ভীতির পরিবেশ, অবিশ্বাসই ভারতের শ্লথ অর্থনীতির কারণ

দেশ বিদেশ

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৪
ভীতির পরিবেশ, অবিশ্বাস এবং মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাবই ভারতের শ্লথ অর্থনীতির অন্যতম কারণ বলে বর্ণনা করেছেন। সোমবার দ্য হিন্দু পত্রিকায় এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিং এমনটা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের শিল্পপতি এবং উদ্যোগ পতিদের প্রতি গভীর সন্দেহের কারণেই দেশের অর্থনৈতিক গতি শ্লথ হয়েছে এবং সামাজিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। তাই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মন থেকে গভীর সন্দেহ দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন। ‘ভারতের অর্থনৈতিক অস্থিরতার উৎস’ শীর্ষক নিবন্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, গভীর অবিশ্বাসের বিষাক্ত সমন্বয়, ব্যাপক ভীতি এবং আমাদের সমাজে আশাহত হওয়ার মানসিকতা আর্থিক কার্যকারিতার কণ্ঠরোধ করছে এবং যার কারণে আর্থিক গতিও শ্লথ হয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে আবেদন করব, শিল্পপতি ও উদ্যোগ পতিদের থেকে সন্দেহ দূরে রাখতে এবং আমাদের মধ্যে বিশ্বাস ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বাসী সমাজ তৈরি করতে হবে, যাতে আমরা স্বাভাবিক প্রফুল্লতা ফিরে পাই এবং আর্থিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারি। মনমোহন সিংয়ের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ার কারণ ১৫ বছরের সর্বনিম্ন জিডিপি, ৪৫ বছরে সর্বাধিক কর্মহীনতা, চার দশকে পারিবারিক খরচ সর্বনিম্ন হওয়া, অনৈতিক ঋণ এবং ১৫ বছরে সবচেয়ে কম বিদ্যুতের ব্যবহার।
তিনি মনে করেন, এগুলো অর্থনীতির অধোগতির প্রকাশ মাত্র। মনমোহন সিং লিখেছেন, সমাজের বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাসের কাঠামো ছিন্ন হয়েছে এবং ভেঙে পড়েছে। তার কথায়, সমাজে প্রতীয়মান ভয়ের আবহাওয়া রয়েছে। এগুলোর কারণ মোদি সরকারের অন্যভাবে প্রমাণিত না হলেও বিশ্বাসঘাতক নীতির ফল। তিনি জানিয়েছেন, অনেক শিল্পপতিই তাকে বলেছেন, সরকারি সংস্থার হেনস্তার ভয় রয়েছে তাদের। নতুন ঋণ দিতে অনিচ্ছুক ব্যাঙ্কাররা। নতুন প্রকল্প আনতে ইতস্তত করছেন উদ্যোগ পতিরা, ভবিষ্যতের ভয়ে তারা এগুলো করছেন। প্রযুক্তির স্টার্ট-আপ, আর্থিক বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের একটি নতুন দিশা, সেটিও লাগাতার নজরদারিতে এবং গভীর সন্দেহের আবহাওয়ায় রয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারকরা সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন অথবা বুদ্ধিদীপ্তভাবে সৎ নীতির আলোচনায় যুক্ত থাকছেন। এই গভীর ভীতি এবং অবিশ্বাস, যারা আর্থিক বৃদ্ধির অংশ তাদের মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেছেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন যা তা হলো, ঋণ দিতে অক্ষম ব্যাঙ্কার, বিনিয়োগে অক্ষম শিল্পপতি, কাজ করতে অক্ষম নীতি নির্ধারক অর্থনৈতিক উন্নতিকে থামিয়ে দিয়েছে। নোট বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, নোট বাতিল কোনো ফলপ্রসূ সঠিক ভাবনাচিন্তার ফসল নয়। মনমোহন সিং জানিয়েছেন, সবাইকে খারাপ ভাবা এবং ভালো-বনাম খারাপের সরকারি নীতি ভালো আর্থিক বৃদ্ধির উপকরণ হতে পারে না। চাহিদা খারাপ থাকলে এবং তার সঙ্গে ব্যাপক কর্মহীনতা থাকলে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। চীনের আর্থিক মন্দার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেটির সুযোগ নিয়ে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে বলেছেন।



 




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অপহরণের ৫দিন পর মিললো শিশুর লাশ

তামিলদেরও নাগরিকত্ব বিলে আনার আহ্বান

নাগরিকত্ব বিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য

‘সুচির আত্মপক্ষ সর্মথনের সুযোগ আছে বলে মনে হয় না’

কলকাতার বাজারে পদ্মার ইলিশ কিনলে পেঁয়াজ ফ্রি

বৃটিশ নির্বাচনে বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মুসলিম প্রার্থীদের রেকর্ড

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, স্কুল কর্মচারি গ্রেপ্তার

আবেগি চিরকুট লিখে বিষপান, অধ্যক্ষের কক্ষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো নূপুর

আনোয়ারের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবো: মাহাথির

‘সব মিলিয়ে পছন্দ হলে সামনে জানাবো’

নিউজার্সিতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৬

সেনা প্রধানসহ মিয়ানমারের ৪ কর্মকর্তার ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

গণহত্যায় রক্তস্রোত বয়ে গেছে

আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে

জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহারের মত হাইকোর্টের

নৃশংসতার মুখপাত্র