জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

চলচ্চিত্র সমাজকে সংস্কার করতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৪

চলচ্চিত্রের মাধ্যমে একটা সমাজকে জানা যায়, তেমনি সমাজের কাছে বিশেষ কোনো বার্তাও পৌঁছাতে হলে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তা সহজে পৌঁছানো যায়। চলচ্চিত্র সমাজকে সংস্কার করতে পারে। তাই সামাজিক অবক্ষয় রোধে চলচ্চিত্র বড় অবদান রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ প্রদান শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। দর্শক ফেরাতে দেশের বিভিন্ন জায়গার সিনেমা হল ডিজিটাল করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়েও সিনেমা হল ডিজিটাল করতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সরকারি অনুদানের ছবি সিনেমা হলে মুক্তি দেয়াটা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অনুদানের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। শিল্পীদের জন্য কল্যাণ তহবিল ফান্ড গঠন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো: মুরাদ হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং তথ্যসচিব আবদুল মালেক।  বিকেল ৪টায় ২০১৭ সালের আজীবন সম্মাননা ও পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জন্য যথাক্রমে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন এ টি এম শামসুজ্জামান ও সালমা বেগম সুজাতা এবং এম এ আলমগীর ও প্রবীর মিত্র। ২০১৭ সালের সেরা অভিনেতা হিসেবে যৌথভাবে পুরস্কার নেন শাকিব খান ও আরিফিন শুভ। শাকিব খান ‘সত্তা’ ও আরিফিন শুভ ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য যৌথভাবে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ‘গহীন বালুচর’ সিনেমাটি মোট ৭টি বিভাগে-শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচিয়তা ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক বিভাগে বদরুল আনাম সৌদ, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্রে মো : শাহাদাৎ হোসেন, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে সুবর্ণা মুস্তাফা, শ্রেষ্ঠ কৌতুক চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম কুমার গুহু, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসেবে কমল চন্দ্র দাস পুরস্কার গ্রহণ করেন। এরপরই একই বছর ‘সত্তা’ সিনেমাটি মোট ৫টি বিভাগে-শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে শাকিব খান, শ্রেষ্ঠ গায়ক মাহফুজ আনাম জেমস, শ্রেষ্ঠ গায়িকা মমতাজ বেগম, শ্রেষ্ঠ গীতিকার সেজুল হোসেন, শ্রেষ্ঠ সুরকার বাপ্পা মজুমদার পুরস্কার গ্রহণ করেন। ‘হালদা’ সিনেমায় ৫টি বিভাগে- শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে নুসরাত ইমরোজ তিশা, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে রুনা খান, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্রে জাহিদ হাসান, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার আজাদ বুলবুল, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার তৌকির আহমেদ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমাটি ৪টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার গ্রহণ করে। এগুলো হচ্ছে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (কায়সার আহমেদ ও সানী সানোয়ার), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা আরিফিন শুভ, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাথ, শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান জাভেদ মিয়া। এছাড়া শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘বিশ্ব আঙিনায় অমর একুশে’, শ্রেষ্ঠ পোষাক ও সাজ-সজ্জায় ‘তুমি রবে নীরবে’ সিনেমার জন্য রিটা হোসেন, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ (তুমি রবে নীরবে), শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক ইভান শাহরিয়ার সোহাগ (ধ্যাততেরিকি), ‘ছিটকিনি’ সিনেমায় শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী হিসেবে নাইমুর রহমান আপন এবং ‘আঁখি ও তার বন্ধুরা’ সিনেমাতে শিশু শিল্পী বিশেষ শাখায় বিশেষ পুরস্কার পান অনন্য সামায়েল। এরপর ২০১৮ সালের সেরা অভিনেতা যৌথভাবে চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও সাইমন সাদিক পুরস্কার গ্রহণ করেন। ফেরদৌস ‘পুত্র’ ও সাইমন সাদিক ‘জান্নাত’ ছবির জন্য পুরস্কার পান। ‘পুত্র’ ছবিটি মোট ১১টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে এবার। চলচ্চিত্র প্রকাশনা ও টেলিভিশন ইনস্টিউটের ‘পুত্র’ সিনেমা শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার পায়। এ সিনেমার অন্য ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে- শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে চিত্রনায়ক ফেরদৌস, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার সাইফুল ইসলাম মাননু, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচিয়তা এস. এম. হারুন-অর-রশীদ, শ্রেষ্ঠ গায়ক নাইমুল ইসলাম রাতুল, শ্রেষ্ঠ গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক তারিক হোসেন বিদুৎ, শ্রেষ্ঠ গীতিকার জুলফিকার রাসেল, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক আজম বাবু, শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী ফাহিম মুহতাসিম লাজিম, শ্রেষ্ঠ পোষাক ও সাজ-সজ্জা সাদিয়া শবনম শানতু। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও  টেলিভিশন ইনস্টিউটের শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার জিতেছে ‘গল্প সংক্ষেপ’, ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’ শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে ফরিদুর রেজা সাগর পুরস্কার গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে অন্য ক্যাটাগরিতে আরো পুরস্কার গ্রহণ করেন শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক (জান্নাত), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্রে সাইমন সাদিক (জান্নাত), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্রে জয়া আহসান  (দেবী), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্রে আলীরাজ (জান্নাত), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে সুচরিতা (মেঘকন্যা), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্রে সাদেক বাচ্চু (একটি সিনেমার গল্প), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে আফজাল শরীফ (পবিত্র ভালোবাসা), ‘মাটির প্রজার দেশে’ ছবির জন্য শিশু শিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার মাহমুদুর রহমান (অনিন্দ), শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে ইমন সাহা (জান্নাত), শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল (একটি সিনেমার গল্প), শ্রেষ্ঠ গায়িকা আঁখি আলমগীর (একটি সিনেমার গল্প), শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল (নায়ক), শ্রেষ্ঠ সুরকার রুনা লায়লা (একটি সিনেমার গল্প), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার সুদীপ্ত সাঈদ খান (জান্নাত), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম কুমার গুহু (একটি সিনেমার গল্প), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক  জেড এইচ মিন্টু  পোস্টমাস্টার ৭১), শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান ফরহাদ রেজা মিলন (দেবী)। উল্লেখ্য, এবার বিতর্কের মুখে ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ পড়ে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের ভারতীয় চিত্র সম্পাদক মো. কালামের নাম। অন্যদিকে, পুরস্কার ঘোষণার দুই দিন পর কমলা রকেট সিনেমায় ‘শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করে অভিনেতা মোশাররফ করিম। তিনি গতকালের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিতও ছিলেন না। পুরস্কার প্রদান শেষে বিভিন্ন সিনেমার জনপ্রিয় গানে নৃত্য পরিবেশন করেন অপু বিশ্বাস, তমা মির্জা, মাহি, নুসরাত ফারিয়াসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সামিনা চৌধুরী, মমতাজ, ইমরান, কনা প্রমূখ। দেশের গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

মায়ের সামনে প্রাণ গেল মেয়ের

২৪ জানুয়ারি ২০২০

কুমিল্লায় ধর্ষণ

প্রতিবাদ করায় খুন হন নাছির

২৪ জানুয়ারি ২০২০

ফের অস্থির চালের বাজার

২৩ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

সোনাইমুড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

থানা হেফাজতে এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

সহকর্মীদের বিক্ষোভ নানা প্রশ্ন

বিশ্বে গণতন্ত্রের পশ্চাৎযাত্রা

‘হাইব্রিড শাসনাধীন’ দেশ বাংলাদেশ