বাজারে ধর্মঘটের উত্তাপ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৬

নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। পরিবহন শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে দাম আরো বাড়বে এমন আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া ও ফরিদপুরসহ আরো কয়েকটি অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এতে পুরো ঢাকা শহর জিম্মি হয়ে পড়ে। ফলে, কোনো ধরনের মালবাহী পরিবহন ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে পারেনি।

গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল মার্কেট, ফকিরাপুল কাঁচাবাজার ও শুক্রাবাদ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। একটি বড় আকারের ফুলকপি রাখা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ছোটগুলোর দাম রাখা হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
একদিন আগে এর দাম ছিল ১০ থেকে ২০ টাকা। বাধাকপি এক লাফে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

টাউনহল মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আবুল মিয়া বলেন, আমরা কাওরানবাজার থেকে বেশি দামে কিনেছি। অবরোধের কথা বলে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা হারুন বলেন, ঢাকার আশেপাশে থেকে পিকআপে যে পণ্যগুলো সারাদিন আসে সেগুলো আসেনি। এসব পিকআপে আসে মূলত শাক ও শশা। তবে এই অবরোধ চললে আগামীকাল (আজ) রাতে ট্রাক না ঢুকলে বেড়ে যাবে প্রতিটি পণ্যের দাম।

কাওরান বাজারে শাক ও এ জাতীয় সবজি ঢাকার আশেপাশের এলাকা থেকে পিকআপ ভ্যানে আসে। এই ভ্যানগুলো প্রবেশ করতে না পারায় দাম বেড়েছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এই বাজারে প্রায় ২০টি পিকআপ আসে। গতকাল এসেছে ৬টি। একজন পিকআপ চালক রাস্তায় মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

গতকাল দেশী পিয়াজ ১৬০ টাকা ও মিসরের ও চাইনিজ পিয়াজ বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। কাওরান বাজারে দেশী পিয়াজ ১৫০ ও মিসরের ও চাইনিজ পিয়াজ বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। অবরোধের প্রভাবে চালের বাজারে প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। তবে আগে থেকেই চালের বাজারে দাম বেশি। মিনিকেট ৪৬ থেকে ৫০ টাকায়, আটাশ ৩৩ থেকে ৩৬, পাইজাম ৩২ থেকে ৩৪ এবং নাজির শাইল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্থিতিশীল রয়েছে মাছের বাজার। শুক্রাবাদ বাজারের মাছ বিক্রেতা হামিদ বলেন, কাওরান বাজারে মাছের দাম বেশি। ছোট রুই মাছ বিক্রি করছি ৩৫০ টাকায়। একদিন আগে যা ছিলো ৩০০ টাকা। খুচরা বাজারে এই অবরোধের দোহাই দিয়ে বাড়ানো হয়েছে মাছের দাম। কিন্তু কাওরান বাজারে আড়ৎদাররা পূর্বের মূল্যেই মাছ বিক্রি করেছেন বলে জানান। বাসিদ ফিসের মালিক ইবাদত হোসেন কাগজ দেখিয়ে বলেন, গত ৭ দিন ধরে ৫ প্রকার মাছ একই দামে বিক্রি করেছেন। এগুলো হলো রুই, কাতলা, পাবদা, শিং ও সিলভার কার্প। কাওরান বাজারের আরেক মাছ ব্যবসায়ী সুকুমার রায় বলেন, ৪ জেলায় (বরিশাল, পটুয়াখালী, গাজীপুর ও সাতক্ষীরা) আমরা প্রায় ১২ ব্যবসায়ী মিলে ৭০০ কেজি মাছের অর্ডার দিয়েছি। এই মাছ অবরোধের কারণে না আসলে এমনিতেই মাছের সংকট দেখা দেবে। যা মাছ আছে এই মাছের চাহিদা বেড়ে যাবে- দাম বৃদ্ধি পাবে। শীতকাল চলায় মাছের যোগান কিছুটা কম। তবে, অবরোধ চললে মাছ সংকটও দেখা দিতে পারে।



আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা -এর সর্বাধিক পঠিত