অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে সব রাষ্ট্রের সহায়তার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৯

বিদেশে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ সমস্যা প্রতিরোধে বিশ্বের অন্য রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৯-২০২১’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ আহ্বান জানান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন নিয়ে আমরাও সমস্যায় আছি। তবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব সমস্যা একা সমাধান করা যাবে না।
সব রাষ্ট্রের সহায়তা লাগবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার মতো অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের একটি দেশে ধর্মীয় মূল্যবোধ ব্যবহার করে প্রবাসীদের থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই টাকা বাংলাদেশে জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদ উসকে দেয়ার জন্য পাঠানো হয়। আমরা শতচেষ্টার পরও দেশটিকে বিষয়টি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। সমপ্রতি দেশটি নিজেই এ সমস্যায় পড়ে বিষয়টি উপলব্ধি করেছে। পশ্চিমা দেশটির এ উপলব্ধি আগে হলে আমরা অনেক ক্ষতি সামাল দিতে পারতাম। এ জন্য অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সব রাষ্ট্রের সহায়তা প্রয়োজন। আমি আশা করি, বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো বুঝবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এসব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কিছু সফলতার গল্পও আছে। একইভাবে সিঙ্গাপুরেও টাকা সংগ্রহ করে বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়নের চেষ্টা করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সে সমস্যার সমাধান করা গেছে। ফলে সিঙ্গাপুরে থাকা এক লাখ বাঙালি এসব থেকে সরে এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্তকরণের জন্য দুদক বিএফআইইউ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সহযোগিতায় তিনবার ন্যাশনাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করেছে। এই অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দুর্নীতিকেই মানিলন্ডারিংয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থপাচার এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সাল থেকে কমিশন ১৬৫টি ব্যাংক হিসাবে ২০১.৭৭ মিলিয়ন টাকা জব্দ করেছে। একই সময়ে ২১টি ভবন/বাড়ি, ২৪টি ফ্ল্যাট, ৭৭ একর জমি, ৫টি বিলাসবহুল গাড়িও ক্রোক করা হয়েছে। এছাড়াও দুদকের মানিলন্ডারিং মামলায় ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্তকৃত ৫,৮৪৫.৯৫ মিলিয়ন (৫৮৪.৪৬ কোটি) টাকা মূল্যের সম্পদ পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়া, মিউচুয়াল লিগ্যাল রিকোয়েস্ট অ্যাসিসটেন্সের মাধ্যমে দুটি মানিলন্ডারিং মামলায় ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার এবং ০.৮০ মিলিয়ন বৃটিশ পাউন্ড যথাক্রমে হংকং ও বৃটেনে জব্দ করা হয়েছে। এই অর্থ পুনরুদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগেও ২.০৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার এবং ০.৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুনরুদ্ধার করে দেশে আনা হয়েছে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিএফআইইউ কখনও কখনও একই রিপোর্ট একাধিক এজেন্সিকে দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একই অভিযোগ একাধিক সংস্থা তদন্ত করলে ভুল বোঝাবুঝির যেমন সৃষ্টি হতে পারে তেমনি সময় ও কর্মঘণ্টার অপচয়ও হয়। ফলে, সার্বিকভাবে মানিলন্ডারিং বিরোধী তৎপরতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, দুদক বিশ্বাস করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং হয় বাণিজ্য কার্য প্রক্রিয়ায় ট্রেড বেইজড মানিলন্ডারিং)। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি সহ বিভিন্নসংস্থার বৈশ্বিক সূচকে দেখা যায়, প্রায় শতকরা আশি ভাগ মানিলন্ডারিং হয় বাণিজ্য কর্ম প্রক্রিয়ায়। এ কারণে দুদক যৌথ একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে তদন্তকে স্বাগত জানায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। সেমিনারে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৯-২০২১ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান।



আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা -এর সর্বাধিক পঠিত



কড়া নিরাপত্তা, এজলাসে সিসি ক্যামেরা

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল

বিএনপি’র গোলটেবিল বৈঠকে তথ্য

ভিন্নমতের কারণে ১০ বছরে নিহত ১৫২৫, গুম ৭৮১