সিলেটে লবণ নিয়ে গুজবে উৎকণ্ঠা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

শেষের পাতা ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৬

পিয়াজের পর লবণ নিয়ে ‘হুলস্থূল’ সিলেটে। লবণের দাম চলে যাচ্ছে একশ’ টাকায়- এমন গুজবে দাম বাড়ার আশঙ্কায় দোকানে দোকানে ছুটতে থাকেন ক্রেতারা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব’ বলে প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির তরফ থেকে বার্তা পাঠালেও কোনো কাজ হয়নি। গতকাল বিকাল পর্যন্ত সিলেটে একের পর এক উপজেলায় লবণের জন্য দোকানে ছোটাছুটি করেন ক্রেতারা। পরে অবশ্য প্রশাসনের তরফ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনেন। বেশি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীদের করা হয়েছে জেল-জরিমানা। কোথাও  কোথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।
সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনও গুজবে কান না দিতে সবাইকে আহ্বান জানান। সোমবার সিলেটে পিয়াজ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে। টিসিবি’র বিক্রি করা পিয়াজ কিনতে হাজারো মানুষের ভিড় জমে সিলেটে। ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা। এমন খবরে সিলেটের মানুষ দিনভর বিচলিত ছিলেন। রাত হতেই আসতে থাকে উড়ো খবর। লবণের দাম চলে যাচ্ছে একশ’ টাকায়- এমন গুজবে ফের ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পিয়াজ নিয়ে যখন ক্রেতাদের নাভিশ্বাস অবস্থা তখন লবণের দাম বাড়ার খবরে ক্রেতারা ছুটতে থাকেন দোকানে দোকানে। আর এই খবরে সিলেটের উপজেলাগুলোতে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা হারে লবণের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থায় ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে গুজব। গুজবের সঙ্গে সঙ্গে সত্য বিষয়টি জানিয়ে বিষয়টিকে গুজব বলে জানিয়ে দেয় বিভিন্ন মহল। সিলেটের বিশ্বনাথে রীতিমতো       আতঙ্ক দেখা দেয়। ক্রেতারা লবণ কিনতে ভিড় করেন  দোকানে। তবে রাতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয় মাইকিং। বিষয়টিকে গুজব বলে প্রশাসনের প্রচারণার পর মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে। সিলেটের কানাইঘাটে লবণ নিয়ে গুজবের ডালপালা আগে মেলে। সীমান্তবর্তী ওই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ভিড় করে। এই খবরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বেশি দামে লবণ, পিয়াজ বিক্রির অভিযোগে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া জেলার ওসমানীনগর, কোম্পানীগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জসহ সবক’টি উপজেলা প্রশাসন এই গুজবের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। এ কারণে মধ্যরাতের পর লবণ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। সিলেট নগরীতে লবণ নিয়ে গুজবে মনিটরিংয়ে নেমেছে পুুলিশও। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লবণ যেন নির্ধারিত মূল্যের  চেয়ে বেশি দামে বিক্রি না হয় সেজন্য মনিটরিং করছে তারা। রাত ৯টার দিকে নগরীর কালিঘাট, বন্দরবাজার, মহাজনপট্টি, জিন্দাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় বন্দর বাজার ফাঁড়ি পুলিশ বাজার মনিটরিং করে। এ ব্যাপারে এএসআই সিরাজ জানান, গুজব ছড়িয়ে ব্যবসায়ীরা চড়া দামে লবণ বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। তারা বিভিন্ন দোকানে দোকানে ঘুরে লবণের দাম মনিটরিং করেন। এদিকে সিলেটে অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির দায়ে পাঁচটি দোকানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর কাজিটুলা, আম্বরখানা ও শাহী ঈদগাহর ৫টি দোকানে জরিমানা করা হয়। জরিমানা করা দোকানগুলো হচ্ছে, কাজীটুলা জনতা স্টোরকে ৩ হাজার, শাহী ঈদগাহ’র বেগম  স্টোরকে ৩ হাজার, ধানসিঁড়ি রুবেল স্টোরকে ২০ হাজার, আব্দুল্লাহ স্টোরকে ৭ হাজার ও আম্বরখানা ফরিদ স্টোরকে ৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া মূল্যতালিকা না থাকায় শাহপরাণ এলাকায় সাফা স্টোরকে ৪ হাজার টাকা ও অলক স্টোরকে  দেড় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ। এদিকে একই দিনে শাহপরাণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক  মো. জাহাঙ্গীর আলম। অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে দাম বৃদ্ধির বিষয়টি এখন থেকে প্রতিদিনই মনিটরিং করা হবে। যারাই বেশি দামে পণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওদিকে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের পাইকারি বাজার কালিঘাটে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় দুই ভ্যানভর্তি লবণ আটক করেছে তারা। পরে বাড়তি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, কালিঘাটে বাড়তি দামে লবণ বিক্রি হচ্ছে খবর পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি টিম অভিযান চালায়। এ সময় প্রায় ১ হাজার কেজি লবণভর্তি দুইটি ভ্যান জব্দ করা হয়। দুই ব্যবসায়ী প্রতি বস্তা লবণ নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৬৭ টাকা বেশিতে বিক্রি করছিলেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের জেল দেয়া হয়। ওই ব্যবসায়ী জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে মামলা নিষ্পত্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট সদর উপজেলার এসিল্যান্ড সুমন্ত ব্যানার্জি। জব্দকৃত লবণ সিলেট কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় বেশি দামে লবণ বিক্রি করায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটে যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ না নিতে পারে সে কারণে অভিযান চালানো হবে। মানুষ যাতে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। সোমবার রাতে লবণের দাম বাড়ার গুজবকে কেন্দ্র করে এই হুলস্থুলের প্রেক্ষিতে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। নিজের ফেসবুকে পুলিশ সুপার লিখেন- ‘প্রিয় সিলেটবাসী, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।  কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

আসামে কারফিউ শিথিল, নাগাল্যান্ডে ধর্মঘট

দ্বিতীয় দিনেও পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

কেরানীগঞ্জে আগুন

সাখাওয়াতের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সংগ্রাম সম্পাদক রিমান্ডে

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

সিলেটে ফের গ্রেপ্তার দু’জন

বোরকা পরে চুরি করে বেড়ায় সীমা ও শামীমা

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯





আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



কড়া নিরাপত্তা, এজলাসে সিসি ক্যামেরা

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল