ক্ষুদ্র ঋণে দারিদ্র্য লালন-পালন হয়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:১৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্যবিমোচনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, কেউ কেউ এর প্রবক্তা হিসেবে নাম-যশ কামালেও বাস্তবতা হচ্ছে দেশের জনগণ এর অতটা সুফল পায়নি। এক সময় আমরা দেখেছি ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে (কর্মসূচি) কেউ কেউ খুব বাহবা নেয়ার চেষ্টা করেছেন। এক সময় আমরাও এটাকে সমর্থন দিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম যে এর মাধ্যমে বুঝি মানুষ দরিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবে। কিন্তু যখন আমরা বিষয়টা আরো গভীরভাবে দেখলাম, তাতে দেখলাম, আসলে এর মাধ্যমে দারিদ্র ঠিক বিমোচন হয় না। দারিদ্র লালন-পালন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘উন্নয়নমেলা ২০১৯’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং পিকেএসএফ’র বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সমপ্রসারণে সাত দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ঋণটা স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা শুরু করেছিলেন।
যদিও আমাদের দেশে কেউ কেউ ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা সেজে বিশ্বে ভাল নাম টামও করে ফেলেছেন। কিন্তু দেখা গেছে হয়তো নিজে যতটা নাম কামিয়েছেন দেশের মানুষ ততটা শুভফল পায়নি, এটা হলো বাস্তব।

জাতির পিতা বিআরডিবি’র মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া শুরু করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষকে কিভাবে সমবায়ের মাধ্যম একত্রিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করে তাদেরকে কিভাবে দারিদ্রসীমা থেকে বের করে আনবেন সেই পরিকল্পনাটাই জাতির পিতা নিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উদ্বোধনী পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মইনুদ্দিন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কৃষকদের কল্যাণ ও দারিদ্র নিরসন এবং কৃষির উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মাননা স্মারক মতিয়া চৌধুরীর হাতে তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে একটি সম্মাননাপত্র,ক্রেস্ট এবং ৫০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। গ্রামীণ এলাকা থেকে পিকেএসএফ’র সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সেবামুখী সংগঠনসহ ১৩০টি সংস্থার মোট ১৯০টিরও বেশি স্টল মেলায় স্থান পেয়েছে। মেলায় রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কৃষি, খাদ্য এবং প্রচলিত পণ্য। এছাড়া, ৭ দিনে ৫টি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে মেলায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। কাজেই সব সময় জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়াই দলটির কাজ। যার প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্যই হচ্ছে, টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি’র বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, যখন মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় থাকে তখন সরকার থাকে দুর্বল। কেননা তাদের কোন ভিত্তি থাকে না। অর্থাৎ জনগণের কোন শক্তি থাকে না। সে সরকার ব্যবস্থা অপরের কাছে হাত পেতে চলে, নিজেদের সম্পদশালী করে গড়ে তোলে, ফলে দেশের মানুষ দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণায় দিনের পর দিন ভুগতেই থাকে। জনগণের দিকে তাকানোর কেউ থাকে না, বলেন তিনি। জাতির পিতার এই পদাংক অনুসরণ করে গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের চালু করা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির বিভিন্ন কর্মসূচি, যেমন- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ততা ভাতা চালু, গরিবদের মাঝে খাদ্য বিতরণ, কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে এবং স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মত কর্মসূচির উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার নির্দেশ ছিল কৃষি ব্যাংক গ্রামে কৃষকদের কাছে চলে যাবে। হাটবারে গ্রামের হাটে বসে ঋণ প্রদান করবে এবং সেখান থেকেই আবার ঋণ সংগ্রহ করবে। এভাবেই আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করেছি। ‘ঘরেফেরা’, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’, ‘আশ্রায়ণ’সহ বিভিন্ন দারিদ্রবান্ধব কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য সরকার এ ধরনের বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, আমরা ভূমিহীনদের জমি দিয়েছি। যারা গৃহহারা তাদের ঘর করে দিয়েছি এবং দিচ্ছি। মানুষ যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। ‘জাতির পিতা একটি কথা বলতেন- ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না। আমরা ভিক্ষুক জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। সরকারের গৃহিত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ফলে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে উল্লেখ করে এই হারকে ১৫/১৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায় তার সরকার। সরকারের সময়ে দেশের অভূতপূর্ব আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বহিঃর্বিশ্বে অনেক অনুসন্ধিৎসু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন দেশে গেলে আমাকে প্রশ্ন করা হয়- বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ম্যাজিকটা কি? আমি তাদের বলি, আসলে কোনো ম্যাজিক নেই। দেশকে ভালোবাসা, দেশকে জানা এবং দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করা- এটাই হলো মূল ম্যাজিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর কেউ অবহেলার চোখে দেখে না। বাংলাদেশ এখন অনেকের কাছেই ‘উন্নয়নের বিস্ময়,’ উন্নয়নশীল এক দেশ।

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

স র জ মি ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় কেউ ভালো নেই

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

রুম্পার মৃত্যু

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মেলেনি

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ব্যাংক কমিশন গঠন

অগ্রগতির খবর নেই

১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ

কারাগারে থেকেও দুই ছাত্রদল নেতা মামলার আসামি

১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আদালতে চোখ ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের

কত রক্ত বইলে তাকে গণহত্যা বলা যায়

১৩ ডিসেম্বর ২০১৯





আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত