লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারত ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৭

বিরোধীদের তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেই সোমবার লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কংগ্রেসসহ বিরোধীরা এই বিলকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিলেও অমিত শাহ বলেছেন, ‘ভারতের ০.০০১ শতাংশ সংখ্যালঘুকে কোণঠাসা করা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য নয়। আগেই এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। আর সমানাধিকারের কথা যখন উঠছেই, তখন একটা কথা বলতেই হয়, সংখ্যালঘুরা যখন শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষণ পায়, তখন সমানাধিকারের যুক্তি কোথায় যায়? তাতে সংবিধানের ১৪ ধারা লঙ্ঘন হয় না?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন উদ্বাস্তুুদের আশঙ্কা কাটাতে বলেন, নাগরিকত্বের আবেদন করার পর যদি কারও বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দায়ের হয় তাহলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর থেকে যাবতীয় অভিযোগ নিজ থেকেই প্রত্যাহার হয়ে যাবে। নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কারও বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কোনও মামলা চালানো যাবে না। ধর্মীয় নির্যাতনের জেরে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীকে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে নাগরিক সংশোধনী বিলে।
এর আগে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়, অন্তত ১১ বছর ভারতে থাকলে তবেই কোনও ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এর পরে তা ৬ বছর করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এবার নয়া বিলে ওই সংস্থান কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে।
তবে তাতে বাইরে থেকে আসা মুসলিমদের কথা বলা হয়নি। এতেই আপত্তি তুলেছেন বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে বেছে অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে অমিত শাহ বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে কোনও মুসলিম নাগরিকত্বের আবেদন জানালে, তা খতিয়ে দেখা হবে। শুধুমাত্র সংশোধনী বিলের আওতায় কোনও সুবিধা পাবেন না তারা। কারণ পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে তাদের ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হতে হয় না।
এদিকে, সংসদে নাগরিকত্ব বিল পেশ হলে তার তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীরা। এই বিলকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছেন তারা। দেশের সংখ্যালঘুদের নিশানা করতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনা হয়েছে বলে লোকসভায় মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানে উল্লেখিত সমানাধিকার সংক্রান্ত ১৪ ধরার লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসর সৌগত রায়। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অমিত শাহ কংগ্রেসর ঘাড়ে দায় চাপিয়ে বলেছেন, আজ এই বিলের প্রয়োজন পড়লো কেন? স্বাধীনতার পর কংগ্রেস ধর্মের নিরিখে দেশভাগ না করলে আজ এই বিলের প্রয়োজনই ছিল না। আমরা নই, ধর্মের নিরিখে দেশভাগ করেছিল কংগ্রেসই। এ প্রসঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর কথাও টেনে এনেছেন শাহ।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তখন তিনি পাকিস্তানি শরণার্থীদের আশ্রয় দেননি কেন? তাহলে কী ইন্দিরা গান্ধীও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?
উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে চলা নাগরিকত্ব বিল বিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে অমিত শাহ বলেন, এই বিলে আপনাদের সব অভিযোগের প্রতিকার করা হয়েছে। এখন আর আন্দোলনের কোনও প্রয়োজন নেই।  বিলের আওতা থেকে ইনার লাইন পারমিট চালু রয়েছে যেসব রাজ্য তাদের এবং ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকাগুলোকে বাদ দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

ভারত অন্যান্য খবর

কলকাতা ডায়েরি

হাওড়া সেতুতে চালু হল লাইট এন্ড সাউন্ড শো

১১ জানুয়ারি ২০২০





ভারত সর্বাধিক পঠিত