এলডিপিতে পাল্টাপাল্টি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০১

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপিতে চলছে পাল্টাপাল্টি। দলটির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বে ২৬শে অক্টোবর কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে নাম না থাকা দুই নেতার নেতৃত্বে গতকাল পাল্টা একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও কর্নেল অলি আহমদ গতকালই সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, এলডিপির  আইনগত কর্তৃত্ব কেবল তারই। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি ঘোষণা করেন এলডিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। সাত সদস্যের এই সমন্বয়ক কমিটিতে আবদুল করিম আব্বাসীকে সভাপতি এবং শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের রোষানলে পড়ে কারাবন্দি রয়েছেন। তাকে মুক্ত করার জন্য যখন দল-মত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ার দরকার, তখন নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার জন্য একটি পক্ষ তৎপর হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে কর্নেল অলি সাহেব তার এক বক্তব্যে পুরো বিএনপির নেতৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

তার এই বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় এবং তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকায় বিএনপির নেতৃত্ব নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন।
একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যেখানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রয়াস চালাবেন সেখানে জোটের মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য জাতীয় মুক্তি মঞ্চ তৈরি করেছেন। শুরুতে মুক্তি মঞ্চকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম বলা হলেও ধীরে ধীরে তা জিয়া পরিবার আর বিএনপির বিষোদগার করার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিতর্কিত আর দুর্বল করার চেষ্টা ষড়যন্ত্র শুরু করে, যা আমাদের মতো জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় কোন দলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানো আমাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে।

সেলিম আরো বলেন, আমরা অঙ্গীকার করছি দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকদের দুর্দিনে দেশ প্রেমিক হিসেবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে আরও বলিষ্ঠভাবে অংশগ্রহণ করবো। একইসঙ্গে সারাদেশে এলডিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অচিরেই একটি কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবো। শাহাদাত হোসেন সেলিম আরও বলেন, বিএনপির ভেঙে এলডিপি গঠন করে যে পাপ করেছি তার প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। এক প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যদি আমাদের আমন্ত্রণ জানায় তাহলে আমরা এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যুক্ত হবো।
এদিকে, গতকাল বিকালে প্রেসক্লাবের একই হলরুমে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ আয়োজিত ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার’ প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, গত ১২ বছর যাবত আমি এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেছি। তারা ছিল আমার দলের সদস্য সন্তান সমতুল্য।

তাদের বিরুদ্ধে কথা বলাটা অশোভনীয়। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন মন্তব্য নাই। কোন নেতাকে দল থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। সে সব সময় নিজেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে লিখতেন। আমাদের গঠনতন্ত্রে কোনো সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ নাই। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর প্রোগ্রাম হয়েছে ২৬শে অক্টোবর। সেই প্রোগ্রামে তারা উপস্থিত ছিল না এবং তারা আমার দলের সদস্য না। আর কেউ যদি তার বাপের নাম বাদ দিয়ে আমার নামে পরিচিত হতে চায়, তাতে আমার কোন অসুবিধা নাই। এলডিপি আমার নামে নিবন্ধন করেছি। এটি এক নম্বর রাজনৈতিক নিবন্ধিত দল। সুতরাং এলডিপি অন্য কারো আইনগতভাবে নেয়ার অধিকার নেই। গত ৯ই নভেম্বর কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে সভাপতি এবং ডক্টর রেদোয়ান আহমেদকে মহাসচিব করে এলডিপি’র নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি থেকে বাদ পড়েন দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এলডিপি।



আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা -এর সর্বাধিক পঠিত