একজন প্রতিবাদী শারমিন

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

ষোলো আনা ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪১

ছবি: জীবন আহমেদ
শারমিন আক্তার। অধ্যয়নরত আছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে। দ্বিতীয় বর্ষে। থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলে। দু’চোখে আলো নেই কিন্তু মনের আলোতে আলোকিত তিনি। সেই সঙ্গে সমাজকে আলোকিত করতে চান তিনি।

শারমিনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে। জন্মের পর কিছুটা চোখের আলো থাকলেও তৃতীয় শ্রেণিতে উঠার পর থেকে চোখে একদমই দেখতে পান না।
কিন্তু আলোহীন চোখ নিয়ে মনের আলোতে পার হয়েছেন দীর্ঘপথ।

২০১৫ সালে কৈখালী এস আর মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন শারমিন। এরপর ঢাকা এসে ভর্তি হন পুরান ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজে। ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন শারমিন। স্বপ্ন ছিল একজন আইনজীবী হবেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যের লটারিতে ভর্তি হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে।

সমপ্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ভিসিবিরোধী আন্দোলনে এসে আলোচিত হয়েছেন শারমিন। দৈনিক মানবজমিন-এ শারমিনকে নিয়ে ‘জাবি’র আন্দোলনে একজন শারমিন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।

শারমিন বলেন, মূলত ব্রেইল পদ্ধতিতে তাদের পড়াশোনা করতে হয়। তবে বোর্ড পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে তিনি সহযোগিতা নেন শ্রুতি লেখকের। সে ক্ষেত্রে শারমিনের সহযোগিতায় পাশে দাঁড়ান বন্ধু ও বিভাগের জুনিয়ররা। শারমিন বলেন, যেহেতু আমাদের দেশে ব্রেইল পদ্ধতি সহজলভ্য নয় তাই শ্রুতি লেখকের সহযোগিতা নিতে হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের।

তবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রচলিত রাইটিং ফ্রেমে লিখতেও পারদর্শী শারমিন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক করতে পছন্দ করেন তিনি। তবে দেশের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও পাবলিক এরিয়া এখনো প্রতিবন্ধীবান্ধব না বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

সমপ্রতি ভিসিবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়া নিয়ে জানতে চাইলে শারমিন বলেন, মূলত মিডিয়ার মাধ্যমে ঘটনা জানতে পারি। নৈতিক জায়গা থেকে আন্দোলনে যুক্ত হই। প্রথমে আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না। তবে আন্দোলনকারীদের উৎসাহ দিয়ে আসতাম। পরে আপনারা জানেন ছাত্রলীগ ও ‘শিক্ষকলীগ’-এর হামলায় কি বাজে পরিস্থিতি তৈরি হয়। জরুরিভিত্তিতে অনেককে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আন্দোলনের উপর এই ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার পর আমি আর বসে থাকতে পারিনি। এরপর সরাসরি আন্দোলনে যোগ দেই। আমি এখন বাড়িতে এসেছি। আন্দোলনে এখনো যারা আছেন তাদের আমি স্যালুট জানাই। ক্যাম্পাসে ফিরলে আমি আবারো আন্দোলনে যোগ দেবো।

এভাবে একনাগাড়ে কথাগুলো বলছিলেন শারমিন। ব্যক্তিজীবনে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি তিনি। ন্যায়ের পক্ষে লড়ে যেতে চান। মনের দুয়ারের আলোর শক্তিতে জেগে ওঠা শারমিনরা যুগে যুগে বেঁচে থাকুক। যারা চোখ থাকিতে অন্ধ, তাদের মনে আলো ফুটুক শারমিনদের অনুপ্রেরণায়।
 

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Jobayer

২০২০-০১-১২ ১২:২৭:৪৬

Go ahead strong sister.

আপনার মতামত দিন



ষোলো আনা অন্যান্য খবর

মুমিনুল-নাজিফা

অনেক অমিলেও অনন্য (ভিডিও)

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মানুষ কেন প্রেমে পড়ে?

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভালোবাসা এমনও হয়!

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মাঠে যাওয়ার এই তো সময়

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

একেই বলে ভোট

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শখ থেকেই পাখির ছবি তোলা

৩ জানুয়ারি ২০২০

নেশা থেকেই পাখির জগতে

৩ জানুয়ারি ২০২০

কারিগরের ক্যারিশমা

৩ জানুয়ারি ২০২০

দায়িত্ব সচেতন এক চিকিৎসক

৩ জানুয়ারি ২০২০

বিশ্বনাথের নিজের গল্প

৩ ডিসেম্বর ২০১৯



ষোলো আনা সর্বাধিক পঠিত