর একমাত্র উপায় সর্বত্র হাইব্রিড ইলেক্ট্রিক গাড়ি চালু করা। কিন্তু সেটা অন্যান্যভাবে করলে যারা টেক্সি চালান, মিনি ক্যাবিং করেন কিংবা গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা আর এই পেশায় থাকতে পারবেন না। কারণ তাদের নতুন ইলেক্ট্রিক গাড়ি কেনার সামর্থ নেই। মেয়র অব লন্ডন ইতোমধ্যে ‘স্কাপেজ স্কীম’ চালু করেছেন। এই স্কীমের আওতায় পুরাতন গাড়ি কিনে নিয়ে একটা মূল্য দেয়া হয়। কিন্তু এই অর্থ নতুন ইলেক্ট্রিক কার কেনার জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই আমরা সারাদেশে সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করবো। তাহলে তারা সহজেই পেট্রোলচালিত গাড়ি থেকে বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে ট্রান্সফার হতে পারবেন। এতে করে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমরা সকলেই লাভবান হবো। আমরা দূষণমুক্ত বায়ু পাবো।

প্রশ্ন: বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এদেশে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদেরকে বৈধতা দেয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। আপনার দল ক্ষমতায় এলে অভিবাসীদের জন্য কী করবে?
জেরেমি করবিন: আমরা অভিবাসীদের সবগুলো আবেদন রিভিউ করবো। বিশেষ করে ১০ বছর ধরে যারা এদেশে বসবাস করছেন তাদের বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সবকিছু আছে।  

প্রশ্ন:  কনজার্ভেটিভ পার্টির বর্তমান ইমিগ্রেশন পলিসি হচ্ছে একেবারেই হস্টাইল (বৈরি)। কেউ ভিসার জন্য আবেদন করলে কোনো কারণ ছাড়াই তা প্রত্যখ্যান করা হয়। আপনার দল ক্ষমতায় গেলে ইমিগ্রেশন নীতি কী হবে?
জেরেমি করবিন:  তেরেসা মে হোম সেক্রেটারি হওয়ার পর লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির সমর্থন নিয়ে হস্টাইল ইমিগ্রেশন পলিসি চালু করেন। এই নীতি অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও মানবতা বিরোধী। এটা মানুষের জীবনে করুণ প্রভাব ফেলে। আমার নির্বাচনী এলাকার একজন বাসিন্দা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এদেশে বসবাস করছেন। তিনি ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস), স্থানীয় সরকার ও স্কুলে চাকরি করেছেন। কিন্তু পনেরো বছর পর এসে জানতে পারেন তিনি ও তাঁর পরিবার এদেশে আর বসবাস করতে পারবেন না। তাদেরকে স্বপরিবারে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এ নিয়ে স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ করে। ফলে হোম অফিস তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো থেকে আপাতত বিরত থাকে। কিন্তু তাদেরকে এখনও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়া হয়নি। এছাড়া যারা ইতোমধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকে বৃটেন এসেছেন তাদের এ দেশে স্থায়ী বসবাসের কোনো বৈধতা নেই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বৃটেনে আরো একটি উইন্ডরাশ কেলেংকারির ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের অভিবাসন নীতি হবে মানবিক। এই দেশ অভিবাসীদের ওপর নির্ভরশীল। তারা এদেশের হেলথ সার্ভিস, শিক্ষা ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিল্পকারখানা, ফ্যাক্টরি ও ব্যবসা কঠোর পরিশ্রমে টিকিয়ে রেখেছেন। সুতরাং ইমিগ্রেশন অব্যাহত থাকবে। যেভাবে বৃটিশ নাগরিকেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরি করেন সেভাবে আমরাও যুক্তরাজ্যে মানুষের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত রাখবো। কাজের সুযোগ রাখবো। আমরা কিছুতেই অভিবাসী আসার পথ বন্ধ রাখতে পারিনা, আমাদের তা উচিত নয়।

প্রশ্ন: ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কনজার্ভেটিভ পার্টি ব্রেক্সিট নির্বাচন বলে অভিহিত করেছে। আসলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে ব্রেক্সিট সমস্যার সমাধান হবে বলে কি আপনি মনে করেন?
জেরেমি করবিন:  আমি দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার জন্য গিয়েছি। মানুষের সাথে কথা বলে দেখেছি তাদের কাছে শুধু ব্রেক্সিটই মূল বিষয়বস্তু নয়। আরো অনেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয় আছে। আমাদের এনএইচএস আমেরিকা নিয়ে নিতে পারে- এ নিয়ে সাধারণ মানুষ আতংকে আছে। বরিস জনসন যদি চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট করেন তাহলে এনএইচএস আমেরিকান কোম্পানী টেকওভার করে নেবে। তাছাড়া গত ৯ বছর ধরে এনএইচএস এর বাজেট কাটার কারণে দেশের স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়েছে। তাই নির্বাচন শুধু ব্রেক্সিটের ওপর হবে না। নির্বাচন হবে ন্যায় বিচারের ওপর।  

প্রশ্ন: লেবার ক্ষমতায় এলে কি আরো একটি রেফারেন্ডাম দেবে?
জেরেমি করবিন: ক্ষমতায় গেলে ইউরোপের সাথে একটি ব্রেক্সিট চুক্তি তৈরি করবো। যে চুক্তি বৃটেনের মানুষের ব্যবসার সুরক্ষা দেবে, চাকরির নিশ্চয়তা দেবে। দেশের শিল্প কারখানার কোনো ক্ষতি হবে না। এরপর ৬ মাসের মধ্যে গণভোট দেবো এবং আমাদের চুক্তিগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরবো। জনগন চুক্তি দেখে ভালোভাবে বুঝেশুনে ভোট দেবে। তখন তারাই সিদ্ধান্ত নেবে আসলে চুক্তি মেনে নিয়ে ইউরোপ থেকে বের হয়ে আসবে নাকি ইউরোপের সাথেই থাকবে। মানুষ লিভ না রিমেইনের পক্ষে ভোট দেবে সেটা আমরা সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেবো। কারণ মানুষ নিজের চাকরি হারানোর জন্য গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয়নি।  

প্রশ্ন:  জেরেমি, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন, বৃটেনে বাংলাদেশী মালিকানাধীন ১২ হাজার রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এই রেস্টুরেন্টগুলো তথা গোটা কারি শিল্প স্টাফ সংকটে ভুগছে। রেস্টুরেন্ট মালিকরা বাংলাদেশসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে স্টাফ আনতে পারছেন না। শেফ না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আপনার সরকার ক্ষমতায় এলে রেস্টুরেন্ট শিল্পের স্টাফ সংকট নিরসনে কী করবে?
জেরেমি করবিন: আমাদেরকে প্রথমেই উপলব্ধি করতে হবে যে, এই দেশের বিভিন্ন সেক্টর চালানোর জন্য বহির্বিশ্ব থেকে দক্ষ জনশক্তি দরকার। এর মধ্যে একটি ক্যাটাগরী হলো রেস্টুরেন্টের শেফ। আমার নির্বাচনী এলাকার অনেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে তাদের রেস্টুরেন্টের স্টাফ সংকটের কথা বলেছেন। বিশেষ করে তারা শেফ পাচ্ছেন না। লেবার ক্ষমতায় গেলে পুরো পলিসি রিভিউ করে কারি শিল্পে স্টাফ সংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্রশ্ন:  আপনার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক সমালোচনা শোনা যায়। লেবার পার্টিরই একটি গ্রুপ বলেন, আপনি চরম বামপন্থী। তাই আপনি মধ্যপন্থী কিবা ডানপন্থী মানুষকে নির্বাচনে লেবারের পক্ষে আকৃষ্ট করতে পারছেন না। তাদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?
জেরেমি করবিন: আমি এমন একটি দেশে নেতৃত্ব দিতে চাই যে দেশের মানুষ দরিদ্রতায় জর্জরিত থাকবে না। ছেলে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার থাকবে। শিশুরা স্কুল কলেজ শেষে করে ইউনিভার্সিটিতে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য যাবে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা অর্জনে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বে না। আমি এমন একটি দেশে নেতৃত্ব দিতে চাই যেদেশের ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করতে পারবো। যেদেশের মানুষ ভালো বেতন পাবে। ভালো পরিবেশে চাকরি করার সুযোগ থাকবে। আমি বৈষম্য দেখতে চাইনা। বর্তমান সরকার বড় বড় কর্পোরেট ব্যবসায়ী ও ধনীদের ট্যাক্স কমিয়ে দিয়ে তাদেরকে আরো সম্পদশালী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আয় রোজগার কমছে। গত দশ বছরে সাধারণ মানুষ ২৫ শতাংশ আয় হারিয়েছে। মধ্যবয়সী মানুষ সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। তাদেরকে একদিকে নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভরন পোষণ ও পড়ালেখার খরচ বহন করতে হয়, অন্যদিকে পরিবারের বয়স্ক লোকদেরও লালন-পালন করতে হয়। এরপর আবার অনেককে ঘর ভাড়া করে থাকতে হয়। আমরা একটি ফেয়ার এন্ড ভ্যালেন্সড সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমি সেটা করতে বদ্ধ পরিকর। আর আমি এটা করি বলে আমি চরম বামপন্থী নই। আমি একজন সচেতন মানুষ।

প্রশ্ন: বৃটেনে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম বিদ্বেষ অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলেছে। ইসলামোফোবিয়া মোকাবালোয় লেবার সরকার কী পদক্ষেপ নেবে?
জেরেমি করবিন:  ইসলাম বিদ্বেষ আমাদের সমাজে বিষক্রিয়ার মতো। যেকোনো ধরনের বর্ণবাদ হচ্ছে বিষক্রিয়া। আমাদের সমাজের জন্য সবচেয়ে বিপদজ্জনক মানুষ হলো চরম ডানপন্থী ও চরম বর্ণবাদী। শুধু বৃটেনেই নয়, গোটা ইউরোপে। যেখানে বর্ণবাদ আছে, ইসলামোফোবিয়া আছে সেখানে কোনো ভবিষ্যত নেই। ভবিষ্যত সেখানেই আছে যেখানে তরুণ সমাজ এমন একটি পরিবেশে বড় হয় যেখানে একজন আরেকজনে সাথে অবাধে মিলে মিশে চলতে পারে। মানুষের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারে। পার্থক্যটা পজেটিভভাবে দেখে, নেগেটিভভাবে নয়।

প্রশ্ন: জেরেমি, আমরা সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। শেষ করার আগে আপনার ব্যক্তিগত শখ এবং পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে জানতে চাইবো। জানতে চাই আপনি কী ধরনের কারি (তরকারী) খেতে পছন্দ করেন।

জেরিম করবিন: (হেসে উঠে বলেন) আমি রকমারী খাবার পছন্দ করি। আমার স্ত্রী মেক্সিকান। তাই মেক্সিকান খাবার তাঁর প্রিয়। বেশি মশলা ঝাল তরকারী তিনি পছন্দ করেন। তবে আমার ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, বেশি মশলা ও ঝাল তারকারী ডাইজেস্ট (হজম) করতে পারিনা। তাই পারিবারিক খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে সবসময়ই স্ত্রীর সাথে সমঝোতা করে চলতে হয়। তবে আমি যখন আমার স্থানীয় এলাকার ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খেতে যাই তখন তারা আমাকে খুব সুস্বাদু ভেজিটেবল কোরমা খেতে দেন। ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের কোরমা আমার খুবই পছন্দনীয়। নারিকেল দিয়ে রান্নার কারণে এটা খুব সহজে হজম হয়। সাথে পোলাও রাইস এন্ড মেংগো জুস থাকে। কারণ আমি এলকোহল (মদ) খাই না।

প্রশ্ন: যেহেতু কারি পছন্দ করেন তাহলে একদিন কারি ক্যাপিটাল ব্রিকলেনে কেন খেতে আসছেন না?
জেরেমি করবিন: ওহ ইয়েস, আমি জানি। ব্রিক লেন কারির জন্য একটি চমৎকার জায়গা। আমার ছেলে ব্রিকলেনের শেষ মাথায় বসবাস করে। সে আমাকে প্রায়ই ব্রিক লেনের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের সুস্বাদু খাবারের কথা বলে। অনেকবার যেতে বলেছে। কিন্তু যাওয়া হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই একদিন যাবো। আমি কি সেখানে ভেজিটেবল কোরমা খেতে পারবো? কোরমা আসলে খুবই সুস্বাদু একটি কারি।

প্রশ্ন: আপনি নাকি গার্ডেনিং খুব পছন্দ করেন?
জেরেমি করবিন: ওহ ইয়েস। আমি লাউ পছন্দ করি। আমার গার্ডেনে আমি লাউ চাষ করি।  

প্রশ্ন: বাংলাদেশী কমিউনিটির মানুষও তো লাউ পছন্দ করেন। ভালো লাউ চাষের কিছু টিপস বলে দেবেন?

জেরেমি করবিন:  ভালো লাউ চাষ করতে চাইলে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে গার্ডেনের মাটি খুঁড়ে সার দিয়ে রাখতে হয়। এপ্রিল মাসে লাউর বিচি দিয়ে চারা করতে হয়। এরপর মে মাসে চারা রোপন করলে খুব ভালো লাউ হয়।

প্রশ্ন:  লাউ খাবারের ব্যাপারে কি কোনো টিপস আছে?
জেরেমি করবিন: (হাসতে হাসতে) লাউ ছোট থাকতে খেতে খুবই মজাদার। তবে সবগুলো না খেয়ে একটি লাউ রেখে দেবেন। এটা বড় হতে দেবেন, খুব বড়। বড় হওয়ার পর তুলে এনে মধ্যভাগে কেটে বিচি বের করে ফেলবেন। এরপর ছিদ্র করে তার মধ্যে কিছু ভেজিটেবল, নারিকেল, গ্রীন পেপার, ধনিয়া ঢুকিয়ে জয়তুনের তেল দিয়ে ভালোভাবে মাখাতে হবে। এরপর ফয়েল দিয়ে ভালোভাবে মুড়িয়ে ওভেনের মধ্যে রেখে দেবেন। কিছুক্ষণ পরে বের করে টেবিলে রাখবেন। পরিবারের সকলকে নিয়ে বসবেন। সকলে মিলে একসাথে খাবেন। খাবারে যখন সকলকে শেয়ার করবেন তখনই আপনি বেশি উপভোগ করতে পারবেন।

প্রশ্ন: আপনি কি কখনো বাংলাদেশে গিয়েছিলেন?
জেরেমি করবিন: ইয়েস, একবার বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। সিলেটের একটি সরকারী গেস্ট হাউজে থাকি। সেখানকার মানুষের সাথে আমি কথা বলেছি। সিলেট খুব সুন্দর জায়গা, সিলেটের মানুষ চমৎকার। আগামীতেও বাংলাদেশ যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

প্রশ্ন: আগামীতে যখন সিলেট যাবেন তখন আমার বাড়িতে আপনার আমন্ত্রণ থাকলো।  

জেরেমি করবিন: (হেসে উঠে) ওহ আপনার বাড়ি সিলেট? তাহলে তো যেতেই হয়।

উল্লেখ্য, ৭৫ বছর বয়সী জেরেমি করবিন ৩৬ বছর ধরে বৃটিশ পার্লামেন্টের এমপি। লন্ডনের ইলিংটন নর্থ আসন থেকে প্রথম নির্বাচিত হন ১৯৮৩ সালের ৯ জুন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি একই আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টে পেছনের সারির এমপি ছিলেন। ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি লেবার পার্টির লীডারশীপ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ফার্স্ট প্রিফারেন্সে (প্রথম পছন্দে) ৫৯.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে লেবার দলের লীডার নির্বাচিত হন।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

আলিয়ার মায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ

বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে আফজাল গুরুকে, তদন্তের আহ্বান

২১ জানুয়ারি ২০২০

জেগে উঠেছে পুরনো প্রেম

পালিয়েছেন বরের পিতা ও কনের মা

২১ জানুয়ারি ২০২০

অভিশংসনের বিচার শুরু আজ

কি ঘটবে ট্রাম্পের ভাগ্যে!

২১ জানুয়ারি ২০২০





বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



জেগে উঠেছে পুরনো প্রেম

পালিয়েছেন বরের পিতা ও কনের মা