গণআন্দোলনের কাছে হেরে গেল চিলি সরকার

মানবজমিন ডেস্ক

এক্সক্লুসিভ ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৯

কয়েক সপ্তাহব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গণভোটের ঘোষণা দিয়েছে চিলি। আন্দোলনকারীরা দেশটিতে সামাজিক সংস্কার ও এর সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তোলে। দেশটির সংবিধান সাবেক স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোচেটের আমলে রচিত হয়েছিল। বর্তমানে এ সংবিধানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশব্যাপী সাম্যতা নিশ্চিতের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে লাতিন আমেরিকার দেশটি। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে ওই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে এখন পর্যন্ত সেখানে নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বামপন্থি সংগঠনগুলো প্রথমে আন্দোলনের ডাক দেয়।
এরপর সে আন্দোলন বড় হতে হতে রাজধানী সান্তিয়াগোতে জড়ো হয় ১০ লক্ষাধিক মানুষ।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ দর কষাকষির পর নতুন সংবিধান ও শান্তির লক্ষ্যে সমঝোতায় রাজি হয় সরকার। গণভোটে প্রশ্ন করা হবে দেশের মানুষ এই নতুন সংস্কার চায় কিনা। দেশটির বর্তমান সংবিধানে দেশের মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর অর্পিত হয়নি। আন্দোলনকারীরা বিশেষ করে এই দুই খাতে সাম্যতা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন। গত এক মাসে চিলিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটেছে দেশব্যাপী দাঙ্গা, হামলা ও লুটপাটও। দেশটিতে এ নিয়ে ১৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ কর্তৃক খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগও।

অভিনব প্রতিবাদ: গত বৃহসপতিবার চিলির সংগীত তারকা মোন লাফেরতে চিলিতে চলমান অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে অভিনব ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান লাতিন গ্রামি অ্যাওয়ার্ডে তিনি তার বক্ষ উন্মুক্ত করে এর প্রতিবাদ জানান। সেখানে লেখা ছিল, চিলিতে সরকার নির্যাতন, ধর্ষণ ও মানুষ হত্যা করছে। লাল কার্পেটে হাঁটতে হাঁটতে এমন সাহসী প্রতিবাদ ইতিমধ্যে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। প্রথম থেকেই তিনি দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন। লাতিন আমেরিকার গুটিকয়েক শিল্পীর মধ্যে তিনি একজন যারা মহাদেশটিতে চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন।



আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ -এর সর্বাধিক পঠিত



লেবার পার্টি সরকার গঠন করবে

বৈষম্য দেখতে চাই না

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট

নাগরিকত্ব বিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য