পিয়াজের বিকল্প হতে পারে চিভ

অনলাইন

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রোববার, ১:৩৮ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৩
ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর থেকে পিয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। দফায় দফায় দাম কয়েকগুণ বেড়ে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত ওঠেছে। পিয়াজের দাম যখন লাগামহীন, তখন এর বিকল্প হিসেবে চিভ নামে পাতাজাতীয় এক ধরনের মসলা ব্যবহারের কথা ওঠে আসছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এই মসলা জাতীয় ফসল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সারা বছর ধরেই এটি চাষাবাদ ও ব্যবহার করা যাবে। আর তাতে করে পিয়াজের ওপরও চাপ কমে যাওয়ার সম্ভবণা রয়েছে।

গাজীপুর অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মু. শহীদুজ্জামান চিভ সম্পর্কে বলছেন, এর স্বাদ পুরোপুরি না হলেও অনেকটা পিয়াজের মতো। তবে এটিতে পিয়াজের মতো গুটি বা দানা হয় না। শুধু পাতা জাতীয় ফসল।
মাটির ওপরের অংশই খাওয়া যায়। এর চারা লাগানোর ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। বছরে ৪-৫ বার তা উত্তোলন করা সম্ভব। এর পাতা, কাণ্ড ও কাঁচা ফুল মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ মসলার চাষযোগ্য উচ্চফলনশীল জাত বারি চিভ-১ জাত ইতিমধ্যেই অবমুক্ত করা হয়েছে।

মশলা বিভাগের অপর একজন বিজ্ঞানী ড. রুম্মান আরা জানান, তিনি নিজেও এটি তরকারীতে ব্যবহার করেছেন। এর স্বাদ ও গন্ধ অনেকটা পিয়াজ ও রসুনের মতো। এর অনেক গুণাগুণ আছে। স্যুপ, সালাদ, তরকারি ও চাইনিজ এর ভেজিটেবল আইটেমে এটি ব্যবহার করা যায়।

এটি এখন একটা সম্প্রসারণ পর্যায়ে রয়েছে। খুবই সহজে এবং তুলনামূলক কম খরচে এটি চাষাবাদের যোগ্য। একবার পাতা-কাণ্ড কেটে নিলে আবার গজায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবেও চাষ করা যায়। দেশের সব অঞ্চলের উঁচু জায়গায় এটি চাষাবাদ সম্ভব বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক  ড. আবুল কালাম আযাদ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ বলেন, পিয়াজের বিকল্প হিসেবে এই চিভস জাতের অবমুক্ত করা হয়েছে ২০১৭ সালে। এটা ব্যবহার করে পিয়াজের চাহিদা অনেকটা কমানো সম্ভব। এর উৎপাদনও অনেক সহজ। চিভের গুণাগুণ হলো, এটা হজমে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া এতে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাগুণ রয়েছে। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান। এর পাতা লিনিয়ার আকৃতির, ফ্লাট, কিনারা মসৃণ, বাল্ব লম্বাটে। এটি সাধারণত উৎপাদিত হয়ে থাকে সাইবেরিয়া-মঙ্গোলিয়া ও নর্থ-চায়না অঞ্চলে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mustafa Tahseen Arsh

২০১৯-১১-১৮ ১৮:৫২:৪৫

এটাকে চিভ না চাইভ বলা হয়। খুব সু স্বাধু। কম জায়গায় অনেক ফসল হয়।

P C Das

২০১৯-১১-১৭ ০৬:৪৪:২১

Pauajabe kothai chara or bij

Mollah Nurul Islam

২০১৯-১১-১৭ ০১:১০:৩০

প্রথমেই সম্মানিত বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানাই। এই পাতা ঐসমস্ত দেশে কী কাজে ব্যবহার হয় জানাবেন। এই গাছ কীভাবে পেতে পারি চাষ করার জন্য। জানাবেন দয়া করে। পিয়াচ আর খাবোনা।

নূর মোহাম্মদ

২০১৯-১১-১৭ ০১:০১:১৩

এত গুনা গুন ওয়ালা বস্তু টির প্রচার হলনা কেন ?

আপনার মতামত দিন

উল্লাপাড়ায় গৃহবধূর চুল কেটে দেয়া মামলার প্রধান আসামী জেলে

চেক প্রজাতন্ত্রে হাসপাতলে গুলিতে ৪ হত্যা

জয় বাংলা স্লোগান আমাদের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্ক: হাইকোর্ট

হেগে রোহিঙ্গা নারীর ক্ষোভ

‘গাম্বিয়া গাম্বিয়া’ স্লোগানে মুখর রোহিঙ্গা ক্যাম্প

সুপ্রিম কোর্টের এফিডেভিট শাখার তদারকিতে দুই কর্মকর্তা

অপরাধী হলে শাস্তি পেতেই হবে

মানবতাবিরোধী অপরাধ: টিপু সুলতানের রায় বুধবার

নারায়ণগঞ্জে নারী শ্রমিককে গণধর্ষণ, আটক ৪

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে উত্তাল উত্তর-পূর্ব ভারত

আমরা একটি ফেয়ার এন্ড ভ্যালেন্সড সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই

দেশে আজ মানবাধিকার বলতে কিছুই নেই: ফখরুল

মুসলিমদের বাদ রেখে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে ভারতে বিতর্ক, বিক্ষোভ, ধর্মঘট

শহীদ মিনারে অজয় রায়কে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা, মরদেহ দেয়া হবে বারডেমে

আবারও মিয়ানমারের পাশে থাকার অঙ্গীকার চীনের

ময়মনসিংহে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগ