আওয়ামী লীগে নতুন হিসাব

কাজী সোহাগ

শেষের পাতা ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০০

একে একে শেষ হয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের কাউন্সিল। এতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সংগঠনেই বাদ পড়েছেন আগের কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা। শুধু যুবলীগ ব্যতিক্রম। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে আনা হয়েছে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে। সবমিলিয়ে বিতর্কিত আর নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে আলোচিত থাকা নেতাদের বাদ দেয়া হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে নেতৃত্বের নতুন সেটআপ। এই আলোকে এখন আলোচনা চলছে মূল দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে।
সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচন কেন্দ্রীয়  নেতৃত্ব নির্বাচনে একটি বার্তা। আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে এমন বিশ্লেষণের কথা জানান দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা বলেন, সবকিছু কাউন্সিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এক্ষেত্রে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মতামতকে দেয়া হবে গুরুত্ব। মূলত তার সিদ্ধান্তেই বেছে নেয়া হবে আগামীর নেতৃত্ব। দলটির সাধারণ সম্পাদক পদটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সভাপতি পদে কোন পরিবর্তন আসছে না এটা নিশ্চিত। কারণ তৃণমুল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা এই পদে শেখ হাসিনাকে ছাড়া আর কাউকে ভাবতে চান না। এমনকি বিকল্প নিয়েও তারা আলোচনা করতে রাজি নন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা।

নানা হিসাব-নিকাষ। এ নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা নানা মত ও যুক্তি তুলে ধরছেন বিভিন্ন আড্ডা আর আলোচনায়। ধানমন্ডি থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সর্বত্র হচ্ছে জল্পনা-কল্পনা। আগামী ২১ শে ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে। সম্মেলন ঘিরে কে কোন পদে আসছেন তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এমন প্রশ্ন থেকে বাদ পড়েননি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। সর্বশেষ বুধবার সচিবালয়ে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আপনাদের বারবার এ কথাই বলেছি যে, এটি আওয়ামী লীগ সভাপতির এখতিয়ার। আমাদের সভাপতি যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই হবে। কারণ উনি আমাদের কাউন্সিলরদের মাইন্ড সেটাপ ভালো করেই জানেন। আমাদের কাউন্সিলররাও সবসময় নেত্রীর ওপর আস্থা রাখেন।

নেত্রী যেটা সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্তে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই, এতে আমি সাধারণ সম্পাদক থাকি আর না থাকি সেটা প্রশ্ন নয়। এ প্রসঙ্গে দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় দল। তাই দলটির কাউন্সিল ঘিরে নানা আলোচনা, নানা জল্পনা থাকবেই। এটাই স্বাভাবিক। কাউন্সিল ঘিরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। আওয়ামী লীগের মতো দলের নেতৃত্বে থাকাটা অনেক সম্মানের ও গৌরবের। কারন বাংলাদেশের ইতিহাসের পরতে পরতে রয়েছে দলটির অংশীদারিত্ব।

তিনি বলেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীর পুর্ন আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন তার সঙ্গে সবাই একমত থাকবেন। তাকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে চলেছি গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে আর দেশের মানুষের ভাগ্য বদল করাতে। তিনি বলেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সম্মেলন নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ ও দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা সেগুলো নিয়ে নিরলস কাজ করছি। আশা করি আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলন হবে সবচেয়ে ভালো এবং সাংগঠনিকভাবে গোছালো। দলীয় নেতারা জানান, কাউন্সিলের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দল ও সরকারকে আলাদা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন এমন অনেককেই সম্মেলনে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে। আবার দলীয় পদ থেকে বাদ পড়েছেন কিন্তু দলীয় সভাপতির আস্থায় আছেন এমন অনেককে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেয়া হতে পারে। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগের আগামী নেতৃত্বে থাকবে বড় ধরনের চমক। দলের প্রায় সব বিভাগেই আনা হবে পরিবর্তন। বিশেষ করে উপদেষ্টা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকমন্ডলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপ-সম্পাদক পদে ব্যপক পরিবর্তন আনা হবে। দুটি কারনে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। প্রথমত ক্ষমতায় থাকতে থাকতে সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত করা। দ্বিতীয়ত আগামী বছর জুড়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে। এজন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দল সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা না থাকলে বছরব্যাপী আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। এজন্য নতুন ও তরুনদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।

পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সাধারণ সম্পাদকের পদ। বর্তমানে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। দলের একাধিক নেতা তার বিষয়ে দুই ধরনের মত দিয়েছেন। কেউ বলেছেন ওবায়দুল কাদেরই থাকছেন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। আবার কেউ বলছেন, এ পদে পরিবর্তন আনা হবে। চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক থেকে একজনকে দেখা যেতে পারে সাধারণ সম্পাদক পদে। দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০ ও ২১শে ডিসেম্বর। তিন বছর পর পর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হয়। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩শে অক্টোবর। সে হিসাবে অক্টোবরের ২৩ তারিখে শেষ হয়েছে ত্রিবার্ষিক কমিটির মেয়াদ। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সারা দেশ থেকে সাড়ে ৬ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। দলের জেলা কমিটির নির্বাচিত নেতারা হলেন জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিলর। দলের গঠনতন্ত্রে প্রতি ২৫ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একজন কাউন্সিলর নির্বাচনের বিধান আছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

তারেক

২০১৯-১২-০৬ ১৮:২১:১৮

হাসিনা একক সিদ্ধান্ত নিলে দোষ নাই, খালেদা নিলেই দোষ।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

ফের অস্থির চালের বাজার

২৩ জানুয়ারি ২০২০

ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস

২৩ জানুয়ারি ২০২০

দিল্লিতে ৩০-৩১শে জানুয়ারি বৈঠক

দু’বছর পর আলোচনার টেবিলে বিবিআইএন

২৩ জানুয়ারি ২০২০

বিশ্বে গণতন্ত্রের পশ্চাৎযাত্রা

‘হাইব্রিড শাসনাধীন’ দেশ বাংলাদেশ

২৩ জানুয়ারি ২০২০

এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘিরে তদন্ত পরিবারের সন্দেহ

২২ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

সোনাইমুড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

থানা হেফাজতে এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

সহকর্মীদের বিক্ষোভ নানা প্রশ্ন

বিশ্বে গণতন্ত্রের পশ্চাৎযাত্রা

‘হাইব্রিড শাসনাধীন’ দেশ বাংলাদেশ